পুলিশ কনস্টেবলের আত্মহত্যার কারণ খুঁজছে তদন্ত দল

ঢাকা, শুক্রবার   ৩০ জুলাই ২০২১,   শ্রাবণ ১৬ ১৪২৮,   ১৯ জ্বিলহজ্জ ১৪৪২

পুলিশ কনস্টেবলের আত্মহত্যার কারণ খুঁজছে তদন্ত দল

মেহেরপুর প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৬:১৬ ২২ জুলাই ২০২১  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

মেহেরপুরের রতনপুর পুলিশ ক্যাম্পের কর্মরত কন্সটেবল সাইফুল ইসলামের আত্মহত্যার রহস্য খুঁজতে নিবীড়ভাবে কাজ করছে তিন সদস্যের শক্তিশালী অনুসন্ধান দল।

আত্মহত্যার পরপরই একটি শক্তিশালী তদন্ত কমিটি গঠন করার নির্দেশ দেন এসপি।

মেহেরপুর জেলা পুলিশের অ্যাডিশনাল এসপি জামিরুল ইসলামকে প্রধান করে তিন সদস্যের এ অনুসন্ধান কমিটি গঠন করেন তিনি। আত্মহত্যার প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করবেন এ অনুসন্ধান দল।

৫৬ দিন ছুটি ভোগ করা, স্বামী স্ত্রী দুজনই এক জেলাতে পোস্টিং( মুজিবনগর এবং মেহেরপুর সদরে কর্মরত), সুবিধার কথা চিন্তা করে কিছুদিনের মধ্যে তাকে স্ত্রীর কাছে মেহেরপুর সদরে পোস্টিং দেওয়ার পরও কেন পুলিশ সদস্য গুলি খেয়ে আত্মহত্যা করলো তা খুঁজছে পুলিশের এই তদন্ত দল।

কেন এভাবে নিজেকে শেষ করলো পুলিশ সদস্য সাইফুল তার কারণ খুঁজে পাচ্ছে না তার সহকর্মী, স্ত্রীসহ পুলিশের কেউ।

নিহত সাইফুলের ঘনিষ্ট সূত্র জানায়, ৯৪ সালে জন্ম নেওয়া সাইফুলের বাড়ি কুষ্টিয়া কুমারখালী উপজেলার চাপড়া গ্রামে। তার বাবার নাম মোহাম্মদ আলী। চলতি বছরে চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার জয়রামপুর গ্রামের ফজলুর সরকারের মেয়ে ফরিদা খাতুনের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। মেহেরপুরে দুজনেই চাকরি করতেন সেই সুবাদে দুজনের পরিচয় হয় এবং পারিবারিক আয়োজনে বিয়ে হয়। বয়সে স্বামী স্ত্রী দুজনে এক বছরের ছোট বড় ছিল। দুজনের বর্তমান কর্মস্থল ছিলো ২০ মিনিট দূরত্বের। 

জানা গেছে, নতুন বিয়ে হওয়ায় সাইফুলের আবেদনের প্রেক্ষিতে কর্তৃপক্ষ মাঝে মধ্যেই তাকে ছুটি দিতো। অনুরুপ ছুটি তার স্ত্রীও ভোগ করতো। দাম্পত্য জীবনও ছিল খুবই মধুর। গত ৬ মাসে সাইফুল ৫৪ দিন ছুটি ভোগ করেছে। শুধু তাই নয় দূরত্ব ঘুঁচাতে কর্তৃপক্ষ তাকে স্ত্রীর সঙ্গে মেহেরপুর সদরে পোস্টিং দিয়েছিল। ছুটি বেশি ভোগ করায় এই ঈদে নিহত সাইফুল ছুটির কোনো আবেদনও করেননি। 

ক্যাম্পে নাইট ডিউটি করাকালীন মাস্ক পড়া অবস্থায় তিনি নিজের অস্ত্রের গুলিতে নিজেই আত্মহত্যা করেন। তাহলে এমন সময় এমন কি হলো যে কারণে পুলিশ সদস্য নিজ অস্ত্র দিয়ে নিজেই আত্মহত্যা করলো। এই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে সর্বমহলে। বিশেষ করে পুলিশ কর্তৃপক্ষ এই কারণ খুঁজতে শক্তিশালী তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। 

আত্মহত্যার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানের জন্য মেহেরপুর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি অনুসন্ধান কমিটি গঠন করা হয়েছে। 

তদন্ত কমিটির প্রধান অ্যাডিশনাল এসপি জামিরুল ইসলাম জানান, একজন তরুণ পুলিশ সদস্যের এমন মৃত্যু খুবই দুঃখজনক ও বেদনার। এসপি রাফিউল আলমের নির্দেশে এই আত্মহত্যার প্রকৃত কারণ খুঁজতে তাৎক্ষণিক তদন্ত কমিটি হয়েছে। একাধিক বিষয় মাথায় নিয়ে এরই মধ্যে তদন্ত কমিটি কাজও শুরু করে দিয়েছে। আশা করা যায় দ্রুতই বেরিয়ে আসবে এমন মৃত্যুর কারণ।

এদিকে নিহত কনস্টেবল সাইফুল ইসলামের চাচা লিটন হোসেন জানান, সাম্প্রতিক সময়ে তার সহকর্মী নারী পুলিশ সদস্যকে বিয়ে করেছেন ভাতিজা সাইফুল ইসলাম। বিয়ে করতে গিয়ে এবং কিছু জমি কিনতে গিয়ে সে অর্থনৈতিক শূন্যতায় ভুগছিল। কাউকে কিছু দিতে পারবে না বলে এবার ঈদে বাড়ি আসেনি। এই সমস্ত নিয়ে চরম মানসিক অস্থিরতায় ভুগতো সাইফুল। নিজেকে ইদানীং খুব উদভ্রান্তের মত রাখতো। সব কথায় হতাশা প্রকাশ করতো।

স্ত্রী ফরিদা খাতুন জানান, রাতেও তার সঙ্গে মোবাইলে কথা হয়। হতাশার কথা বললে সান্ত্বনা দিই। সব সময় পরিবার পরিজন নিয়ে বেশি চিন্তা করতো। তাই মানসিক বিকারগ্রস্থতার মধ্যে চলতো সব সময়।

গত ২১ জুলাই নিজের অস্ত্র মাথায় ঠেকিয়ে গুলি করে আত্মহত্যা করেছেন মেহেরপুরের মুজিবনগর থানার রতনপুর পুলিশ ক্যাম্পে কর্মরত সাইফুল ইসলাম।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে