মূলধনের অভাবে মজুদ হচ্ছে না চামড়া

ঢাকা, শুক্রবার   ৩০ জুলাই ২০২১,   শ্রাবণ ১৬ ১৪২৮,   ১৯ জ্বিলহজ্জ ১৪৪২

মূলধনের অভাবে মজুদ হচ্ছে না চামড়া

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৬:২১ ২০ জুলাই ২০২১  

কাঁচা চামড়া (ফাইল ছবি)

কাঁচা চামড়া (ফাইল ছবি)

লোকসান এড়াতে বাজার বুঝে পশুর কাঁচা চামড়া কিনতে মৌসুমি ব্যবসায়ীদের পরামর্শ দিয়েছেন চট্টগ্রামের আড়তদাররা। তাদের মতে- বাজারে চামড়ার চাহিদা ও দামের পরিস্থিতি না বুঝে চামড়া সংগ্রহ করলে এবারও লোকসান গুনতে হতে পারে মৌসুমি ব্যবসায়ীদের।

আড়তদাররা জানান, করোনা পরিস্থিতিতে কোরবানি কম হওয়ার আশঙ্কায় তিন থেকে সাড়ে তিন লাখ পশুর চামড়া মজুদের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। সে অনুযায়ী নেয়া হচ্ছে প্রস্তুতিও।

বৃহত্তর চট্টগ্রাম কাঁচা চামড়া আড়তদার সমবায় সমিতির সভাপতি আবদুল কাদের বলেন, চামড়ার অতিরিক্ত মূল্য চান মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। ফলে তাদের কাছ থেকে চামড়া কেনা সম্ভব হয় না। আবার অনেকে বেশি দরে চামড়া কিনে ফেলেন, তাই আমাদের কাছেও দাম চান বেশি। পরে দরদামে না মিললে সেই চামড়া নষ্ট হয়ে যায়। এ কারণে ট্যানারির নির্ধারিত মূল্য, চামড়া পরিষ্কার, লবণ দেয়া ইত্যাদি হিসাব করেই কোরবানিদাতাদের কাছ থেকে চামড়া সংগ্রহ করতে হবে তাদের।

তিনি আরো বলেন, মৌসুমি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা প্রতিটি চামড়া সংরক্ষণে ১৭ থেকে ১৮ টাকা বাড়তি খরচ হয়। অপরদিকে ট্যানারি মালিকরাও ঠিকমতো টাকা দেন না। বকেয়া রয়েছে প্রায় ২০ কোটি টাকার বেশি। মূলধনের অভাবেও অনেকে মজুদ করতে পারছেন না কাঁচা চামড়া।

সমিতির তথ্যানুযায়ী, বছর পাঁচেক আগে চট্টগ্রামে চামড়া সংগ্রহকারীর সংখ্যা ছিল ১১২ জন। বর্তমানে সেই সংখ্যা নেমে ৩০ জনে এসে ঠেকেছে। ফলে কমেছে চামড়া সংগ্রহের পরিমাণও। বাজার মন্দা থাকায় অনেকে গুটিয়ে নিয়েছেন ব্যবসা।

চামড়ার মৌসুমি ব্যবসায়ী দিদারুল আলম বলেন, প্রতি বছর আমরা বিভিন্ন এলাকা থেকে চামড়া সংগ্রহ করি। কিন্তু পরবর্তীতে সেই চামড়া নিতে নানা টালবাহানা করেন আড়তদাররা। ফলে গত দুই বছর অনেক লোকসানের সম্মুখীন হয়েছি।

চট্টগ্রামে একসময় ২০টির বেশি ট্যানারি থাকলেও এখন রয়েছে শুধুমাত্র দুটি। যার মধ্যে পরিবেশ অধিদফতরের নির্দেশে একটি বন্ধ রয়েছে। অপরটির কাছে ১০ থেকে ১২ শতাংশ চামড়া বিক্রি করেন আড়তদাররা। এছাড়া বাকি চামড়া বিক্রির জন্য ঢাকার ট্যানারির ওপর নির্ভর করতে হয়।

এদিকে, এ বছর চামড়ার নির্ধারিত দর গত বছরের চেয়ে বেশি। এবার ঢাকায় লবণযুক্ত গরুর চামড়া কেনাবেচা করতে হবে প্রতি বর্গফুট বর্গফুট ৪০ থেকে ৪৫ টাকা দরে, যা গত বছর ছিল প্রতি বর্গফুট ৩৫ থেকে ৪০ টাকা। আর ঢাকার বাইরে ধরা হয়েছে প্রতি বর্গফুট ৩৩ থেকে ৩৭ টাকা, যা গত বছর ছিল ২৮ থেকে ৩২ টাকা।

এছাড়া সারাদেশে খাসির চামড়া প্রতি বর্গফুট ১৫ থেকে ১৭ টাকা ও বকরির চামড়া ১২ থেকে ১৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএম