ভিক্ষুক থেকেও ২০ টাকা চাঁদা নেন যুবদলের এ নেতা

ঢাকা, বুধবার   ০৪ আগস্ট ২০২১,   শ্রাবণ ২০ ১৪২৮,   ২৪ জ্বিলহজ্জ ১৪৪২

ভিক্ষুক থেকেও ২০ টাকা চাঁদা নেন যুবদলের এ নেতা

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:৫৫ ২০ জুলাই ২০২১   আপডেট: ১৬:২৮ ২০ জুলাই ২০২১

গোলজার আলম ওরফে পিস্তল গোলজার

গোলজার আলম ওরফে পিস্তল গোলজার

চট্টগ্রাম মহানগরের ডবলমুরিং থানা যুবদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক গোলজার আলম ওরফে পিস্তল গোলজার। তার নামের সঙ্গে ‘পিস্তল’ জুড়ে দেওয়ার রয়েছে বিশেষত্বও। কথিত আছে সবসময় পকেটে পিস্তল ও হাতে হাতুড়ি নিয়ে ঘোরেন যুবদলের সাবেক এ নেতা। আর মাত্র ২শ’ টাকা পেলেই এসব অস্ত্র হাতে ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠেন।

অস্ত্র, মাদক, ছিনতাই ও চাঁদাবাজিসহ ১৫ মামলার আসামি গোলজার ডবলমুরিং থানার দাইয়াপাড়া এলাকার মো. মুছার ছেলে। তার বিরুদ্ধে রয়েছে দলীয় নেতাকর্মীদের হেনস্থার অভিযোগও।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ডবলমুরিং থানা যুবদলের এক নেতা বলেন, গোলজার চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসীদের একজন। তার মতো সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজকে দলের নেতারা কীভাবে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেন মাথায় আসে না। তার কর্মকাণ্ডে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সংগঠনের কর্মীরা পর্যন্ত অতিষ্ঠ। এসব জেনেও জ্যেষ্ঠ নেতাদের কোনো মাথাব্যথা নেই।

ডবলমুরিং থানা এলাকার স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, চুরি থেকে শুরু করে ছিনতাই, চাঁদাবাজি, মাদকসহ এমন কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নেই যা গোলজার করেন না। ভিক্ষুকের কাছ থেকেও ২০ টাকা চাঁদা নেন তিনি। আবার ২শ’ টাকা দিলেই যে কাউকে গিয়ে মেরে আসেন। গোলজার এলাকার জন্য বিষফোঁড়া। বিএনপি নেতাদের শেল্টারে গোলজার এসব করেন। যারা তাকে শেল্টার দেন, আগে তাদের আইনের আওতায় আনা উচিত।

এদিকে, সোমবার রাতে দাইয়াপাড়া এলাকা থেকে অস্ত্র, গুলি ও ইয়াবাসহ গোলজারকে গ্রেফতার করেছে ডবলমুরিং থানা পুলিশ।

পুলিশ জানায়, যখন তখন যাকে তাকে উদ্দেশ্য করে গুলি চালান গোলজার। ২০১৮ সালে ডিস ব্যবসাকে কেন্দ্র করে টিপু ও সগীর নামে দুজনকে গুলি করেন। ২০১৩ সালে পুলিশকে লক্ষ্য করেও গুলি করেন। আর কেউ তার কথার অবাধ্য হলে করেন হাতুড়িপেটা। সম্প্রতি একইভাবে দুজনকে পিটিয়ে আহত করেন তিনি।

ডবলমুরিং থানার ওসি মোহাম্মদ মহসীন বলেন, গোলজার পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী। ভাড়ায় অপরাধ করেন তিনি। মাত্র ২শ’ টাকা দিলেই যে কাউকে গিয়ে মেরে আসেন। এলাকাতেই এ ধরনের ঘটনা বেশি ঘটান তিনি। বিশেষ করে ব্যক্তি পর্যায়ে কারো সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডা কিংবা মারামারি হলে সেখানে গোলজারকে ভাড়ায় নেয়া হয়।

গোলজারের আয়ের কোনো উৎস নেই। চাঁদাবাজি তার আয়ের প্রধান উৎস। এলাকায় দোকান থেকে শুরু করে ভিক্ষুক থেকেও ২০ টাকা করে চাঁদা নেন তিনি। চাঁদাবাজির অভিযোগে আগেও একাধিকবার তাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল।

ওসি আরো বলেন, টেকনাফ থেকে পাইকারি দরে ইয়াবা এনে ডবলমুরিং এলাকায় বিক্রি করতেন গোলজার। ইয়াবা বিক্রির জন্য তার তিন জনের একটি বিক্রয় প্রতিনিধি দলও আছে। কমিশনের ভিত্তিতে ইয়াবা বিক্রি করতেন তারা। গোলজারের বিরুদ্ধে মাদক আইনেও দুটি মামলা রয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএম/এইচএন