২৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবির ঘটনায় এসআই বরখাস্ত

ঢাকা, রোববার   ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১,   আশ্বিন ৪ ১৪২৮,   ১০ সফর ১৪৪৩

২৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবির ঘটনায় এসআই বরখাস্ত

বগুড়া প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ০০:৩২ ২৬ জুলাই ২০২১  

ইন্সপেক্টর এমরান মাহমুদ ও বরখাস্তকৃত এসআই শওকত আলম (ছবি: সংগৃহীত)

ইন্সপেক্টর এমরান মাহমুদ ও বরখাস্তকৃত এসআই শওকত আলম (ছবি: সংগৃহীত)

বগুড়ায় ব্যবসায়ীকে মিথ্যা মামলায় জড়ানোর ভয় দেখিয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের এসআই শওকত হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় গতকাল শনিবার রাতে এসআই শওকত হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত এবং জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক এমরান মাহমুদ তুহিনসহ আরেক পুলিশ কর্মকর্তাকে রাজশাহী রেঞ্জ অফিসে সংযুক্ত করা হয়েছে। এ বিষয়ে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আলী হায়দার চৌধুরীকে তদন্ত কমিটির প্রধান করা হয়েছে।

রোববার বগুড়া জেলা পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভূঞা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ২৭ মে বগুড়া সদর উপজেলার শিকারপুর এলাকায় মাস্টার বিড়ির ফ্যাক্টরিতে যান অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যরা। তারা অভিযোগ তোলেন, ওই ফ্যাক্টরিতে বিপুল পরিমাণ জাল ব্যান্ডরোল মজুদ আছে। এমন অভিযোগে তারা মাস্টার বিড়ির স্বত্বাধিকারী হেলালের কাছে দুই কোটি টাকা দাবি করেন। টাকা না দিলে তার বিরুদ্ধে মামলা করা হবে বলে ব্যবসায়ী হেলালকে ভয় দেখায় পুলিশ কর্মকর্তারা।

পুলিশ কর্মকর্তারা আরও জানান, এই বিষয়টি এসপি স্যার নিজেও জানেন। একপর্যায়ে ব্যবসায়ীর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে ২৫ লাখ টাকা চুক্তি হয় তাদের। এরমধ্যে ৯ লাখ টাকা ওই দিনই পুলিশ কর্মকর্তাদের দেন ব্যবসায়ী হেলাল। বাকি ১৫ লাখ টাকার জন্য এক সপ্তাহের সময় দেয়া হয়। কিন্তু সময় পার হলেও টাকা দিচ্ছিলেন না ব্যবসায়ী হেলাল। এরমধ্যেই ১১ জুলাই বগুড়ার এসপি আলী আশরাফ ভুঞার বদলির আদেশ হয়।

পুলিশ জানায়, অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তারা ব্যবসায়ী হেলালকে বলেন, এসপি স্যার চলে যাচ্ছেন তাকে টাকা দিতে হবে। এভাবে হেলালকে টাকার জন্য চাপ দেয়া শুরু করেন পুলিশ কর্মকর্তারা। একপর্যায়ে হেলাল এ বিষয়ে পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের পর ১৪ জুলাই সন্ধ্যায় হেলালকে ৯ লাখ টাকা ফেরত দেয়া হয়।

পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভূঞা বলেন, প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। কারও ব্যক্তিগত অপরাধের দায় পুলিশ বাহিনী নেবে না।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএম