প্রেমিকের ভালোবাসা পেটে নিয়ে আদালতে প্রেমিকা, মিলছে স্বীকৃতি

ঢাকা, মঙ্গলবার   ২৭ জুলাই ২০২১,   শ্রাবণ ১২ ১৪২৮,   ১৬ জ্বিলহজ্জ ১৪৪২

প্রেমিকের ভালোবাসা পেটে নিয়ে আদালতে প্রেমিকা, মিলছে স্বীকৃতি

বিচারকের মানবিক রায়ে কারাগারেই দুজনের বিয়ে

চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৯:৫০ ২০ জুলাই ২০২১   আপডেট: ১৯:৫৪ ২০ জুলাই ২০২১

চকরিয়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত

চকরিয়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ঢেমুশিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা সেলিনা বেগম ও দিদারুল ইসলাম। ভালোবেসে একে অপরের হাত ধরে পালিয়ে যান। এরপর একটি ভাড়া বাসায় একসঙ্গে তিন মাস কাটান। এরই মধ্যে সেলিনা অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। বিষয়টি জানার পরই তাকে ফেলে কৌশলে পালিয়ে যান দিদার।

এদিকে প্রেমিকের প্রতারণার বিচার চেয়ে সেলিনা আশ্রয় নেন আদালতের। নিজের ও অনাগত সন্তানের স্বীকৃতি চেয়ে দিদারের বিরুদ্ধে মামলা করেন চকরিয়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে দিদারুল ইসলামের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে। এরপর পুলিশ দিদারুলকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়।

সোমবার (১৯ জুলাই) বিকেলে আসামিপক্ষের আইনজীবী দিদারুল ইসলামের জামিন আবেদন করেন। ওই সময় বিচারক রাজীব কুমার দেব ভিডিও কনফারেন্সে আসামির সঙ্গে কথা বলতে চান। পরে দিদারুল ইসলামের সঙ্গে বিচারকের কথা বলার আয়োজন করেন জেল সুপার। আলাপ-আলোচনা শেষে জেল সুপারের উপস্থিতিতে কারাগারেই দিদার ও সেলিনার বিয়ের আয়োজনের নির্দেশ দেন বিচারক। পরে দিদারুলকে মুক্তি দিয়ে আদালতকে বিষয়টি অবহিত করতে বলেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. মিজবাহ উদ্দিন জানান, সেলিনা বেগমকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বাড়ি থেকে বের করে চকরিয়ার বাটাখালী এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় নিয়ে যান দিদারুল ইসলাম। সেখানে তিন মাস তারা একসঙ্গে থাকেন, বেশ কয়েকবার শারীরিক সম্পর্কেও লিপ্ত হন। এক পর্যায়ে সেলিনা অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে দিদারকে বিয়ের জন্য চাপ দেন। পরে দিদার কৌশলে তাকে ওই বাসায় রেখে পালিয়ে যান। ওই অবস্থায় সেলিনা স্ত্রীর স্বীকৃতি পেতে ২০২০ সালে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ মামলা করেন সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে।

তিনি আরো জানান, বিচারক সেলিনার মামলা আমলে নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দেন উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তাকে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় আদালত আসামি দিদারুলের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে। সম্প্রতি পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করে। বর্তমানে দিদারুল ইসলাম কক্সবাজার কারাগারে বন্দি।

আসামীপক্ষের আইনজীবী মো. মুজিবুল হক বলেন, আদালতে আসামির জামিন আবেদন করা হয়। কিন্তু জামিন পেলে আসামি ফের পালিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় বিচারক ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দিদারুলের স্বীকারোক্তি ও সেলিনাকে বিয়ে করার সম্মতি নেন। বিয়ের শর্তে জামিন মঞ্জুর হয় এবং জেল সুপারের উপস্থিতিতে কারাগারেই দুজনের বিয়ে সম্পন্ন করার আদেশ দেয় আদালত।

বাদী সেলিনা বেগম জানান, আদালতের রায়ে তিনি খুশি। বিচারকের মানবিকতার কারণে তিনি স্ত্রীর স্বীকৃতি এবং তার তিন মাসের সন্তান মো. তামিম পিতৃপরিচয় পেতে যাচ্ছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এআর