পদ্মাসেতুতে রেলওয়ে স্ল্যাব বসানো শেষ

ঢাকা, শনিবার   ৩১ জুলাই ২০২১,   শ্রাবণ ১৬ ১৪২৮,   ২০ জ্বিলহজ্জ ১৪৪২

পদ্মাসেতুতে রেলওয়ে স্ল্যাব বসানো শেষ

মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২০:৫৪ ২০ জুন ২০২১   আপডেট: ২১:০২ ২০ জুন ২০২১

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে স্বপ্নের পদ্মাসেতুর নির্মাণ কাজ। কর্মযজ্ঞের ধারাবাহিকায় সেতুতে সবগুলো স্প্যান বসানোর ৬ মাসের মাথায় এবার শেষ হলো রেলওয়ে স্ল্যাব বসানোর কাজ।

৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটারের মূল সেতুতে বসানো হয়ে গেছে ২ হাজার ৯৫৯টি স্ল্যাব। গতকাল রোববার সকাল ১০টার দিকে সেতুর মুন্সিগঞ্জের মাওয়া প্রান্তে ১২ ও ১৩ নম্বর পিলারের স্প্যানে শেষ রেলওয়ে স্ল্যাব বসানোর কাজ শেষ হয়।

পদ্মাসেতুর উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. হুমায়ুন কবির এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সেতুর মোট ২ হাজার ৯৫৯টি রেলওয়ে স্ল্যাবের মধ্যে গেল শনিবার পর্যন্ত বসানো হয় ২ হাজার ৯৫৮টি। গতকাল রোববার সকাল ৮টার দিকে সর্বশেষ ১টি স্ল্যাব বসানোর কাজ শুরু হয়। বেলা ১০টার দিকে সে কাজ শেষ হয়। এর মধ্য দিয়ে রেলওয়ে স্লাব বসানোর কাজ শেষ হলো।

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশসংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী সূত্রে জানা যায়, ২৪ সেপ্টম্বর ২০১৮ সালে সেতু রেলওয়ে স্ল্যাব বসানোর কাজ শুরু হয়। অর্থ্যাৎ ২ বছর ৮ মাস ২৬ দিন বা ২ বছর ৯ মাসের মাথায় বসানো হলো সবগুলো রেলওয়ে স্ল্যাব। এরপর সেতুর নিচতলায় গ্যাস পাইপ লাইন স্থাপনের পর রেললাইন বসানোর জন্য রেল লিঙ্ক প্রকল্পের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

এদিকে সূত্রে আরো জানা যায়, রেলওয়ে স্ল্যাব বসানোর পাশাপাশি রোডওয়ে স্লাব বসানোর কাজও এগিয়ে চলছে। সেতুর মোট ২ হাজার ৯১৭টি রোডওয়ে স্ল্যাব মধ্যে বসানো হয়েছে ২ হাজার ৬৮৯টি। আর বাকি আছে ২২৮টি। বাকি রোডওয়ে স্ল্যাব বসানোর কাজও এগিয়ে চলছে দ্রুত গতিতে।

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশপ্রসঙ্গত, ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়। ২০১৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর ৩৭ ও ৩৮ নম্বর খুঁটিতে প্রথম স্প্যান বসানোর মধ্য দিয়ে দৃশ্যমান হয় পদ্মাসেতু। এরপর একে একে ৪২টি পিলারে ১৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের ৪১টি স্প্যান বসিয়ে ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ পদ্মাসেতু পুরোপুরি দৃশ্যমান হয়েছে ২০২০ সালের ১০ ডিসেম্বর। একই সঙ্গে চলতে থাকে রোডওয়ে, রেলওয়ে স্ল্যাব বসানোসহ অন্যান্য কাজ।

সেতুর মূল আকৃতি দোতলা। মূল সেতু নির্মাণের জন্য কাজ করছে চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি (এমবিইসি) ও নদী শাসনের কাজ করেছে দেশটির আরেকটি প্রতিষ্ঠান সিনো হাইড্রো কর্পোরেশন। দুটি সংযোগ সড়ক ও অবকাঠামো নির্মাণ করেছে বাংলাদেশের আবদুল মোমেন লিমিটেড। কংক্রিট ও স্টিল দিয়ে নির্মিত হচ্ছে এ সেতুর কাঠামো। 

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএম/আরএইচ