জাহাঙ্গীরের ড্রাগন বাগান শুধু আয়ের উৎস নয়, আবেগ প্রশমনের স্থানও

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২৯ জুলাই ২০২১,   শ্রাবণ ১৪ ১৪২৮,   ১৮ জ্বিলহজ্জ ১৪৪২

জাহাঙ্গীরের ড্রাগন বাগান শুধু আয়ের উৎস নয়, আবেগ প্রশমনের স্থানও

প্রদীপ কুমার দেবনাথ, বেলাব (নরসিংদী)  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৬:৩১ ১৬ জুন ২০২১   আপডেট: ১৯:২৬ ১৬ জুন ২০২১

নরসিংদীর বেলাবতেও বিদেশি ড্রাগন ফল চাষ করে সফলতা পেয়েছেন মো. জাহাঙ্গীর আলম। 

নরসিংদীর বেলাবতেও বিদেশি ড্রাগন ফল চাষ করে সফলতা পেয়েছেন মো. জাহাঙ্গীর আলম। 

বর্তমান সময়ে ড্রাগন ফল চাষ অনেক সৌখিন মানুষের শখ ও পেশায় পরিণত হয়েছে। বিদেশি এ ফল চাষে আগ্রহ বাড়ছে প্রতিদিন। নরসিংদীর বেলাবতেও বিদেশি ড্রাগন ফল চাষ করে সফলতা পেয়েছেন মো. জাহাঙ্গীর আলম। 

গতানুগতিক ফুল ও ফল চাষের বৃত্ত থেকে বেরিয়ে এসে নতুন নতুন জাতের এ ফল চাষে এরই মধ্যে সফল উদ্যোক্তা ও সৃজনশীল কৃষক হিসেবে সুনাম কুড়িয়েছেন উপজেলার বিন্নাবাইদের মো. জাহাঙ্গীর আলম। 

২০১৬ সালে তিনি পাটুলী ইউপির ভাবলা গ্রামে মাত্র ১৫ শতাংশ জায়গায় ৫০ টি ড্রাগন চারা রোপণের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু করেন। মাত্র ১ বছরেই তিনি তার বাগানের ৪১ টি গাছে ফুল দেখতে পান এবং এ বছরই ফল পান। ফলগুলো ৪৫০-৫০০ টাকা দরে বিক্রি করেন। এরপর তিনি আরো বেশি জমিতে ফল চাষ করেন এবং বর্তমানে প্রায় ৫০০ টি ড্রাগন ফল গাছ রয়েছে তার ৬৫ শতক জায়গায়। লাভজনক হওয়ায় ড্রাগন চাষ সম্প্রসারণ করেছেন। এখন ছড়িয়ে দিতে চান দেশব্যাপী। চাষি জাহাঙ্গীর আলম ক্রমাগত নতুন নতুন চাষে নিজের ভাগ্যের পরিবর্তনের পাশাপাশি তিনি কৃষকদের পথিকৃৎ হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন।

নরসিংদীর বেলাবতেও বিদেশি ড্রাগন ফল চাষ করে সফলতা পেয়েছেন মো. জাহাঙ্গীর আলম। 

ড্রাগন চাষি ও সফল এ উদ্যোক্তা বলেন, নানা কারণে সংসার চালাতে খুব হিমশিম খাচ্ছিলাম এক সময়। তারপর টেলিভিশনের প্রতিবেদন ও বন্ধুদের মাধ্যমে অবগত হয়ে ২০১৬ সালে প্রথমে পরীক্ষামূলক ড্রাগন চাষ করি। খরচ কম ও ভালো উৎপাদনে যথেষ্ট লাভবান হই। তাই আবারো আরো অধিক জমিতে এ ফল চাষ করি। বর্তমানে অনেক সচ্ছল। ড্রাগনের ওপর বিভিন্ন গবেষণা ও নতুন নতুন উদ্ভাবনগুলো লক্ষ্য করি এবং প্রয়োজনে নতুন চারা সংগ্রহ করি। আমার উৎপাদিত চারা কিনে মানুষ এখন বিভিন্ন এলাকায় এ ফলের বাগান করছে। এ ফল চাষে রাসায়নিক সার প্রয়োগ করতে হয় খুবই কম। সাধারণত গোবর ও মুরগির বিষ্ঠা প্রয়োগ করা হয়। পাকা ফল ফ্রিজিং বাদেই ১৫ দিন ভালো থাকে। বর্তমানে স্থানীয় বাজার, পার্শ্ববর্তী উপজেলা, জেলা থেকে ফল ও চারা নিতে আসেন মানুষ। ঢাকায় ড্রাগন ফলের চাহিদা বেশি।

জানা যায়, বছরে ৫ থেকে ৬ বার একটি ড্রাগন গাছ ফল দেয়। জাহাঙ্গীর আলমের কাছ থেকে চারা নিয়ে উপজেলার টঙ্গীরটেক, হাড়িসাংগান, পোড়াদিয়া, বিন্নাবাইদ, উজিলাবতে আরো কয়েকটি ড্রাগন বাগান গড়ে উঠেছে। 

জাহাঙ্গীর আলম জানান, এ ফলের প্রতি মানুষের আগ্রহও প্রবল। তবে আধুনিক পদ্ধতির এ ফল চাষে সরকারের চাষিদের পাশে থেকে ঋণ, প্রণোদনা ও সার্বিক সহযোগিতা করা প্রয়োজন।

নরসিংদীর বেলাবতেও বিদেশি ড্রাগন ফল চাষ করে সফলতা পেয়েছেন মো. জাহাঙ্গীর আলম। 
  
বেলাব উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাজিম উর রউফ খান বলেন, বাংলাদেশে এ ফলের চাষ এখনো ব্যাপকভাবে শুরু হয়নি। উপজেলায় জাহাঙ্গীর আলমসহ বেশ কয়েকজন চাষি ক্যাকটাস প্রজাতির এ ফলের চাষ শুরু করেছেন। এই ফলটি লাল, হলুদ, গোলাপিসহ বিভিন্ন রঙের হয়। রঙের কারণে অধিক পুষ্টিগুণসম্পন্ন এ ফল চোখকে সুস্থ রাখে, শরীরের চর্বি কমায়, রক্তের কোলেস্টেরল কমায়, উচ্চ রক্তচাপ কমানোসহ বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ করে। এ ফলের গুণ অনেক। তাই আরো অধিক এ ফল উৎপাদনে আমার শতভাগ সহযোগিতা থাকবে।

তিনি আরো জানান, ঢাকায় এ ফলের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। স্থানীয় বাজারেও এ ফল বিক্রি শুরু হয়েছে। চাষিদের হটিকালচারের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ এবং ছাদ বাগানের বিষয়ে উৎসাহিত করা হয়। এ উপজেলায় সম্ভাবনাময় এ ফলের অধিক চাষে ব্যাপক ক্যাম্পেইন করব শিগগিরই। বর্তমানে জাহাঙ্গীরের এ ড্রাগন বাগান শুধু আয়ের উৎস নয়, উৎসুক দর্শনার্থীদের আবেগ প্রশমনের স্থানও এটি। প্রতিদিন বিকেলে বিভিন্ন এলাকার মানুষ ড্রাগন বাগান দেখতে দূরদূরান্ত থেকে এখানে আসে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে/জেএইচ