মুমুর্ষ অবস্থায় হাসপাতালে ছিলেন হানি সিং, কি হয়েছিল তার

ঢাকা, মঙ্গলবার   ২৭ জুলাই ২০২১,   শ্রাবণ ১২ ১৪২৮,   ১৬ জ্বিলহজ্জ ১৪৪২

মুমুর্ষ অবস্থায় হাসপাতালে ছিলেন হানি সিং, কি হয়েছিল তার

বিজ্ঞান ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৪:৩৬ ২২ জুলাই ২০২১   আপডেট: ১৫:০১ ২২ জুলাই ২০২১

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

র‌্যাপার, পপ গায়ক, সুরকার, গীতিকার এবং অভিনেতা। হানি সিংয়ের পরিচয় দিতে গেলে এতগুলো শব্দই এখন খরচ করতে হয়। বলিউডে এসেছিলেন কারও সাহায্য ছাড়াই। প্রথম সুযোগেই করেছিলেন বাজিমাত।

খুব অল্প সময়ের মধ্যেই ইউটিউবার হানি হয়ে উঠেছিলেন বলিউডের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক পাওয়া প্রথম সারির গায়কদের মধ্যে একজন। অমিতাভ, শাহরুখ, সালমানের সঙ্গেও কাজ করেছেন তিনি। ক্যারিয়ারের তুঙ্গে থাকার সময় জনপ্রিয় এই গায়ক আচমকা বলি ইন্ডাস্ট্রি থেকে ‘অদৃশ্য’ হয়ে যান রহস্যজনকভাবে। টানা দু’বছর তার কোনো খোঁজই ছিল না। 

ইয়ো ইয়ো হানি সিংয়ের আসল নাম হিরদেশ সিং। ১৯৮৩ সালের ১৫ মার্চ পঞ্জাবের হোসিয়াপুরের এক শিখ পরিবারে জন্ম তার। পরিবারের সকলে ভালবেসে তাঁকে ডাকতেন হানি বলে। পরে বড় হয়ে তিনি নিজেকে পরিচিত করে ফেলেন এই নামেই।

বরাবরই সঙ্গীতে আগ্রহ ছিল তার। ছোট থেকেই বিভিন্ন গানের প্রতিযোগিতায় যোগ দিতেন। গান নিয়েই যে তিনি ক্যারিয়ার গড়তে চান, সে ব্যাপারে নিশ্চিত ছিলেন হানি। ব্রিটেনের ট্রিনিটি স্কুলে সঙ্গীত নিয়ে পড়াশোনা করেছেন সে কারণেই। আর সেখানেই নামের আগে যোগ করার জন্য তিনি পেয়ে যান ‘ইয়ো ইয়ো’ শব্দযুগল। 

‘ইয়ো ইয়ো’-র অর্থ হলো- আপনার আপন। কলেজে বন্ধুরা এই শব্দটির ব্যবহার করতেন বেশ জোরেশোরেই। সেখান থেকেই এটি শিখেছিলেন হানি। দেশে ফিরে হানি নিজের একটি ব্যান্ড বানিয়ে ফেলেন। তার ব্যান্ডের হয়ে কাজ করতেন বাদশাহ এবং রাফতার নামে দু’জন র‌্যাপার। তখন মূলত পাঞ্জাবি গানই গাইত তাদের ব্যান্ড।

নিজেদের লেখা, নিজেদের সুর এবং নিজেদের কণ্ঠ- এই তিন মিলিয়ে পাঞ্জাবি র‌্যাপ গানের অ্যালবাম বানাতে শুরু করেন তারা। সেই ভিডিও ইউটিউবে আপলোড করতেন হানি। ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছিলেন তারা। 

দিলজিৎ দোসাঞ্জ তখন ‘লায়ন অব পঞ্জাব’ নামে একটি ছবি করছিলেন। সেই ছবির একটি গান গেয়েছিলেন হানি। ২০১১ সালের ওই গান সে বছর বিবিসি-র এশিয়ান ডাউনলোড তালিকায় প্রথম হয়েছিল। আর ওই বছরই হানির গানের অ্যালবাম ‘ইন্টারন্যাশনাল ভিলেজার’ও মুক্তি পায়। সুপারহিট হয়েছিল এই অ্যালবামের প্রতিটি গানও।

পাঞ্জাবি ইন্ডাস্ট্রিতে জনপ্রিয় হয়ে ওঠা এই গায়ক এবার বলিউডে ডাক পেতে শুরু করেন। বলিউডে তার প্রথম গান ‘শাকল পে মাত জা’ ছবির। হানি যে গানেই হাত দিচ্ছিলেন সেটাই সুপারহিট হয়ে যাচ্ছিল তখন।

এর পর ‘মাস্তান’ ছবির গানেও প্রস্তাব পান তিনি। এই ছবির একটি গানের জন্য ৭০ লাখ টাকা পারিশ্রমিক নিয়েছিলেন হানি সিং। এখনও পর্যন্ত বলিউডে একটি গানের জন্য এটিই সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক।

বলিউডে গান, টেলিভিশনে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যোগদান, ইউটিউব চ্যানেল— সব দিকই সমান্তরালভাবে সামলাচ্ছিলেন হানি। বলিউড এবং ইউটিউব দু’টিতেই সমান জনপ্রিয় হয়ে উঠছিলেন ক্রমশ। যুব সমাজের কাছে হানি হয়ে উঠেছিলেন রকস্টার।

শাহরুখ, সালমান, অক্ষয়, অমিতাভদের সঙ্গেও কাজ করে ফেলেছিলেন এরই মধ্যে। শাহরুখের খুব ঘনিষ্ঠও হয়ে উঠেছিলেন তিনি। গানের পাশাপাশি কয়েকটি ছবিতেও অভিনয় করে ফেলেছিলেন ততদিনে।

২০১৪ সালে ‘হ্যাপি নিউ ইয়ার’ ছবি করছিলেন শাহরুখ। এই ছবিতে হানির একটি গান রাখতে চেয়েছিলেন বলিউড বাদশাহ। কিন্তু ছবির সুরকারের সেটা পছন্দ ছিল না। হানিকে কাজ দিতে না পারলেও বিষয়টিকে হালকা করার জন্য শাহরুখ ছবির প্রচারমূলক অনুষ্ঠানে বন্ধু হানিকে ঠিকই সঙ্গে নিয়ে যান।

এই সময়টাই হানির জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। ওই প্রচারমূলক অনুষ্ঠানে কোনও একটি বিষয় নিয়ে শাহরুখের সঙ্গে তর্ক জুড়ে দিয়েছিলেন হানি। বলিউড বাদশাহও বিষয়টি সহ্য করেননি। প্রকাশ্যে হানিকে চড় পর্যন্ত মেরেছিলেন শাহরুখ।

কি নিয়ে তাদের মধ্যে ঝামেলা হয়েছিল তা আজও পরিষ্কার নয়। তবে এর পর শুধু শাহরুখের জীবন থেকেই নয়, বলিউড থেকেও যেন গায়েব হয়ে যান হানি। দু’বছর সেভাবে তার কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি। নিজেকে সারাক্ষণই বাড়িতে বন্দি রাখতেন। কয়েকজন ছাড়া কারও সঙ্গে কথা বলতেন না। গান গাওয়াও ছেড়ে দিয়েছিলেন।

এদিকে, অনুরাগীরা যখন হানির একটা ঝলক পাওয়ার জন্য ব্যাকুল হয়ে পড়েছিলেন, সে সময়ই মুখে অক্সিজেন মাস্ক লাগানো হানির একটি ছবি ভাইরাল হয়। ছবিটি দেখে হানির অনুরাগীদের মধ্যে ব্যাপক প্রশ্ন দেখা দেয়। তখনও কেউ বুঝে উঠতে পারছিলেন না যে, আসলে কি হয়েছে হানির।

পরে জানা যায়, হানি চণ্ডীগড়ের একটি হাসপাতালে মুমুর্ষ অবস্থায় হানি ভর্তি ছিলেন সে সময়। অতিরিক্ত মাদক সেবনে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। নিজেকে সুস্থ করে তুলতেই চিকিৎসা করাচ্ছিলেন তিনি।

টানা দু’বছর ওই একটি মাত্র ছবি ছাড়া হানির এক ঝলকও দেখতে পাননি কেউ। দু’বছর পর নিজেই সকলের সামনে হাজির হন হানি। সবাইকে অবাক করে দিয়ে তার অদৃশ্য হয়ে যাওয়ার কারণও জানান।

এক সাক্ষাৎকারে হানি জানিয়েছিলেন, তিনি বাইপোলার ডিজঅর্ডার-এ আক্রান্ত হয়েছিলেন। তারই চিকিৎসা করাচ্ছিলেন। পুরোপুরি সুস্থ হয়ে তবেই সকলের সামনে হাজির হয়েছেন।

তবে আজও হানির এই কথাগুলো পুরোপুরি মানতে পারেন না অনেকেই। তাদের মতে, শাহরুখের সঙ্গে লড়াই তাকে ইন্ডাস্ট্রি থেকে সরিয়ে দিয়েছিল।

এই দু’বছরে অনেক কিছু বদলে গিয়েছিল। হানির চেয়ে কম পারিশ্রমিকের অনেক র‌্যাপার পেয়ে গিয়েছিল বলিউড। হানি কাজ করছেন ঠিকই কিন্তু তাঁকে নিয়ে আর সেই আবেগ বা উত্তেজনা নেই অনুরাগীদের মাঝে। 

সূত্র- আনন্দবাজার

ডেইলি বাংলাদেশ/টিআরএইচ/টিএএস