আশ্রয়ণ প্রকল্পে ঈদের আমেজ

ঢাকা, মঙ্গলবার   ২৭ জুলাই ২০২১,   শ্রাবণ ১২ ১৪২৮,   ১৬ জ্বিলহজ্জ ১৪৪২

আশ্রয়ণ প্রকল্পে ঈদের আমেজ

আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৮:৪৪ ২০ জুলাই ২০২১  

আখাউড়ার কেন্দুয়াই গ্রামের আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দারা

আখাউড়ার কেন্দুয়াই গ্রামের আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দারা

রাত পোহালেই ঈদ। সারাদেশের মতো ঈদের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার মোগড়া ইউনিয়নের কেন্দুয়াই গ্রামের আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দাদের মাঝে। ঈদ উদযাপন করতে শেষ সময়ে সবাই নিজেদের ঘর সাজিয়ে তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য এ উপজেলায় ৫০টি বাড়ি তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে কেন্দুয়াই গ্রামের সাতটি পরিবার রয়েছে। এখানকার বাসিন্দাদের এটাই প্রথম ঈদ। এ কারণে আনন্দটাও যেন একটু বেশি। এবারের মতো এত আনন্দ আগে কোনোদিন করেননি তারা। নারী-পুরুষ, শিশু-বৃদ্ধ সবার মাঝেই বিরাজ করছে ঈদের আমেজ।

আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা আব্দুর রাজ্জাক মিয়া বলেন, আমার কোনো জায়গা-জমি ছিল না। স্থায়ী ঘর হবে, পরিবার নিয়ে একসঙ্গে থাকতে পারব- এমন চিন্তা স্বপ্নেও আসেনি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কারণে মাথা গোঁজার স্থায়ী ঠাঁই হয়েছে। তাই পরিবার নিয়ে নিজের ঠিকানায় প্রথমবারের মতো ঈদ উদযাপন করতে পারব। এরচেয়ে আনন্দের আর কিছু হতে পারে না। প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আমি ও আমার পরিবার চির কৃতজ্ঞ।

আখাউড়ার কেন্দুয়াই গ্রামের আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দারা

আরেক উপকারভোগী হারুন হাওলাদার বলেন, একটি হোটেলে কাজ করি। স্ত্রী ও চার ছেলে-মেয়ে নিয়ে অন্যের বাড়িতে ভাড়া থাকতাম। অনেক কষ্টে জীবনযাপন করেছি। ঈদের আনন্দ কী কখনো বুঝিনি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহারের ঘর পেয়ে আমাদের থাকার কষ্ট দূর হয়েছে। এখন পরিবার নিয়ে ভালোভাবে ঈদ করতে পারব।

আবু তাহের মিয়ার স্ত্রী মরিয়ম বেগম বলেন, ১০ বছর আগে আমার স্বামী অসুস্থ হয়ে মারা যাওয়ার পর তিন ছেলে ও দুই মেয়ে নিয়ে অকূল পাথারে পড়েছিলাম। ভাঙাচোরা বাড়িতে থেকে কোনোরকমে খেয়ে না খেয়ে দিনাতিপাত করতে হয়েছে। নিজের জমি ও বাড়ি হবে- এমনটা শুধু কল্পনাই করতাম। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের কল্পনাকে বাস্তবে রূপ দিয়েছেন। ১০ বছর পর ছেলে-মেয়ে নিয়ে ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে পারব।

আখাউড়ার ইউএনও রুমানা আক্তার বলেন, শুধু কেন্দুয়াই গ্রামের ৭টি পরিবার নয়- আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় এ উপজেলায় ৫০টি পরিবার বসবাস করছে। তাদের ঈদ উদযাপনের জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। প্রতিটি পরিবারকে ঈদ উপহার ও খাদ্যসামগ্রী দেওয়া হয়েছে। আশা করি, তারা ভালোভাবে ঈদ উদযাপন করতে পারবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এআর