বাবা-ছেলে ও মেয়ের দাফন সম্পন্ন, এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া

ঢাকা, শুক্রবার   ৩০ জুলাই ২০২১,   শ্রাবণ ১৬ ১৪২৮,   ১৯ জ্বিলহজ্জ ১৪৪২

পাশাপাশি খাটিয়ায় বাবা-ছেলে ও মেয়ের লাশ, শোকের ছায়া

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২১:৩৬ ২০ জুলাই ২০২১  

বাবা-ছেলে ও মেয়ের দাফন সম্পন্ন, এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া

বাবা-ছেলে ও মেয়ের দাফন সম্পন্ন, এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া

ঈদের ছটিতে রাজধানী থেকে কুষ্টিয়ায় বাড়িতে আসার পথে রাজবাড়ীর পাংশায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত একই পরিবারের তিনজনের মরদেহ গ্রামের বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার সকালে নিজ বাড়িতে নিহতদের মরদেহ পৌঁছায়। পরে সকাল ১১ টার দিকে চর ভবানীপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে জানাজা শেষে দাফন করা হয়।

নিহতরা হলেন উপজেলার জগন্নাথপুর ইউপির চর মহেন্দ্রপুর গ্রামের বাসিন্দা ইসহাক শেখ, তার মেয়ে শিখা ও ছেলে আব্দুল মালেক। ইসহাক শেখ ঢাকা সাভার এলাকার একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। ঈদের ছুটিতে গ্রামের বাড়িতে ফিরছিলেন। পথিমধ্যে সোমবার রাত সা‌ড়ে ১২টার দি‌কে রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলায় রাজবাড়ী-কুষ্টিয়া আঞ্চলিক মহাসড়কের পাংশা আজিজ সরদার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘ‌টে। ট্রাক ও থ্রি-হুইলারের মু‌খোমু‌খি সংঘর্ষে তাদের মৃত্যু হয়। 

বাবা-ছেলে ও মেয়ের দাফন সম্পন্ন, এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া

এর আগে সকালে মরদেহ আনা হয়েছে। মরদেহগুলো কুমারখালী উপজেলার জগন্নাথপুর ইউপির চর মহেন্দ্রপুর গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে কান্নায় ভেঙে পড়েন তাদের স্বজন ও প্রতিবেশীরা। পাশাপাশি তিনটি খাটিয়া রাখা। একটিতে বাবার, একটি ছেলে ও আরেকটিতে মেয়ের লাশ। লাশের এমন সারি এই গ্রামের মানুষ আগে কখনো দেখেনি। সহস্রাধিক মানুষ লাশ দেখতে ভিড় জমায়। সবার চোখমুখে বিষাদের ছাপ। এ ঘটনায় ঘটনায় পুরো এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

নিহতদের এক পলক দেখার জন্য ওই বাড়িতে হাজার হাজার মানুষ ভিড় করে শেষবারের মতো তাদের দেখার জন্য। একই পরিবারের বাবা, ছেলে ও মেয়ের মৃত্যু এবং নিহত ছেলে-মেয়ের মা গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় পুরো এলাকা নিস্তব্ধ হয়ে গেছে।

বাবা-ছেলে ও মেয়ের দাফন সম্পন্ন, এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া

এদিকে ঈদের আনন্দ মলিন করে একই পরিবারের তিনজন নিহতের খবরে এলাকায় আকাশে বাতাসে শোকের মাতম বইছে। শোকসন্তপ্ত পরিবারকে একটু শান্তনা দিতে এলাকাবাসী ভিড় করছেন।

শোকাহত প্রতিবেশীরা  বলেন, আমাদের এলাকায় এমন ঘটনা আগে কখনো ঘটেনি। একই পরিবারের তিনজন নিহতের ঘটনায় আমরা মর্মাহত। তারপরও শেষবারের মতো দেখতে এসেছি নিহতের মরদেহগুলো। খুবই দুঃখজনক ঘটনা, তারা ঈদের আনন্দ করার জন্য গ্রামে আসছিল। তাদের কপালে ঈদ ছিল না। তাদের সব ইচ্ছা শেষ হয়ে গেল।

কুমারখালী থানার ওসি কামরুজ্জামান তালুকদার বলেন, ঈদের ছটিতে গ্রামের বাড়িতে আসার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারে তিনজন নিহত হয়েছেন। মরদেহগুলো সকালে গ্রামের বাড়িতে পৌঁছায়। পরে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে মরদেহ দাফন করা হয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে