দেশের যে গ্রামে একটিই বাড়ি, ভোটার মাত্র ১৫

ঢাকা, শনিবার   ৩১ জুলাই ২০২১,   শ্রাবণ ১৬ ১৪২৮,   ২০ জ্বিলহজ্জ ১৪৪২

দেশের যে গ্রামে একটিই বাড়ি, ভোটার মাত্র ১৫

ফরিদপুর প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২০:২৮ ২০ জুন ২০২১   আপডেট: ২০:৫৮ ২০ জুন ২০২১

গ্রামটিতে বাড়ি রয়েছে মাত্র একটি

গ্রামটিতে বাড়ি রয়েছে মাত্র একটি

গ্রামটির নাম বিষ্ণুপুর হলেও বেষ্টপুর হিসেবেই লোকজন চেনেন। স্বাধীনতার পর থেকেই গ্রামটি ছোট। প্রায় ৬০ শতাংশ জমির ওপর গড়ে ওঠা এ গ্রামে এক সময় সাত-আটটি বাড়ি ছিল। কিন্তু লোকসংখ্যা কমতে কমতে বাড়ি রয়েছে মাত্র একটি। আর এক বাড়ি নিয়েই এখন একটি গ্রাম। এ গ্রামে ভোটার রয়েছেন মাত্র ১৫ জন।

ছোট্ট এ গ্রামটি ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার রূপাপাত ইউনিয়নে। গ্রামের ওই বাড়িটিতে নয়টি পরিবারে ৩৭ জনের বসবাস। তারা সবাই কৃষি কাজের ওপর নির্ভরশীল।

গ্রামটি বোয়ালমারী উপজেলার দক্ষিণ সীমান্তবর্তী। এর দক্ষিণে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার মহেশপুর ইউনিয়নের জয়নগর আর উত্তরে বোয়ালমারীর টোংরাইল গ্রাম।

বোয়ালমারী উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১০-১২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত রূপাপাত ইউনিয়ন। এর ৬ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত টোংরাইল, সুতালীয়া, বনমালীপুর, কদমী গ্রামের মধ্যবর্তী গ্রাম হলো বিষ্ণুপুর।

বোয়ালমারী উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১০-১২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত রূপাপাত ইউনিয়ন

প্রায় ৬০ শতাংশ জমিতে বিষ্ণুপুর গ্রামটি শুরু থেকেই কয়েকটি হিন্দু পরিবারসহ সাত-আটটি বাড়ি নিয়ে গঠিত ছিল। গ্রামের চারদিকে ফসলি জমি ও কাদামাটিতে পরিবেষ্টিত। খালি পায়ে কাদামাটি ও পানি পেরিয়ে কোনো রকমে ঢুকতে হয় রাস্তাবিহীন ও উন্নয়নবঞ্চিত এই গ্রামে। বছরের ছয় মাস থাকে পানি। বর্ষা এলে টুংরাইল গ্রামের সাঁকো দিয়ে চলাচল করতে হয় গ্রামবাসীদের।

স্থানীয়রা জানায়, গ্রামটিতে যাতায়াতের কোনো রাস্তা নেই। জমির আইল দিয়েই চলাচল করেন তারা। বর্ষা মৌসুমে চারদিকে অথৈ পানিতে ডুবে থাকে। বাড়ির লোকজন নৌকা ছাড়া বের হতে পারেন না।

বিষ্ণুপুর গ্রামের বাসিন্দা ৬০ বছর বয়সী সলেমান মোল্লা জানান, ভোট এলে জনপ্রতিনিধিরা তাদের ভোটের জন্য আসেন। এরপর আর কেউ খবর রাখেন না। ফলে অনেকেই গ্রাম ছেড়ে চলে গেছেন। এখন দুটি পরিবার কোনো রকমে থাকছি। এ গ্রামটিতে বিদ্যুতের ব্যবস্থা করেছেন সাবেক এমপি আব্দুর রহমান। এরপর গ্রামে টেলিভিশন ও মোবাইল ব্যবহার শুরু হয়।

এ গ্রামের সবাই কৃষি কাজের ওপর নির্ভরশীল

আরেক বাসিন্দা হেমায়েত মোল্লা বলেন, আমাদের মূল সমস্যা যাতায়াতের। দেড় কিলোমিটার দূরে প্রাথমিক বিদ্যালয়। আর মাধ্যমিক বিদ্যালয় আরো দূরে। ছেলে-মেয়েরা পড়াশোনা করতে পারে না। গ্রামে কোনো মসজিদও নেই। আধা কিলোমিটার দূরে গিয়ে জুমা আর প্রতি বছর ঈদের নামাজ আদায় করতে হয়।

স্থানীয় ইউপি সদস্য রবিন বিশ্বাস বলেন, গ্রামটিতে রাস্তা তৈরির জন্য বরাদ্দ দেওয়ার পরও রাস্তা করা সম্ভব হয়নি। জমির মালিকরা বাধা দেন। তবে সেখানকার কয়েকজনকে সরকারি ভাতার কার্ডসহ সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়েছে।

বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঝোটন চন্দ্র বলেন, পাশের টুংরাইল গ্রামে গেলেও ওই গ্রামে যাওয়া হয়নি। গ্রামটির বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর