বিকৃত যৌন চাহিদা ছিল রুহুলের, বাদ যাননি বউ-শ্যালিকা-শাশুড়িও

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২১,   আশ্বিন ১ ১৪২৮,   ০৭ সফর ১৪৪৩

বিকৃত যৌন চাহিদা ছিল রুহুলের, বাদ যাননি বউ-শ্যালিকা-শাশুড়িও

গাইবান্ধা প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৯:০৪ ২৭ জুলাই ২০২১  

রুহুল আমিন সরকার ওরফে আপেল

রুহুল আমিন সরকার ওরফে আপেল

শ্বশুরবাড়িতে প্রায়ই যাতায়াত করতেন রুহুল আমিন সরকার ওরফে আপেল। এর মধ্যেই একদিন গোপনে শাশুড়ির গোসলের ভিডিও মুঠোফোনে ধারণ করেন জামাই। আপত্তিকর সেই ভিডিও ছড়ানোর ভয় দেখিয়ে শাশুড়িকে ধর্ষণ করেন রুহুল। তাও আবার টানা তিন বছর।

বিকৃত যৌন চাহিদা থাকার কারণে নিজের স্ত্রীকেও ছাড়েননি রুহুল আমিন সরকার ওরফে আপেল। কালো কাপড় দিয়ে স্ত্রীর মুখ বেঁধে নগ্ন করে ভিডিও-ছবি ধারণ করেন। এরপর সেগুলো পাঠাতেন শাশুড়ির কাছে। মাঝে মধ্যে শাশুড়িকে ভিডিও কলে রেখেই মেয়েকে মারধর ও নির্যাতন করতেন জামাই।

এখানেই শেষ নয়, বিভিন্ন কৌশলে শ্যালিকাকেও ধর্ষণের চেষ্টা চালান রুহুল। ধর্ষণের ছবি-ভিডিও ধারণ করে ছড়িয়ে দেন ফেসবুকেও। টানা তিন বছর ধরেই বউ-শাশুড়ি-শ্যালিকার সঙ্গে বিকৃত যৌনাচার করছিলেন রুহুল। অবশেষে র‌্যাবের জালে আটকা পড়েছেন জামাই নামক এ লম্পট।

ঘটনাটি গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের। গতকাল সোমবার বিকেলে রুহুল আমিনকে গোবিন্দগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। এরপর তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক।

এর আগে, রোববার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কাটাখালি বালুয়া বাজারের মুক্তিযোদ্ধা ময়েজ উদ্দিন সুপার মার্কেট থেকে রুহুলকে গ্রেফতার করে র‌্যাব-১৩। এ সময় তার কাছ থেকে ধারণ করা অশ্লীল ভিডিও ও স্থির চিত্রসহ মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করা হয়। সোমবার রুহুলকে গোবিন্দগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করেন র‌্যাব সদস্যরা।

জানা গেছে, রুহুল আমিন সরকার আপেলের শ্বশুরবাড়ি উপজেলার হরিরামপুর ইউনিয়নের রামপুরা গ্রামে। স্ত্রীকে নিজ বাড়িতে রেখে প্রায়ই শ্বশুরবাড়িতে যেতেন তিনি। এর মধ্যে একদিন জামাই আসার আগে গোসলে যান শাশুড়ি। এ সুযোগে শাশুড়ির গোসলের ভিডিও নিজের মুঠোফোনে ধারণ করেন রুহুল। পরে ভিডিওটি ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে শাশুড়ির সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করেন। এরপর ২০১৮ সাল থেকে চলতি বছরের ৭ জুলাই পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে শাশুড়িকে ধর্ষণ করেন লম্পট জামাই।

এছাড়া শ্যালিকার সঙ্গেও শারীরিক সম্পর্ক করতে বিভিন্ন ফাঁদ পাতেন রুহুল। একপর্যায়ে গাইবান্ধার পলাশপাড়ার বাসায় ও গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার তালুক কানুপুর ইউনিয়নের সমসপাড়ায় নিজের ফুফাতো বোনের বাড়িতে নিয়ে শ্যালিকাকে ধর্ষণের চেষ্টা চালান। এছাড়া ধর্ষণচেষ্টার ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে দেন।

প্রায় তিন বছর ধরে রুহুল আমিনের বিকৃত যৌনাচারের বিষয়টি সীমা ছাড়িয়ে গেলে রংপুর র‌্যাব-১৩ ক্যাম্পে অভিযোগ করেন মা-মেয়ে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে গত রোববার রুহুলকে গ্রেফতার করে র‌্যাব।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আরিফুল ইসলাম জানান, রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে করা দুই মামলায় পাঁচদিনের রিমান্ড আবেদনসহ আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয় আদালত। এছাড়া রিমান্ড শুনানির জন্য পরবর্তী দিন ধার্য করা হয়।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর