ফিরতি যাত্রায় বাড়তি ভাড়া, টিকেট যেন সোনার হরিণ

ঢাকা, বুধবার   ০৪ আগস্ট ২০২১,   শ্রাবণ ২০ ১৪২৮,   ২৪ জ্বিলহজ্জ ১৪৪২

ফিরতি যাত্রায় বাড়তি ভাড়া, টিকেট যেন সোনার হরিণ

নওগাঁ প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৭:১৪ ২২ জুলাই ২০২১  

ফিরতি যাত্রায় বাড়তি ভাড়া, নেই স্বাস্থ্যবিধির বালাই

ফিরতি যাত্রায় বাড়তি ভাড়া, নেই স্বাস্থ্যবিধির বালাই

ঈদের আনন্দ এখনো শেষ হয়নি। তারপরও প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদ কাটিয়ে কর্মস্থলে ফিরতে ব্যস্ত কর্মমুখী মানুষ। নাড়ির টানে নিজ এলাকায় ঈদ করলেও এখন ফিরতে হচ্ছে ইট পাথরের সেই চেনা শহর ঢাকায়। 

নওগাঁ জেলার অধিকাংশ মানুষের ঢাকার যাওয়ার ভরসা বাস। তাই বাস কাউন্টারে এখন উপচে পড়া ভিড়। তবে বাসস্ট্যান্ডগুলোতে ফিরতি টিকেট না পেয়ে অনেকে হতাশ হয়ে পড়েছেন। বাড়তি টাকা দিয়েও মিলছে না টিকেট। আবার স্বাস্থ্যবিধিও মানা হচ্ছে না। 

দুই আসনে দুইজন যাত্রী নিয়ে নওগাঁর ঢাকা বাসস্ট্যান্ড থেকে বাস ছাড়তে দেখা গেছে। এমন চিত্র বাস কাউন্টারগুলোর। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত নওগাঁর বাস কাউন্টারগুলোতে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। 

করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণে সরকার শুক্রবার থেকে দেশে আবার দুই সপ্তাহের লকডাউন দিতে যাচ্ছে। লকডাউনের কারণে আগামীকাল থেকে কোনো বাস নওগাঁ থেকে ঢাকায় ছেড়ে যাবে না। যার কারণে যাত্রীরা ভিড় করছেন বাস কাউন্টারে। নওগাঁ ট্রাভেলস প্রতি টিকেট এক হাজার টাকা, একতা ৯০০ টাকা, শাহ ফতেহ আলী এক হাজার টাকা ও শ্যামলি কাউন্টারে ৯০০ টাকা করে যাত্রীদের কাছ থেকে নেয়া হচ্ছে। অন্যান্য কাউন্টারেও একই দৃশ্য।

ফিরতি যাত্রায় বাড়তি ভাড়া, টিকেট যেন সোনার হরিণ

শ্যামলী পরিবহনের যাত্রী শারমিন আক্তার বলেন, ঢাকাতে একটি প্রাইভেট ফার্মে চাকরি করি। গত মঙ্গলবার অগ্রীম টিকিট কেটেছি। অন্য সময় ঢাকাতে যেতে ৪৫০-৫০০ টাকা টিকিট মূল্য ছিল। কিন্তু অতিরিক্ত ভাড়া ১ হাজার ২০০ টাকায় টিকিট কাটতে হয়েছে। আবার দুই সিটে একজন যাত্রী যাওয়ার কথা থাকলেও ডাবল করে যেত হচ্ছে। কি আর করার ঢাকাতে তো আমাকে যেতেই হবে তাই যাচ্ছি। 

তিনি আরো বলেন, সকাল সাড়ে ১০টায় বাস ছাড়ার কথা থাকলেও দুপুর ১টা বেজে যাচ্ছে তবুও বাস ছাড়েনি। সব মিলে দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে। 

শ্যামলি ১ নম্বর বাস কাউন্টারের ম্যানেজার সিবেন বলেন, ঈদে ৫-৬টা বাস চলছে। আমরা আশা করছিলাম টিকেট বিক্রি হবে। কিন্তু যাত্রী সংখ্যা কম থাকায় আসন ফাঁকা রেখেই ঢাকার উদ্দেশ্যে যেতে হচ্ছে। যাত্রীদের কাছ থেকে ভাড়া বেশি নেওয়া হচেছ না। 

অনলাইনে প্রতি আসনে ৬০০ টাকায় টিকেট বিক্রি হচ্ছে। তবে কেউ যদি অনলাইনে টিকেট কেটে যাত্রীদের কাছে বেশি টাকায় বিক্রি করে সেটা অন্য ব্যাপার। আমাদের কাউন্টার থেকে বেশি টাকায় টিকেট বিক্রি হচ্ছে না। চেষ্টা করছি এক সিটে একজন যাত্রী নেয়ার। সেক্ষেত্রে তাকে দুই সিটের ভাড়া ১ হাজার ২০০ টাকা গুণতে হবে। তবে কোনো পরিবার যদি দুই সিট নেয় তাহলে পাশাপাশি বসে যেতে পারছে। 

রানীনগর থেকে ঢাকা যাওয়ার জন্য নওগাঁর বাস কাউন্টারে এসেছেন রবিউল ইসলাম ও সুরুজ হোসেন। তারা দুজনই ঢাকার একটি পেট্রোল পাম্পে চাকরি করেন। 

ফিরতি যাত্রায় বাড়তি ভাড়া, টিকেট যেন সোনার হরিণ

তারা বলেন, ঈদের আগের দিন গ্রামের বড়ি আসছি। ঈদ করে আবার ঢাকায় ফিরে যাচ্ছি। বাড়িতে এসে পরিবারের সঙ্গে ঈদ এই আনন্দ। শনিবার থেকে আবারো কাজে যোগদান করতে হবে। শুনছি শুক্রবার থেকে লকডাউন। তাই চলে যাচ্ছি। আর ২-৩ দিন পর যদি লকডাউন দিতো তাহলে হয়তো আর কয়েকদিন বাড়িতে থাকতে পারতাম। 

নওগাঁ জেলা বাস মালিক সমিতির সভাপতি এহসান রেজা (রেনজা) বলেন, ঢাকামুখী যাত্রীদের খুব ভিড়। যাত্রীদের কথা বিবেচনা করে অনেক বাসে দুই সিটে দুইজন করে যাত্রী নিয়ে যেতে হচ্ছে। 

অতিরিক্ত ভাড়ার বিষয়ে তিনি বলেন, গত লকডাউনে বাস বন্ধ ছিল। আবারো দুই সপ্তাহের লকডাউন দিয়েছে সরকার। আমাদের চালক ও হেলপার থেকে শুরু করে বাসের সঙ্গে জড়িতদের বেতন সব বিবেচনা করে একটু ভাড়া বৃদ্ধি করা হয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি স্বাস্থ্যবিধি মেনে যাত্রীদের নিয়ে যাওয়া যায়। 

তিনি বলেন, আগামী ২৬ জুলাইয়ে যদি লকডাউন শিথিল করা হয় তবে নির্ধারিত ভাড়ায় যাত্রীদের ঢাকায় নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে। অনেক যাত্রীদের টিকেট দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। আজ সন্ধ্যা পর্যন্ত বাস ঢাকায় যাবে। তারপর আর কোনো বাস ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাবে না। 

নওগাঁর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মুহাম্মাদ ইব্রাহীম বলেন, বাস কাউন্টারে জেলা প্রশাসনের পক্ষে একাধিক ভ্রাম্যমাণ টিম কাজ করছে। যদি অতিরিক্ত ভাড়া কেউ নিয়ে থাকে সে বিষয়ে অভিযোগ পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আর স্বাস্থ্যবিধি মেনে যাত্রী চলাচলের ক্ষেত্রে তদারকি করছি। 

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে