চট্টগ্রামে আহ্বায়ক কমিটিতে বিপর্যস্ত বিএনপি

ঢাকা, বুধবার   ২৮ জুলাই ২০২১,   শ্রাবণ ১৪ ১৪২৮,   ১৭ জ্বিলহজ্জ ১৪৪২

চট্টগ্রামে আহ্বায়ক কমিটিতে বিপর্যস্ত বিএনপি

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১২:৪৯ ২৫ জুন ২০২১   আপডেট: ১৬:১৪ ২৫ জুন ২০২১

বিএনপির চট্টগ্রাম কার্যালয় - ফাইল ফটো

বিএনপির চট্টগ্রাম কার্যালয় - ফাইল ফটো

মূল কমিটি না থাকায় চট্টগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ তিন সাংগঠনিক এলাকা মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলার কর্মকাণ্ড চলছে আহ্বায়ক কমিটি দিয়ে। এতে দিন দিন দলটি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।

জানা গেছে, তিন মাসের জন্য গঠন করা এসব কমিটির মেয়াদ এরই মধ্যে শেষ হয়ে গেছে। নগর এবং উত্তর জেলার আহ্বায়ক কমিটি গত সাড়ে ৫ মাসেও তৃণমূল পর্যায়ে কোনো কমিটি গঠন করতে পারেনি।

অপরদিকে দক্ষিণ জেলার কমিটি এরই মধ্যে পার করে দিয়েছে দেড় বছর। এ সময়ে কয়েকটি থানা ও পৌরসভা কমিটি গঠন করা হলেও দেখা দেয় চরম অসন্তোষ। ‘অনৈতিক সুবিধা’ নিয়ে কমিটি করার অভিযোগ ওঠে খোদ বিএনপির ভেতর থেকেই। দক্ষিণের একাংশে দেখা দেয় বিদ্রোহ। ঘোষণা করা হয় পাল্টা কমিটি। সেই বিদ্রোহ সামলাতে পরে বহিষ্কার করা হয় দক্ষিণের প্রভাবশালী তিন নেতাকে।

চট্টগ্রাম মহানগরে ডা. শাহাদাত হোসেনকে আহ্বায়ক ও আবুল হাশেম বক্করকে সদস্য সচিব করে চট্টগ্রাম নগর বিএনপির ৩৯ সদস্যের কমিটি ঘোষণা করা হয় গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর। কমিটিকে সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন কমিটি করতে তিন মাস সময় দেয় কেন্দ্র। এর মধ্যে সাড়ে ৫ মাসের বেশি সময় পার হয়ে গেলেও সম্মেলন হয়নি।

নগর বিএনপির একাধিক সূত্র জানায়, দায়িত্ব নেয়ার পরপরই আহ্বায়ক কমিটি ঘর গোছানোর কাজে হাত দেয়। উদ্যোগ নেয়া হয় ১৫টি থানা কমিটি গঠনের। এজন্য নগর কমিটির আহ্বায়ক, সদস্য সচিব ও যুগ্ম আহ্বায়কদের প্রধান করে ১৫টি সাবজেক্ট কমিটি করা হয়। আগের থানা কমিটি ভেঙে নতুন কমিটি গঠনের দায়িত্ব দেওয়া হয় এসব কমিটিকে।

তবে এখন পর্যন্ত কোনো থানাতেই নতুন কমিটি হয়নি। থানা কমিটি করতে দেখা দেয় জটিলতা। কাকে রাখা যায়, কাকে বাদ দেওয়া যায় -এমন প্রশ্নে তৈরি হয় মতবিরোধ। এ অবস্থায় প্রাথমিক পর্যায়েই অনেকটা থেমে যায় সাবজেক্ট কমিটির তৎপরতা। থানা কমিটি না হওয়ায় শিগগিরই নগর কমিটির সম্মেলন হওয়ার সম্ভাবনা নেই। থানা কমিটি গঠনের পর সম্মেলনের মাধ্যমে নগর কমিটি গঠনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

নগর বিএনপির এক নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক ও চান্দগাঁও থানা সাবজেক্ট কমিটির প্রধান এমএ আজিজ বলেন, তিন মাসের জন্য আহ্বায়ক কমিটি করা হয়েছে। তবে আমরা দায়িত্ব নেয়ার কিছুদিন পরই করোনার প্রকোপ বেড়ে যায়। শুরু হয় লকডাউন। তাই ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও এ কমিটি সব কাজ শেষ করে আনতে পারেনি।

অন্তর্কোন্দলে দ্বিধাবিভক্ত পুরনো আহ্বায়ক কমিটি ভেঙে দিয়ে গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর আবারো উত্তর জেলার আহ্বায়ক কমিটি গঠন করে কেন্দ্র। ৪৩ সদস্যের এ কমিটির প্রধান করা হয় বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা গোলাম আকবর খোন্দকারকে।

এ কমিটির সদস্য এমএ হালিম বলেন, আহ্বায়ক কমিটি এরই মধ্যে কয়েকবার বৈঠক করেছে। করোনার কারণে ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন পর্যায়ে গিয়ে নেতাকর্মীদের সঙ্গে বসে তৃণমূল পর্যায়ের কমিটিগুলো করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে সবার সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে থানা কমিটির কাজ গুছিয়ে আনা হচ্ছে। এ নিয়ে আহ্বায়ক গোলাম আকবর খোন্দকার কাজ করছেন।

২০১৯ সালের ২ অক্টোবর ৬৫ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। অন্তর্কোন্দল এড়াতে দক্ষিণের কাউকে দায়িত্ব না দিয়ে এ কমিটির আহ্বায়ক করা হয় নগর বিএনপি নেতা আবু সুফিয়ানকে। ৩ মাসের মধ্যে সম্মেলন ও নতুন কমিটি গঠন করতে বলা হলেও এরই মধ্যে চলে গেছে দেড় বছর। শুরুতেই আহ্বায়ক কমিটির নেতারা বিবাদে জড়িয়ে পড়েন। গত বছরের শেষদিকে ৫টি উপজেলা ও ৪টি পৌরসভা কমিটি ঘোষণা করা হয়।

যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আব্বাসের নেতৃত্বে একটি অংশ অভিযোগ করে, অনৈতিক সুবিধা নিয়ে নিষ্ক্রিয়দের দিয়ে এসব কমিটি করা হয়েছে। এর কয়েকদিন পর সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ৬টি ইউনিটের পাল্টা কমিটিও ঘোষণা করা হয়। অস্থিরতা সামাল দিতে যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আব্বাস, সদস্য শেখ মোহাম্মদ মহিউদ্দিন ও মো. লেয়াকত আলীকে প্রাথমিক সদস্য পদসহ দলের সব ধরনের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয় তখন।

দক্ষিণের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব মোস্তাক আহমদ খান বলেন, দেড় বছরের মধ্যে দুই দফায় প্রায় ১০ মাস করোনার কারণে রাজনৈতিক কার্যক্রম চালানো যায়নি। দক্ষিণে ৮টি থানা, ৬টি পৌরসভা ও নতুন গঠিত উত্তর সাতকানিয়াসহ ১৫টি সাংগঠনিক ইউনিট রয়েছে। এর মধ্যে ১০টির কমিটি গঠন সম্পন্ন হয়েছে। বাকি ৫টির মধ্যে ৩টি চূড়ান্ত পর্যায়ে। শুধু ঘোষণা বাকি। যদি করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয় এবং দলীয় কর্মকাণ্ড পরিচালনায় প্রশাসনিক কোনো বাধা না আসে, তাহলে শিগগিরই সম্মেলনের মাধ্যমে দক্ষিণ জেলার নতুন কমিটি গঠন সম্ভব হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ/টিআরএইচ