৬৭ কেজি ওজনের এক মাছ বিক্রি করেই লাখপতি জেলে

ঢাকা, মঙ্গলবার   ২৭ জুলাই ২০২১,   শ্রাবণ ১২ ১৪২৮,   ১৬ জ্বিলহজ্জ ১৪৪২

৬৭ কেজি ওজনের এক মাছ বিক্রি করেই লাখপতি জেলে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৬:০২ ২২ জুলাই ২০২১  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

পুকুরে জাল ফেলে ৬৭ কেজির একটি তেলিয়া ভোলা ধরেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের হিঙ্গলগঞ্জের এক জেলে। কলকাতা থেকে এক মাছ ব্যবসায়ী ৪ হাজার টাকা কেজি দরে ২ লক্ষ ৬৭ হাজার টাকায় কিনে নেন সেই মাছ। আর এই এক মাছ বিক্রি করেই লাখপতি হয়ে যান স্বপন মণ্ডল নামের সেই জেলে।

নদীর বাঁধ ভেঙে পানি ঢুকেছিল গ্রামে। বহু মাছ চাষের পুকুর নষ্ট হয়ে যায় এতে। সরকারি উদ্যোগে পুকুর সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে। হিঙ্গলগঞ্জের রূপমারি পঞ্চায়েতের উত্তর রূপমারি এলাকার বাসিন্দা স্বপন মণ্ডলের পুকুরও ভেসে গিয়েছিল ডাঁসা নদীর বাঁধ ভাঙা পানিতে।

স্বপন জানান, তার একটি পুকুর ছিল বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে, মাঠের মধ্যে। কয়েক মাস আগে ছ’কেজি তেলাপিয়া মাছ ছেড়েছিলেন। নোনা পানি ঢোকে সেখানেও। মাছ নষ্ট হওয়ার শোকে মাথা ঠুকছিলেন এতদিন। তবে হঠাৎই বদলে গেল সব কিছু।

সরকারি ভাবে দরিদ্র পরিবারের পুকুর থেকে পচা পানি বের করার কাজ শুরু হয়েছে। স্বপনের পুকুরেও পানি পরিষ্কার করার কাজ হচ্ছিল রোববার দুপুরে। পানি যখন হাঁটুসমান, সে সময়ে স্বপন দেখেন, বিশাল বড় একটা মাছ ঘুরছে। পানি পরিষ্কার করার কাজ বন্ধ করে দেন তিনি। উল্টে পাম্প চালিয়ে আরও কিছুটা পানি দেওয়ার ব্যবস্থা করেন পুকুরে, যাতে মাছটি বেঁচে থাকে।

এরপরে এক বন্ধুর মাধ্যমে বিক্রির জন্য কলকাতায় খোঁজ-খবর শুরু করেন। রোববার দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত স্বপন তার মেয়ের জামাই ও ভাইকে সঙ্গে নিয়ে পুকুর পাহারায় ছিলেন।

রাত ৩টার দিকে দমদম থেকে এক মাছ ব্যবসায়ী আসেন। পুকুর থেকে মাছটি ধরে দেখা যায়, সেটি তেলিয়া ভোলা গোত্রের। ওজন প্রায় ৬৭ কেজি। ৪ হাজার টাকা কেজি দরে স্বপন দাম পান ২ লক্ষ ৬৭ হাজার টাকা।

তিনি বলেন, ‘আমি সর্বোচ্চ ১৯ কেজি ওজনের ভেটকি দেখেছি। এত বড় মাছ দেখিনি। এই টাকা দিয়ে সরকারি প্রকল্পে পাওয়া ঘরটা একটু ভাল করে করে নেব।’ তার অনুমান, নদীর বাঁধ ভেঙেই এই মাছ এসেছে।

স্বপন জানালেন, বাঁধ ভাঙার কয়েকদিন পরে এই পুকুরের আশপাশে বিলে কেউ মাছ ধরতে যাচ্ছিল না। একটা বড় প্রাণীকে জলে ঘুরতে দেখা যাচ্ছিল। অনেকে ভেবেছিল, ছোটখাট কুমির ঢুকেছে।

হিঙ্গলগঞ্জ ব্লকের মৎস্য দফতরের কর্মকর্তা সৈকত দাস বলেন, ‘এত বড় ভেটকি সাধারণত চাষ করা হয় না। এমন বড় করতে কমপক্ষে ৭-৮ বছর সময় লাগে। এই মাছ মূলত সমুদ্রে পাওয়া যায়। অনেক সময়ে নদীতেও চলে আসে। নদীর বাঁধ ভেঙেই এই ভোলা ভেটকি ওই পুকুরে চলে আসে বলেই মনে হচ্ছে।’

তেলিয়া ভোলার গুণাগুণ সম্পর্কে তিনি জানান, এই মাছের শরীরের কিছু অংশ ওষুধ তৈরিতে ব্যবহার হয়। লিভারও ওষুধ তৈরিতে কাজে লাগে। মাছের তেল ব্যবহার হয় দুরারোগ্য কিছু রোগের ওষুধ তৈরিতে। মাছের বড় বড় কাঁটা থেকেও ওষুধ তৈরির উপাদান পাওয়া যায়।

সূত্র: আনন্দবাজার

ডেইলি বাংলাদেশ/মাহাদী