সোহাগপুর বিধবাপল্লীতে কোরবানির গরু দিলেন ডিসি 

ঢাকা, মঙ্গলবার   ২৭ জুলাই ২০২১,   শ্রাবণ ১২ ১৪২৮,   ১৬ জ্বিলহজ্জ ১৪৪২

সোহাগপুর বিধবাপল্লীতে কোরবানির গরু দিলেন ডিসি 

নালিতাবাড়ী (শেরপুর) প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২২:০৬ ২০ জুলাই ২০২১   আপডেট: ২২:১১ ২০ জুলাই ২০২১

নালিতাবাড়ীর ইএনও হেলেনা পরাভীন সোহাগপুর বিধবাপল্লীতে শহীদ পরিবারবর্গের জন্য ডিসির দেওয়া উপহার কোরবানির গরু হস্তান্তর করেন।

নালিতাবাড়ীর ইএনও হেলেনা পরাভীন সোহাগপুর বিধবাপল্লীতে শহীদ পরিবারবর্গের জন্য ডিসির দেওয়া উপহার কোরবানির গরু হস্তান্তর করেন।

শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজরিত সোহাগপুর বিধবাপল্লীর বিধববাদের জন্য পবিত্র ঈদুল আজহায় নিজেদের করা কোরবানির গোশত খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। 

শেরপুরের ডিসি মো. মোমিনুর রশীদ সোহাগপুরের বিধবাদের কোরবানির জন্য একটি গরু কিনে দিয়েছেন। মঙ্গলবার কোরবানির গরুটি শহীদ পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। কোরবানির গরু পেয়ে খুশী শহীদ পরিবারের বিধবা ও তাদের স্বজনরা। 

নালিতাবাড়ীর ইএনও হেলেনা পরাভীন জানান, সোহাগপুর বিধবাপল্লীতে শহীদ পরিবারবর্গের জন্য ডিসির দেওয়া উপহার কোরবানির গরু হস্তান্তর করা হয়েছে। এতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি জেলা প্রশাসনের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। 

সোহাগপুর বিধবাপল্লীর শহীদ পরিবার কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. জালাল উদ্দিন বলেন, স্বাধীনতার এই ৫০ বছর পর সোহাগপুরের বিধবাপল্লীর বাসিন্দারা এবার নিজেদের করা কোরবানির গোশত খেতে পারবেন। এই আনন্দ বলে বোঝানো যাবে না। অনেকেই অনেকভাবে সহায়তা করেছেন, কিন্তু বর্তমান ডিসি এবারের ঈদে কোরবানির ব্যবস্থা করে দেওয়ায় তার প্রতি শহীদ পরিবারের পক্ষ থেকে আমাদের অসীম কৃতজ্ঞতা। 

৪৬ হাজার টাকা দিয়ে কোরবানির গরুটি ডিসি কিনে দিয়েছেন বলেও তিনি জানান। 

শেরপুর নালিতাবাড়ী উপজেলার কাকরকান্দি ইউপির সোহাগপুর গ্রামের বেনুপাড়া এলাকায় ১৯৭১ সালের ২৫ জুলাই পাকহানাদার বাহিনী নারকীয় হত্যাকাণ্ড চালিয়ে ১৮৭ জন নিরীহ পুরুষ গ্রামবাসীকে হত্যা করে। হানাদার বাহিনীর গণধর্ষণের শিকার হন ১৪ জন নারী। এরপর থেকে সোহাগপুর গ্রামটি বিধবাপল্লী হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। যুদ্ধের পর ৫৬ জন বিধবা বেঁচে ছিলেন। বর্তমানে বেঁচে আছেন ২৩ জন। 

সোহাগপুর গণহত্যায় নেতৃত্বদানের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আল-বদর কমান্ডার জামায়াত নেতা কামারুজ্জামানের ফাঁসির রায় হয়। সেই ফাঁসির রায় কার্যকরের পর ২০১৬ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম মুক্তিযুদ্ধ ‘৭১ সোহাগপুর বিধবাপল্লীকে ‘সোহাগপুর বীরকন্যা পল্লী’ নামে ঘোষণা করেন।  

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে