স্বপ্নের ঘর পাবে ৯২৫ পরিবার

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২৯ জুলাই ২০২১,   শ্রাবণ ১৪ ১৪২৮,   ১৮ জ্বিলহজ্জ ১৪৪২

স্বপ্নের ঘর পাবে ৯২৫ পরিবার

নেত্রকোনা প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ০২:৪৫ ১৯ জুন ২০২১   আপডেট: ০২:৪৫ ১৯ জুন ২০২১

প্রকৃতির সবুজ মাঠে উপর সবুজ রঙে রঙিন টিনের তৈরি করা সারি সারি পাকা ঘরগুলো কাজও পুরোপুরি শেষ

প্রকৃতির সবুজ মাঠে উপর সবুজ রঙে রঙিন টিনের তৈরি করা সারি সারি পাকা ঘরগুলো কাজও পুরোপুরি শেষ

রঙিন টিন আর দেয়ালের সাদা রঙ দূর থেকেই নজর কাড়ে। প্রকৃতির সবুজ মাঠে উপর সবুজ রঙে রঙিন টিনের তৈরি করা সারি সারি পাকা ঘরগুলো কাজও পুরোপুরি শেষ। এখন শুধু অপেক্ষা ঘরে উঠার। এ যেন স্বপ্নের ঘর। আর এই স্বপ্নের ঘরেই নতুন জীবন শুরু করবেন মানুষ।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় এভাবেই নেত্রকোনায় গড়ে উঠেছে মানুষের স্বপ্নের ঘর। হাওরসহ জেলার ১০ উপজেলায় ৯২৫ ছিন্নমূল ও অসহায় পরিবার জমিসহ সেমিপাকা এই ঘরগুলো উপহার হিসেবে পেতে যাচ্ছে। আগামী ২০ জুন এসব পরিবারের কাছে জমির দলিল হস্তান্তর করবে জেলা প্রশাসন ।

ঘরগুলো হাতে পেতে আর একদিনেরও সময়ের অপেক্ষা পরিবারগুলোর। এই অপেক্ষাই যেন অধীর আগ্রহে কাটাচ্ছেন গৃহহীন, ছিন্নমূল, অসহায় দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মানুষগুলো। দিনের বেশিরভাগ সময়েই ঘরের সামনেই দেখা মিলবে তাদের। তাদের স্বপ্ন ভরা দুচোখে শুধু ভেসে ওঠে রঙিন টিনের পাকা ঘর। যে মানুষগুলো একসময় পথে-ঘাটে কিংবা ভাঙাচোরা ঘরে জীবন যাপন করেছেন তাদের কাছে এই ঘর যেন বিশাল প্রাপ্তি।

শেষ মুহূর্তের কাজ পরিদর্শন করছেন জেলা প্রশাসক

স্বপ্নের এই ঘরগুলোর নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা।  ঘর প্রতি দুটি কক্ষ,একটি রান্না ঘর, টয়লেট ও সামনে খোলা বারান্দা রয়েছে। রয়েছে পয়োনিষ্কাশন ও বিদ্যুতের ব্যবস্থাও। সরকারের এই প্রকল্পে জমিসহ একেকটি ঘর যেন একেকজন গৃহহীন মানুষের বাস্তবে পরিণত হওয়া স্বপ্ন। গৃহহীনরা পাকা দালান পাবে, এটি তারা কখনো কল্পনাও করেনি। এ অবস্থায় ঘর পাওয়ার আনন্দে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তারা।

জেলার ১০ উপজেলায় প্রথম দফায় ঘর ও জমি দেওয়া হয়েছে মোট ৯৬০জন ভূমিহীন ও গৃহহীন হতদরিদ্র মানুষকে এবার দ্বিতীয় ধাপে জেলার ১০ উপজেলায় নির্মিত হচ্ছে ৯২৫টি ঘর। এর মধ্যে দুর্গাপুরে ৩৫টি, জেলা সদরে ৪৪টি, বারহাট্টায় ২৫টি, কলমাকান্দায় ৫০টি, আটপাড়ায় ৫০টি, কেন্দুয়ায় ৫৬টি, মোহনগঞ্জে ৭৫টি, মদনে ৮০টি, খালিয়াজুরীতে ৪০০টি ও পূর্বধলায় ২০টি।

এরই মধ্যে জেলা প্রশাসক কাজি মো. আবদুর রহমান জেলার বিভিন্ন উপজেলায় নির্মানাধীণ ঘর পরিদর্শন করেছেন ।

বারহাট্টা. আটপাড়া, খালিয়াজুরী, পূর্বধলা,মোহনগঞ্জসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় প্রধানমন্ত্রীর উপহারের নির্মিত ঘর ঘুরে দেখা গেছে, এসব ঘরে হতদরিদ্র ছিন্নমূল মানুষ বসবাস করছেন। তারা কেউ রিকশা চালান, কেউবা অন্যের বাড়িতে কাজ করেন। আবার কেউ ক্ষুদ্র ব্যবসা এবং মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন।

বারহাট্টার সাহতা গ্রামে নির্মিত প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ঘরের বাসিন্দা বড়গাঁওয়া গ্রামের বিলকিস বেগম বলেন,আমরা গরিব মানুষ। দিন আনি দিন খাই, পাকা ঘরের চিন্তা কোনো দিনই করতে পারিনি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে ঘর করে দিয়েছে। তাকে আল্লাহ আরো অনেক দিন বাঁচিয়ে রাখুক- এই দোয়াই করি।

উপহারের ঘর পেতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে গৃহহীন পরিবারগুলো

নেত্রকোনার পূর্বধলার নারায়নডহর গ্রামের প্রধানমন্ত্রীর উপহারের নির্মিত ঘর শুক্রবার বিকেলে পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক কাজি মো. আবদুর রহমান।

এ সময় তিনি বলেন, প্রথম ধাপের ঘরগুলো দরিদ্র পরিবারের মাঝে আগেই বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। জেলার ১০ উপজেলায় দ্বিতীয় ধাপে ৯২৫টি নির্মিত ওই সমস্ত ঘরের কাগজপত্র ও জমির দলিল মালিকদের কাছে আগামী ২০ জুন বুঝিয়ে দেওয়া হবে। এসব ঘর যাতে সুষ্ঠু সুন্দরভাবে নির্মিত হয় এবং দরিদ্র পরিবারের সদস্যরা যাতে ভালোভাবে বসবাস করতে পারে সেভাবেই নির্মাণ করা হচ্ছে।

জেলার গৃহহীন ৯২৫টি পরিবারের স্বপ্ন এবার সত্যি হওয়ার পথে। এভাবেই একে একে পূর্ণ হবে সব গৃহহীন মানুষের স্বপ্ন, আস্তে আস্তে ঘুচে যাবে দুঃখ দুর্দশা, এমনটাই প্রত্যাশা এলাকার মানুষের।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ