সীমানা পেরিয়ে যুক্তরাজ্যে নওগাঁর আম্রপালি

ঢাকা, সোমবার   ০২ আগস্ট ২০২১,   শ্রাবণ ১৮ ১৪২৮,   ২২ জ্বিলহজ্জ ১৪৪২

সীমানা পেরিয়ে যুক্তরাজ্যে নওগাঁর আম্রপালি

নওগাঁ প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২০:১৩ ১৮ জুন ২০২১   আপডেট: ১৮:২৪ ২৪ জুন ২০২১

সীমানা পেরিয়ে যুক্তরাজ্যে নওগাঁর আম্রপালি 

সীমানা পেরিয়ে যুক্তরাজ্যে নওগাঁর আম্রপালি 

দেশে আমের জেলা হিসেবে পরিচিত পেয়েছে নওগাঁ। জেলার বরেন্দ্র এলাকা সাপাহার, পোরশা ও নিয়ামতপুর উপজেলা এবং পত্নীতলার আংশিক এলাকা। এসব এলাকা আম্রপালি আমের জন্য বিখ্যাত। 

আমগুলো অত্যন্ত সুস্বাদু ও সুমিষ্ট। এ বছর জেলার সাপাহার উপজেলার আম্রপালি (বারি আম-৩) জাতের আম দেশের সীমানা পেরিয়ে যুক্তরাজ্যে রফতানি করা হয়েছে। উপজেলার ‘বরেন্দ্র এগ্রো পার্ক’ এর মালিক সোহেল রানা তার নিজস্ব বাগান থেকে বিশেষ প্রক্রিয়ায় বিদেশে আমগুলো রফতানি করেন। 

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার ফ্লাইটে আম্রপালি আমের প্রথম চালান (এক টন) যুক্তরাজ্যের উদ্দেশে রওয়ানা করেছে। তরুণ উদ্যোক্তা সোহেল রানার সাপাহার গোডাউন পাড়ায় ‘বরেন্দ্র এগ্রো পার্ক’ এ ১৪০ বিঘা জমিতে আড়াই বছর বয়সি প্রায় দেড় হাজার পিস আম্রপালি গাছ রয়েছে। যেখান থেকে এ বছর প্রায় ৪০ টনের মতো আম পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। গাছের বয়স কম হওয়ায় একটু আগে পুরু হয়েছে। কারণ গাছের বয়স বেশি হলে আম দেরীতে পাকতে শুরু করে। 

বিদেশে আম রফতানি করার জন্য পূর্ব প্রস্তুতি হিসেবে বিভিন্ন পদ্ধতি গ্রহণ করেছেন। উত্তম কৃষি চর্চা পদ্ধতি বিশেষ করে- সুষম ও জৈব সার, নিয়মিত কীটনাশক ও ছত্রাকনাশক এবং সারা বছরই পরিচর্চা করতে হয়। কারণ রোগবালাই মুক্ত আমই বিদেশে যায়। বিশেষ করে ১৫ দিন আগে গাছে সব ধরনের স্প্রে বন্ধ করতে হয়। এ মেয়াদ শেষ হলে তার আর কার্যকারিতা থাকে না। এতে করে মানুষের শরীরের ক্ষতি করতে পারে না। 

 ‘বরেন্দ্র এগ্রো পার্ক’ এর মালিক সোহেল রানা তার নিজস্ব বাগান থেকে বিশেষ প্রক্রিয়ায় বিদেশে আমগুলো রফতানি করেন। 

সাধারণ চাষিরা কয়েকদিন আগে কীটনাশক স্প্রে করে বাজারে নিয়ে যায়। কিন্তু বিদেশে যেসব আম রফতানি করা হয় সেগুলো ঢাকাতে কোয়ারেন্টাইন হয়। আমের কোনো রোগবালাই বা কীটনাশক আছে কিনা। তারপর বিদেশে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয় বলে জানান সোহেল। 

তরুণ উদ্যোক্তা সোহেল রানা বলেন, বুধবার হারভেস্ট করে বিশেষ প্রক্রিয়ায় প্যাকেজিং করা হয়। এরপর রাতে পিকআপে ঢাকায় পাঠানো হয়। বৃহস্পতিবার সারাদিন রফতানির যাবতীয় প্রসিডিউর শেষ করে সন্ধ্যায় এক ফ্লাইটে ঢাকা থেকে বিলেতে যাত্রা করেছে। এতে আমের রাজধানী সাপাহারে সম্ভাবনার নতুন এক দ্বার উন্মোচিত হবে বলে তিনি মনে করছেন। 

সাপাহারের আম বিশ্ব বাজারে একটি ব্র্যান্ড হিসেবে জায়গা করে নিতে পারবে বলে তিনি আশাবাদী। আমাদের বরেন্দ্র এগ্রো পার্ক এর বাগানে বারি’র উর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. শরফ উদ্দিনের তত্ত্বাবধানে উৎপাদিত আম্রপালি আমের প্রথম চালান ইংল্যান্ডের উদ্দেশে রওয়ানা করেছে। এ বছর প্রায় ১০ টন আম রফতানি করা হবে। আগামি সপ্তাহে এক টন বরাদ্দ আসতে পারে। এক্সপোর্টারের কাছে প্রায় চার হাজার টাকা মণ দরে বিক্রি করেছি। 

তিনি বলেন, এ অঞ্চলের বেশির ভাগ আমই আম্রপালি এবং অনেক সুস্বাদু। আমাদের মধ্যে সচেতনা ছিল না কিভাবে আম বিদেশে রফতানি করার উপযোগী করতে হয়। এটার ওপর আমরা বিভিন্ন প্রশিক্ষণ নিয়েছি। বিভিন্ন দেশ সুইডেন ও ফিনল্যান্ড থেকেও আমরা ডাক পাচ্ছি। আমার দেখাদেখি অনেকেই উৎসাহিত হবে কিভাবে আম রফতানি করতে পারবে। স্থানীয় বাজারে দাম কম পেলেও দেশের বাইরে ভালো একটা দাম পাওয়া যাবে। এতে আমরা লাভবান হতে পারবো। 

নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলার দিবর ইউপির রূপগ্রাম গ্রামের কৃষক আজিজার রহমানের ছেলে সোহেল রানা। তিনি নিম্ন মধ্যবিত্ত কৃষক পরিবারের ছেলে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিষয়ে স্নাতকোত্তর করেন। কিছুদিন ঢাকায় চাকরি করার পর ছেড়ে দিয়ে ২০১৫ সালে নিজ গ্রামের খাড়িপাড়া এলাকায় পৈতৃক ১২ বিঘা জমির ওপর গড়ে তোলেন সমন্বিত কৃষি খামার। নাম দেন ‘রূপগ্রাম এগ্রো ফার্ম’। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। মেধা, পরিশ্রম আর অটুট নৈতিক মনোবলের কারণে তিনি এখন ১৪০ বিঘা জমিতে পৃথক দুটি সমন্বিত কৃষি খামার গড়ে তুলেছেন। তার সমন্বিত কৃষি খামার এখন এলাকার শিক্ষিত বেকার যুবকদের অনুপ্রেরণার উৎস এবং মডেল উদ্যোগ।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে/আরএম