খুঁড়িয়ে চলছে চিত্রশিল্পী আদনানের পরিবার

ঢাকা, বুধবার   ০৪ আগস্ট ২০২১,   শ্রাবণ ২০ ১৪২৮,   ২৪ জ্বিলহজ্জ ১৪৪২

খুঁড়িয়ে চলছে চিত্রশিল্পী আদনানের পরিবার

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৭:৫৩ ২০ জুলাই ২০২১   আপডেট: ১৭:৫৯ ২০ জুলাই ২০২১

খুঁড়িয়ে চলছে প্রতিবন্ধী চিত্রশিল্পী আদনানের পরিবার

খুঁড়িয়ে চলছে প্রতিবন্ধী চিত্রশিল্পী আদনানের পরিবার

ময়মনসিংহের ত্রিশালের আদনান ফয়সাল জনি। শ্রবণ প্রতিবন্ধী হয়েও মেধাবী চিত্রশিল্পী হিসেবে রয়েছে তার সুনাম। পেয়েছেন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের অসংখ্য পুরস্কার। পুরস্কার নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত থেকে। 

মেধাবী শ্রবণ প্রতিবন্ধী চিত্রশিল্পী আদনানের পরিবার এখন চলছে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে। দুই ভাই-বোনের মধ্যে আদনান তার পরিবারের একমাত্র ছেলে সন্তান হওয়ায় তার দায়িত্বও অনেক। তার মা সিজিদা পারভিন দীর্ঘদিন ধরে জটিল রোগে ভোগছেন। নিয়মিত নিতে হচ্ছে থেরাপি। 

তার বাবা অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট সাইফুজ্জামান পরিবারের ভরণপোষণ ও স্ত্রীর চিকিৎসার টাকা যোগাতে আবার বেছে নিয়েছেন বেসরকারি চাকরি। আদনান ফয়সাল জনির ৩ বছরের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। আদনানের শিশু সন্তান ও তার স্ত্রীর ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে তার মা আরও অসুস্থ হয়ে পড়ছে। 

আদনানের বয়স যখন ৭ বছর, তখনই তার ঝুড়িতে জমা পড়েছিল দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের অসংখ্য পুরস্কার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর জন্মবার্ষিকী উৎসব অনুষ্ঠানে চিত্রাংকন প্রতিযোগিতায় উত্তম ক্যাটাগরিতে পুরস্কার লাভের কৃতিত্বও অর্জন করেছিল এই আদনান ফয়সাল জনি।

আদনান ফয়সাল জনি শ্রবণ প্রতিবন্ধী হয়েও পেয়েছেন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের অসংখ্য পুরস্কার।

এভাবে একের পর এক পুরস্কার পেতে থাকে সে। ৭ বছর বয়সেই ছবি অংকন করে বিভিন্ন পত্রিকার শিরোনামও হয়েছিল আদনান ফয়সাল জনি। আদনান এসএসসি পাশ করে এইসএসসি পরীক্ষা দিয়েছিল। আদনান তার নিজ উদ্যোগে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ঘুরে ঘুরে চিত্রাংকন প্রতিযোগিতার আয়োজন করে প্রতিযোগিদের বিভিন্ন পুরস্কার দিয়ে উৎসাহিত করে। সে কোন কাজ হাসিলের জন্য বারবার চেষ্টা করে বিভিন্ন লোকের কাছে একাধিকবার যেতেও দ্বিধান্বিত হয় না। সে সফল হয়েই থামতে চায়। 

আদনান বিভিন্ন সামাজিক এবং রাজনৈতিক কাজেও স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ করে। আদনান বর্তমানে জননেত্রী শেখ হাসিনা পরিষদের সহ-সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। তার বহুবিদ মেধা ও প্রজ্ঞা থাকার পরেও পরিবারের অর্থনৈতিক ক্রাইসিসে কোনো প্রকার ভূমিকা রাখতে পারছেনা সে।

আদনানের মা সিজিদা পারভিন বলেন, আমার ছেলে শিশুকাল থেকেই ছবি এঁকে একের পর এক পুরস্কার পেয়েছে। আমি অসুস্থ হওয়ার আগে সে প্রতি সপ্তাহেই কোন না কোন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চিত্রাংকন প্রতিযোগিতার আয়োজন করতো। আমাদের পরিবারের পক্ষ থেকেও উৎসাহিত ও সহযোগিতা করা হতো তার এই কাজে। আমার অসুস্থতা ও করোনার কারণে তার এই কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একনিষ্ট কর্মী সে। তবে তার নির্দিষ্ট কোনো কর্ম না থাকায় আমাদের পরিবার খুব চিন্তিত। আমার চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করা আদনানের বাবার জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। 

আদনানের বাবা ইফুজ্জামান বলেন, ‘আমার ছেলের যে মেধা ছিল, তা কাজে লাগিয়ে পরিবারের জন্য সে কিছু করতে পারলো না, তার এই প্রতিবন্ধীতার জন্য। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুদৃষ্টিই পারে আমার সন্তানটিকে স্থাায়ী কোনো কর্মসংস্থাানের ব্যবস্থাা করতে। এই বয়সে অসুস্থ স্ত্রী ও পরিবারের খরচ মেটাতে আমাকে অনেক সংগ্রাম করতে হচ্ছে। 

 শ্রবণ প্রতিবন্ধী আদনান ফয়সাল জনি

বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি (বিটিএ) ত্রিশাল উপজেলা শাখার সভাপতি ও পোড়াবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অবিনাশ চন্দ্র দাম বলেন, আদনান অনেক মেধাবী। কোন কাজ করতে যেয়ে তার অদম্য চেষ্টা দেখে আমরা বিস্মিত হই। সে কোন কথা মুখে বলে বুঝাতে না পেরে লিখে বুঝানোর চেষ্টা করে। বাক প্রতিবন্ধী হওয়া সত্ত্বেও তার মেধা ও কর্মস্পৃহা অনেক সুস্থ স্বাভাবিক মানুষের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি। সে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের ছবি অংকন করে প্রশংসা কুঁড়িয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন স্বজন ব্যক্তি ও নানাবিধ ছবি এঁকে প্রশংসা কুঁড়িয়েছে আদনান।

শ্রবণ প্রতিবন্ধী আদনান ফয়সাল জনি লেখার মাধ্যমে বলেন, ‘আমার স্বপ্ন একটি আর্ট একাডেমি প্রতিষ্ঠা করবো। যার নাম থাকবে শেখ হাসিনা জাতীয় শিশু চারুকলা একাডেমি। আমি সে অনুযায়ী কাজও শুরু করেছি। প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা পেলে এটি একটি আদর্শ প্রতিষ্ঠান হবে। আমি বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে ধারণ করে গণমানুষের জন্য কাজ করতে চাই। আমি আমার পরিবারের পাশে দাঁড়াতে চাই।’ 

শেখ হাসিনা পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মনির খানের সঙ্গে মোবাইলে আদনান ফয়সাল জনির বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, আদনান ফয়সাল জনি প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে পুরস্কারপ্রাপ্ত। সে শ্রবণ প্রতিবন্ধী হওয়া সত্ত্বেও অনেকের চেয়ে সাংগঠনিক ভাবে ভালো কাজ করে যাচ্ছে। সামাজিক কাজ গুলোতে তার নিয়মিত সম্পৃক্ততা আমাকে মুগ্ধ করে। তার পারিবারিক সমস্যা ও মায়ের অসুস্থতা সম্পর্কে আমার জানা ছিল না।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে