৫০ বছর ধরে অসহায়দের ঘরে পৌঁছে দিচ্ছে কোরবানির গোশত

ঢাকা, মঙ্গলবার   ২৭ জুলাই ২০২১,   শ্রাবণ ১২ ১৪২৮,   ১৬ জ্বিলহজ্জ ১৪৪২

৫০ বছর ধরে অসহায়দের ঘরে পৌঁছে দিচ্ছে কোরবানির গোশত

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২০:২০ ২২ জুলাই ২০২১  

৫০ বছর ধরে অসহায়দের ঘরে পৌঁছে দিচ্ছে কোরবানির গোশত

৫০ বছর ধরে অসহায়দের ঘরে পৌঁছে দিচ্ছে কোরবানির গোশত

পবিত্র ঈদুল আজহায় কোরবানির গোশত দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে এলাকার দুস্থ অসহায় মানুষের মাঝে বিতরণ করে আসছে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলা সদরের চেয়ারম্যান পাড়ার বাসিন্দারা। 

এলাকাবাসীর এই মহৎ উদ্যোগের কারণে প্রতিবছর ঈদুল আজহার এই দিনটিতে কোরবানি দেয়ার সামর্থহীন এখানকার শতশত অসহায় মানুষের চুলায় উঠছে কোরবানির গোশত। 

কোরবানি দিয়েছেন এমন মানুষদের সঙ্গে অসহায় মানুষরা খেতে পাচ্ছে কোরবানির গোশত। প্রতিবছরের ন্যায় এবারো চেয়ারম্যান পাড়ার বায়তুস ছালাম জামে মসজিদ কমিটির তত্ত্বাবধানে গোশত বিতরণ করা হয়েছে। 

বুধবার বিকের থেকে কোরবানি দেয়ার সামর্থহীন ২৮২ টি পরিবারের প্রত্যেকের ঘরে পৌঁছে দেয়া হয়েছে এ গোশত। বিতরণকৃত গোস্তের একেকটি প্যাকেটে প্রায় দেড় কেজি ওজনের কোরবানির গোশত দেয়া হয়। 

জানা গেছে, প্রত্যেক কোরবানির ঈদে বিত্তবান, মধ্যবিত্তসহ যারা কোরবানি দেন এমন প্রত্যেক ব্যক্তির ভাগ কোরবানির জবাইকৃত গরুর গোশত থেকে ৩ ভাগের এক অংশ অসহায় মানুষদের জন্য সংগ্রহ করা হয়। সংগৃহীত ওইসব গোস্ত এক স্থানে জমা করা হয়। এরপর এলাকায় কোরবানি দেননি এমন অসহায় সামর্থহীন মানুষদের তালিকা তৈরি করে তাদের প্রত্যেকের বাড়ি বাড়ি গিয়ে এই কোরবানির গোশত বিতরণ করা হয়ে থাকে। 

চেয়ারম্যান পাড়ার বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম জানান, জন্মের পর থেকে দেখে আসছি আমাদের এলাকায় কোরবানির ঈদে বায়তুস ছালাম জামে মসজিদ কমিটি ও এলাকার সামর্থবানদের উদ্যোগে গোশত বিতরণ কার্যক্রম। এ উদ্যোগ ৫০ বছরেরও বেশি সময়ের। 

বৃদ্ধ এছাহাক আলী জানান, গোশত বিতরণের কার্যক্রম আমাদের পূর্ব-মুরব্বিরা চালু করে গেছেন। আমরা বহুদিন ধরেই এখানে গোশত বিতরণ দেখে আসছি। গোশত বিতরণের সুযোগ থাকায় ঈদুল আজহায় এ গ্রামের সব মানুষ গোস্ত খাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। 

শামছুল হক নামের বাসিন্দা জানান, এ গ্রামের যারা কোরবানি দিতে পাচ্ছেনা। তাদের মাঝে গোশত বিতরণ করাটা ভালো উদ্যোগ। 

চেয়ারম্যান পাড়ার বায়তুস ছালাম জামে মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুস ছালাম জানান, আমাদের এ গ্রামের মুরব্বিদের রেখে যাওয়া গোশত বিতরণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। এবার ঈদুল আজহায় কোরবানি দেয়ার সামর্থহীন ২৮২ পরিবারের তালিকা তৈরি করে তাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে কোরবানির গোশত বিতরণ করা হয়েছে। আমাদের এ কার্যক্রম প্রত্যেক ঈদুল আজহায় অব্যাহত থাকবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে