বাঁশের সাঁকোয় মরণ ফাঁদ 

ঢাকা, মঙ্গলবার   ০৩ আগস্ট ২০২১,   শ্রাবণ ১৯ ১৪২৮,   ২৩ জ্বিলহজ্জ ১৪৪২

বাঁশের সাঁকোয় মরণ ফাঁদ 

আবুল বাসার আব্বাসী, মানিকগঞ্জ ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৭:১৫ ১৬ জুন ২০২১   আপডেট: ১৭:৩০ ১৬ জুন ২০২১

বাঁশের সাঁকোয় মরণ ফাঁদ 

বাঁশের সাঁকোয় মরণ ফাঁদ 

মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে যাত্রাপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যলয় সংলগ্ন ইছামতি নদীর ওপর নির্মিত ২০০ ফুট লম্বা বাঁশের সাঁকোটি এলাকাবাসীর জন্য এখন মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। 

সংস্কারের অভাবে যাতায়াতের ক্ষেত্রে জনসাধারণের দুর্ভোগ দিন দিন বেড়েই চলেছে। জরুরি ভিত্তিতে সাঁকোটি সংস্কার না করা হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, দড়িকান্দী, সট্রি, আগ্রাইল, যাত্রাপুর, খলিলপুরসহ চালা ও গালা দুইটি ইউপির দশটি গ্রামের জেলা, উপজেলা এবং লেছড়াগঞ্জের সঙ্গে সড়কপথে  যাতায়াতের একমাত্র সংযোগস্থল যাত্রাপুরের এই বাঁশের পুল। 

আগে এ ঘাটে পাড়াপাড়ের জন্য খেয়া নৌকা ছিলো। প্রায় ৩০ বছর আগে এলাকাবাসী খেয়া নৌকার পরিবর্তে নদীর ওপর বাঁশের পুল নির্মাণ করে। আট বছর আগে নদীর ওপর নয় লাখ টাকা ব্যয়ে ইট, বালু, সিমেন্ট দিয়ে আরসিসি করে কাঠের চালি দিয়ে সাঁকো নির্মাণ করা হয়। কিন্তু নির্মাণের দুই বছর না যেতেই কাঠের চালি নষ্ট হয়ে যায়। যাতায়াতের দুর্ভোগ এড়াতে এলাকাবাসী কাঠের পরিবর্তে বাঁশ দিয়ে কোনো রকম জুড়াতালি দিয়ে যাতায়াতের ব্যবস্থা করেন। ওই স্থানে স্থায়ী ভিত্তিতে পাকা ব্রিজ নির্মাণের দাবিতে গত ১১ জুন মানব বন্ধন করেছেন এলাকাবাসী।  

বাঁশের সাঁকোয় মরণ ফাঁদ 

যাত্রাপুর গ্রামের মো’ জামাল উদ্দীন বলেন, প্রায় ৩০ বছর ধরে এই ভাঙ্গাচূড়া বাঁশের পুল দিয়ে যাতায়াত করছি। চোখের সামনে কতজনকে পুল থেকে পড়ে যেতে দেখছি। একবার পশ্চিম খলিলপুর গ্রামের মো. হারেজ মিয়া পার হতে গিয়ে পুল থেকে নিচে পড়ে তার হাত ভেঙে যায়। তার মতো অনেকেই এমন দুর্ঘটনার স্বীকার হয়েছেন।

পশ্চিম খলিলপুর গ্রামের ব্যবসায়ী সজিব আহাম্মেদ জানান, জনগুরুত্বপূর্ণ এই সাঁকোটির ওপর দিয়ে প্রতিদিন স্কুল, কলেজের শিক্ষার্থীসহ দুটি ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছে। এরই মধ্যে সাঁকো থেকে পড়ে অনেকেরই হাত-পা ভেঙে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। এর আগে এলাকাবাসী যৌথভাবে প্রায় ৫০ হাজার টাকা খরচ করে নতুন করে বাঁশের চালি দিয়েছিলেন। তা ভেঙে গিয়ে সাঁকুটি এখন মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। 

জনসাধারণের যাতায়াতের সুবিধার্থে জনগুরুত্বপূর্ণ স্থানটিতে বাঁশের পরিবর্তে একটি পাকা ব্রিজ নির্মাণের দাবি জানান তিনি।

জনগুরুত্বপূর্ণ স্থানটিতে বাঁশের পরিবর্তে একটি পাকা ব্রিজ নির্মাণের দাবি জানান এলাকাবাসী

বয়ড়া ইউপি চেয়ারম্যান জাহিদুর রহমান তুষার বলেন, কয়েক বছর আগে ত্রাণ ও পুনর্বাসন অধিদফতর থেকে একটি প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েিেছল। কিন্তু দৈর্ঘ্য বেশি হওয়ায় ব্রিজটি করা সম্ভব হয়নি। 

তিনি আরো বলেন, ইউপিতে ৩০-৪০ ফুটের ছোট কাজ আসে। তবুও অতি জনগুরুত্বপূর্ণ ভেবে কাঠের সাঁকোর পরিবর্তে পাকা ব্রিজের জন্য চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু দুইশ ফুট লম্বা বড় কাজ বলে এটা ইউপির এখতিয়ার বহির্ভূক্ত । তাই সম্ভব হয়নি।

এ ব্যাপারে হরিরামপুর ইউএনও সাবিনা ইয়াসমিন জানান, বয়ড়া ও চালা ইউপির মধ্যবর্তী সড়কটি এলজিইডির দায়িত্বে। যাত্রাপুর এলাকায়  ইছামতি নদীর ওপর একটি পাকা ব্রিজ নির্মাণের জন্য তাদের কাছে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। ব্রিজটি নির্মাণের প্রকল্প দ্রুতই বাস্তবায়ন হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি। 

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে