শান দিয়ে চলে জীবন সংসার

ঢাকা, শুক্রবার   ৩০ জুলাই ২০২১,   শ্রাবণ ১৬ ১৪২৮,   ১৯ জ্বিলহজ্জ ১৪৪২

শান দিয়ে চলে জীবন সংসার

কাজী মফিকুল ইসলাম, আখাউড়া  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:৪৯ ২০ জুলাই ২০২১   আপডেট: ১৫:৫৬ ২০ জুলাই ২০২১

মো. গিয়াস উদ্দিন

মো. গিয়াস উদ্দিন

মো. গিয়াস উদ্দিন। তার কাঁধে রয়েছে সান দেওয়ার যন্ত্র (প্যাডেল)। আর এক হাতে রয়েছে একটি ব্যাগ। তিনি পায়ে হেঁটে ছুটছেন এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রামে।

দা, ছুরি, চাকু, কাঁচি সান দিয়ে ধারাল করে উপযোগী করাই হলো তার কাজ। আর নিজের তৈরি প্যাডেল মেশিনে হাট বাজার আর গ্রামে গ্রামে ঘুরে শান দেওয়ার কাজ করে তিনি দীর্ঘ গ্রায় ৩০ বছর ধরে জীবিকা চালিয়ে আসছেন। আর এ কাজের আয় দিয়ে তার পরিবার পরিজনের ভরণ পোষণ চলে। 

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া পৌর শহরের তারাগন এলাকায় কথা হয় গিয়াস উদ্দিনের সঙ্গে। তিনি বলেন, তার সংসারে স্ত্রী ২ মেয়ে ১ ছেলে রয়েছে। দীর্ঘ গ্রায় ৪০ বছর ধরে তিনি এ পেশায় কাজ করছেন। তার বাড়ি হবিগঞ্জের মাধবপুর এলাকায়। জীবনের বেশিরভাগ সময় বিভিন্ন হাট বাজার আর গ্রামে গ্রামে ঘুরে ঘুরে শান দেওয়ার মেশিন দিয়ে ধরহীন ছুরি, চাকু দা, কাঁচি মেশিনের প্যাডেলের চাকা ঘষে ধারালো ঝকঝক করে ব্যবহারের উপযোগী করছেন।  এ কাজের আয় দিয়ে তিনি তার এক মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। 

প্যাডেল মেশিনে হাট বাজার আর গ্রামে গ্রামে ঘুরে শান দেওয়ার কাজ করে তিনি দীর্ঘ গ্রায় ৩০ বছর ধরে জীবিকা চালিয়ে আসছেন।

গিয়াস উদ্দিন বলেন, ছোট বেলায় তার বাবা মারা যায়। বাড়ি ছাড়া জায়গা জমি তেমন নেই।  অভাব অনটনের সংসার হওয়ায় স্কুলে পড়াশুনা তার করা হয়নি। ছোট বেলা থেকেই তাকে সংসারের কাজ করতে নানা রকমের পরিশ্রম করতে হয়।

তিনি বলেন, তার সময় যখন ২০ বছর তখন থেকেই তিনি একটি শান দেওয়ার মেশিন তৈরি করে হাটে বাজারে গ্রামে গঞ্জে দা, ছুরি, চাকু, কাঁচি শান দিয়ে ধার উঠানোর কাজ করছেন। এক একটি দা, ছুরি, চাকু ধরন অনুযায়ী শান দিতে ২০-৩০ টাকা তাকে দিতে হয়।  দৈনিক কাজ করে তিনি ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা উপার্জন করছেন বলে জানায়। তবে যে দিন আকাশ ভালো থাকে না ওই দিন কোথাও যাওয়া হয় না। তখন কষ্ট করতে হয়। 

তিনি বলেন, দিন দিন বয়স বাড়ছে। শান দেওয়ার মেশিনটির চাকার প্যাডেল পা দিয়ে সজোরে ঘোরাতে হয়। এতে মেশিনের ওপর একটি পাথরের প্লেট  সজোরে ঘুরতে থাকে। ঘূর্ণায়মান এই পাথরের প্লেটের কার্নিশে লোহার ছুরি, দা, কাঁচি স্পর্শ করলে ঘর্ষণে ধার উঠে। এসময় ঘর্ষণে আগুনের ফুলকি ছিটকে আসে যা শরীল ও চোখের জন্য কিছুটা ঝুকিপূর্ণ। তাছাড়া দুপায়ে অনর্গল প্যাডেল ঘোরানোর কাজ খুবই কঠিন। বার্ধক্যের শরীরে তা না কুলালেও জীবিকার তাগিতে তা ঘুরাতে হয়। এখন আর আগের মতো কাজ করতে পারি না। অন্য কোন কাজ জানা না থাকায় মরার আগ পযর্ন্ত এই শান দেওয়ার কাজ করে বাঁচতে চান তিনি।

প্যাডেল মেশিনে হাট বাজার আর গ্রামে গ্রামে ঘুরে শান দেওয়ার কাজ করে তিনি দীর্ঘ গ্রায় ৩০ বছর ধরে জীবিকা চালিয়ে আসছেন। তিনি আরো বলেন, দরজায় কড়া নাড়তে শুরু করেছে পবিত্র ঈদুল আজহা। আর এই ঈদের অন্যতম কাজ হচ্ছে পশু কোরবানি করা। তাই ঈদের পশু কাটার সরঞ্জাম সবাই কমবেশী প্রস্তুত করছেন। তাই এখন কাজের চাপ অনেকটাই বেশি হওয়ায় কষ্ট করে এলাকায় শান দেওয়ার কাজ করতে আসেন। কাজের চাহিদা ভালো থাকায় আয় ও ভালো হচ্ছে। 

পৌর শহরের তারাগন এলাকায় হাবিব মিয়া বলেন, প্রতি বছর কোরবানির ঈদ উপলক্ষে  তার বাড়িতে থাকা দা, ছুরি শান দিয়ে আসছেন। এই লোকের কাজ খুবই ভালো। গৃহিণী আমেনা বেগম বলেন, দা, ছুরির ধার তুলতে এই লোকের অপেক্ষায় থাকি।  

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে