শাশুড়ি-শ্যালিকাকে ধর্ষণ: জামাই গ্রেফতার

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১,   আশ্বিন ৯ ১৪২৮,   ১৪ সফর ১৪৪৩

শাশুড়ি-শ্যালিকাকে ধর্ষণ: জামাই গ্রেফতার

গাইবান্ধা প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৬:৪২ ২৭ জুলাই ২০২১   আপডেট: ১৭:৫৪ ২৭ জুলাই ২০২১

গ্রেফতারকৃত রুহুল আমিন সরকার আপেল

গ্রেফতারকৃত রুহুল আমিন সরকার আপেল

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে মেয়ের জামাইয়ের বিরুদ্ধে শাশুড়ি ও শ্যালিকাকে টানা তিন বছর ধর্ষণ, ভিডিও ধারণ ও ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে জামাইকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। 

গ্রেফতারকৃত রুহুল আমিন সরকার আপেল গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার তালুক কানুপুর ইউনিয়নের সমসপাড়া গ্রামের আব্দুল মজিদের ছেলে।

শাশুড়ি ও শ্যালিকার দায়ের কৃত অভিযোগের প্রেক্ষিতে ২৬ জুলাই সোমবার র‌্যাব-১৩ গাইবান্ধা ক্যাম্পের সদস্যরা তাকে আটক করে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ থানায় সোপর্দ করে। 

গ্রেপ্তার রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে ভুক্তভোগী মা-মেয়ে বাদী হয়ে গোবিন্দঘ্হ থানায় পৃথক দুটি মামলা করেছেন। দায়ের হওয়া দুটি মামলায় সোমবার বিকেলে রুহুল আমিনকে গোবিন্দগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। বিষয়টি গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত গোপনীয়তা রক্ষা করা হয়। বিভিন্ন মহল থেকে সংবাদটি প্রচার না করার জন্য উপজেলা পর্যায়ের সাংবাদিকদের জানানো হয়।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার হরিরামপুর ইউনিয়নের রামপুরা গ্রামে রুহুল আমিন সরকার আপেল তার শ্বশুরবাড়িতে প্রায়ই যাতায়াত করতেন। এরমাঝে শাশুড়ির গোসলরত আপত্তিকর ছবি মোবাইল ফোনে ধারণ করেন জামাই রুহুল আমিন। পরে ধারণকৃত ওই ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে শাশুড়ির সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করে। এ ভিডিও গোপনে ধারণ করে রুহুল আমিন। এরপর গত ২০১৮ সাল থেকে ৭ জুলাই ২০২১ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সময় রুহুল আমিন ইচ্ছার বিরুদ্ধে তার শাশুড়িকে জোর পূর্বক ধর্ষণ করে। 

অভিযোগে আরো বলা হয়েছে রুহুল আমিন তার স্ত্রীকে কালো কাপড় দিয়ে মুখ বেঁধে নগ্ন করে ছবি তুলে শাশুড়ির মোবাইল ফোনে পাঠাতো এবং ফোনকলে রেখে মেয়েকে মারধর ও নির্যাতন করতো। 

অন্যদিকে, রুহুল আমিন তার নিজ শ্যালিকার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করতে বিভিন্ন রকমের কৌশল অবলম্বন করে। রুহুল আমিন তার শ্যালিকাকে গাইবান্ধার পলাশপাড়ার বাসায় ও গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার তালুক কানুপুর ইউনিয়নের সমসপাড়ায় তার ফুফাতো বোনের বাড়িতে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। এছাড়া শ্যালিকার ধর্ষণ চেষ্টার ছবি ও অশ্লীল ছবি ফেসবুকে প্রকাশ করে। 

প্রায় তিন বছর ধরে রুহুল আমিনের বিকৃত রুচির যৌনাচারের বিষয়টি সীমা ছাড়িয়ে গেলে মা-মেয়ে রংপুর র‌্যাব-১৩ ক্যাম্পের অভিযোগ করেন। এরই প্রেক্ষিতে র‌্যাব সদস্যরা গত রোববার রুহুল আমিন সরকার আপেলকে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কাটাখালি বালুয়া বাজারের মুক্তিযোদ্ধা ময়েজ উদ্দিন সুপার মার্কেট থেকে গ্রেফতার করে। এ সময় তার কাছ থেকে মোবাইলে ধারণকৃত অশ্লীল ভিডিও ও স্থির চিত্রসহ মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করা হয়।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আরিফুল ইসলাম জানান, আসামী রুহুল আমিনের পৃথক দুই মামলায় ৫ দিনের রিমান্ড আবেদনসহ আদালতে উপস্থিত করা হয়। এ সময় আদালত তাকে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন এবং রিমান্ড শুনানির জন্য পরবর্তী দিন ধার্য করেন।\

গোবিন্দগঞ্জ থানার ওসি মেহেদী হাসানের সঙ্গে যোগাযোগ করে ধর্ষকের ছবি ও তথ্য চাওয়া হলে তিনি বলেন, মা-মেয়ে বলে গেছে এটা একান্ত পরিবারের বিষয়। এসব সাংবাদিকদের যেন দেওয়া না হয়। 

ওসি আরো বলেন, তাদের অনুরোধের কারণে তাই আমাদের পক্ষ থেকে কোন কিছু আপনাদের দেওয়া সম্ভব নয়। 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএস/এআর