ঝালকাঠি পৌরসভা ও ৩১ ইউনিয়নে ভোট কাল

ঢাকা, শনিবার   ৩১ জুলাই ২০২১,   শ্রাবণ ১৬ ১৪২৮,   ২০ জ্বিলহজ্জ ১৪৪২

কেন্দ্রে কেন্দ্রে পৌঁছেছে নির্বাচনী সরঞ্জাম

ঝালকাঠি পৌরসভা ও ৩১ ইউনিয়নে ভোট কাল

ঝালকাঠি প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৯:২৭ ২০ জুন ২০২১  

ঝালকাঠি পৌরসভা ও জেলার ৩১ ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামীকাল সোমবার। রোববার কেন্দ্রে কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে নির্বাচনী সরঞ্জাম।

ঝালকাঠি পৌরসভা ও জেলার ৩১ ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামীকাল সোমবার। রোববার কেন্দ্রে কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে নির্বাচনী সরঞ্জাম।

ঝালকাঠি পৌরসভা ও জেলার ৩১ ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামীকাল সোমবার। রোববার কেন্দ্রে কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে নির্বাচনী সরঞ্জাম।

নির্বাচন সুষ্ঠু করতে সব রকমের প্রস্তুতি নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। প্রতিটি কেন্দ্রে আনসার ও পুলিশ সদস্য এবং ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে র‍্যাব সদস্য মোতায়েন থাকবে। এ ছাড়া নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করবেন।

নির্বাচনী আইন অনুযায়ী, ভোটগ্রহণের ৩২ ঘণ্টা আগে প্রচার শেষ হওয়ার কথা। সে অনুযায়ী বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে ভোটের প্রচার শেষ হয়েছে। প্রচারের শেষ মুহূর্তের কিছু ঘটনা উদ্বেগ বাড়িয়েছে, জানান দিয়েছে শঙ্কার কথাও।

সোমবার অনুষ্ঠিতব্য ভোট নিয়ে সেই উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ও শঙ্কার কথা বিবেচনায় রেখে নির্বাচন কমিশন (ইসি) বাড়তি সতর্কতা হিসেবে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এ ব্যাপারে পৌরসভা নির্বচনের রিটার্নিং অফিসার ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. কামাল হোসেন জানান, আমরা সতর্ক। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে যা যা করার সবই করা হবে।

সোমবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ঝালকাঠি পৌরসভা ও ৫টি ইউনিয়নে ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম)পদ্ধতিতে এবং ২৬টি ইউনিয়নে ব্যালটে ভোটগ্রহণ করা হবে। এরই মধ্যে ভোটগ্রহণের জন্য অধিকাংশ প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।

জেলা নির্বাচন অফিস সূত্র জানায়, সুষ্ঠু ভোটগ্রহণের জন্য পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, ম্যাজিস্ট্রেট, বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি) ও আনসার মোতায়েন করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রয়োজনে আরো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হবে।

এই নির্বাচন নিয়ে ভোটার ও প্রার্থীদের মধ্যে যেমন উত্তেজনা রয়েছে, তেমনি শঙ্কাও বিদ্যমান। এই ঘটনা ভোটের মাঠের পরিবেশ নিয়ে আরো শঙ্কা বাড়িয়েছে। ফলে সেখানে নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ন্ত্রণে মাঠে নিয়োগ দেয়া হয়েছে পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য।

এ নির্বাচনে দুটি রাজনৈতিক দল তাদের নিজস্ব প্রতীক নিয়ে এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা অংশ নিচ্ছে। তবে ভোটের আগেই তিন ইউনিয়ন ও পৌরসভার ৩ কাউন্সিলর বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।

৪ উপজেলার ৩২ ইউনিয়ন নিয়ে জেলা গঠিত হলেও ২ বছর আগে অনুষ্ঠিত হওয়া সদর উপজেলার পোনাবালিয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় নির্বাচনে বিজয়ী জনপ্রতিনিধিদের মেয়াদ শেষ হয়নি। এ কারণে পোনাবালিয়া বাদে জেলার ৩১ ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।  

ঝালকাঠি জেলা নির্বাচন অফিসার অহিদুজ্জামান মুন্সি জানান, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, ম্যাজিস্ট্রেট, নির্বাচনী এলাকাগুলোতে বিজিবি, পুলিশ, আনসার ছাড়াও থাকছেন মোবাইল টিম ও স্ট্রাইকিং ফোর্সের সদস্য।

নির্বাচনী এলাকায় মোটরসাইকেল চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। ট্রাক ও পিকআপ চলাচলের ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ইসি। তবে জরুরি প্রয়োজনের গাড়ি এবং হাইওয়ে নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে।

জানা যায়, ঝালকাঠি পৌরসভা ও জেলার ৩১টি ইউনিয়নে আগামীকাল সোমবারে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন পৌর মেয়র পদে ৩ জন, সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে পৌর এলাকায় ১৬ জন, সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৩১ জন এবং ইউপি চেয়ারম্যান পদে ১০১ জন, সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে ৩০৭ জন এবং সাধারণ সদস্য পদে ৯৯৯জন। 

৩১৩টি কেন্দ্রের ১ হাজার ৫০২টি কক্ষে এ ভোটগ্রহণ হবে। ৪ লাখ ৭৩ হাজার ৬৪০ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। ৩১৩টি কেন্দ্রে ৩১৩ জন প্রিজাইডিং অফিসার, ১ হাজার ৫০২টি কক্ষে ১ হাজার ৫০২ জন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার এবং ৩ হাজার ৪ জন পোলিং অফিসার দায়িত্ব পালন করবেন। 

ঝালকাঠি সদর থানার ওসি খলিলুর রহমান জানান, পৌর এলাকার মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র রয়েছে ১ নম্বর ওয়ার্ডের সরকারি কলেজ, বিকনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, ৩ নম্বর ওয়ার্ডের জেলা পরিষদ, ৬ নম্বর বাসন্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ইছানীল মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কিফাইতনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মসজিদ বাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (সিটি পার্ক), কলাবাগান সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এছাড়া ইউপি নির্বাচনে সবগুলো কেন্দ্রকেই গুরুত্বপুর্ণ ধরে নেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। 

সূত্র জানায়, ঝালকাঠি পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকে বর্তমান মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগ সভাপতি লিয়াকত আলী তালুকদার, স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক মেয়র আফজাল হোসেন নারিকেল গাছ প্রতীকে ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত হাতপাখা প্রতীকে হাবিবুর রহমান প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।  

পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের ৩টিতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় কাউন্সিলর নির্বাচিত হওয়ায় ৬টি ওয়ার্ডে ৩১ জন এবং সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে ১৬ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। পৌর এলাকায় ২২টি ভোটকেন্দ্রে ১৩১ কক্ষে ২২ জন প্রিজাইডিং অফিসার, ১৩১ জন সহকারী প্রিজাইডিং ও ২৬২ জন পোলিং অফিসার দায়িত্ব পালন করবেন। পৌর এলাকায় ৩৯ হাজার ৬৩৬ জন ভোটারের মধ্যে ১৯ হাজার ৪৭৬ জন পুরুষ ও ২০ হাজার ১৬০ জন নারী ভোটার রয়েছেন। 

অপরদিকে জেলার ৩১টি ইউনিয়নের মধ্যে ৫টি ইউনিয়নে ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) পদ্ধতিতে ভোট গ্রহণ করা হবে। এতে  আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের  চেয়ারম্যান প্রার্থীসহ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ২০ জন। সংরক্ষিত সদস্য পদে ৪৯ জন এবং সাধারণ সদস্য পদে ১৫৫ জনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।  ৪৮টি ভোটকেন্দ্রের ২৪০টি কক্ষে ৪৮জন প্রিজাইডিং অফিসার, ২৪০জন সহকারী প্রিজাইডিং ও ৪৮০জন পোলিং অফিসার দায়িত্ব পালন করবেন। এ ৫টি ইউনিয়নে ৭৪ হাজার ৮২৯ জন ভোটারের মধ্যে ৩৮ হাজার ১৮৪ জন পুরুষ ও ৩৬ হাজার ৬৪৫জন নারী ভোটার রয়েছেন। 

এনালগ পদ্ধতির ব্যালট পেপারের মাধ্যমে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ২৬টি ইউনিয়নে। চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থীসহ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৮১জনে। সংরক্ষিত সদস্য পদে ২৫৮ জন এবং সাধারণ সদস্য পদে ৮৪৪ জনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ২৪৩টি ভোট কেন্দ্রের ১১৩১টি কক্ষে ২৪৩ জন প্রিজাইডিং অফিসার, ১ হাজার ১৩১জন সহকারী প্রিজাইডিং ও ২ হাজার ২৬২জন পোলিং অফিসার দায়িত্ব পালন করবেন। 

২৬টি ইউনিয়নে ৩ লাখ ৫৯ হাজার ১৭৫ জন ভোটারের মধ্যে ১ লাখ ৮২ হাজার ৭৫৩ জন পুরুষ ও ১ লাখ ৭৬ হাজার ৪২২ জন নারী ভোটার রয়েছেন। ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রকে চিহ্নিত করেছেন নির্বাচন পরিচালনা কমিটি।  

ঝালকাঠি পৌর নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. কামাল হোসেন এবং ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা অহিদুজ্জামান মুন্সি জানান, ২১ জুন সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করতে এরই মধ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। কেন্দ্রে কেন্দ্রে নির্বাচনী সরঞ্জাম পাঠানো হয়েছে। যাতে জনসাধারণ নির্বিঘ্নে ও নির্দ্বিধায় ভোট দিতে পারেন। তারা আরো জানান, নির্বাচনকালী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের পাশাপাশি বিজিবি ও র‌্যাব মাঠ পর্যায়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে। 

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে