মা-বাবার দ্বন্দ্বের বলি নবজাতক

ঢাকা, শুক্রবার   ০৬ আগস্ট ২০২১,   শ্রাবণ ২২ ১৪২৮,   ২৬ জ্বিলহজ্জ ১৪৪২

মা-বাবার দ্বন্দ্বের বলি নবজাতক

চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২২:০৯ ১৫ জুন ২০২১  

স্বামী-স্ত্রী (বাঁয়ে) নবজাতক (ডানে)

স্বামী-স্ত্রী (বাঁয়ে) নবজাতক (ডানে)

শিশুটি পৃথিবীর আলো দেখার আগেই মা-বাবার বিচ্ছেদ হওয়ার সালিশ। সিদ্ধান্ত ছিল ‘শিশুটির জন্মের পর তাদের ছাড়াছাড়ি হবে।’ স্বাভাবিক প্রসবে শিশুটি জন্মও নিল, কিন্তু ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। তবে শিশুটির মৃত্যু নিয়ে একে অপরের দোষ দিচ্ছেন বাবা-মা।

রোববার রাতে যশোর জেনারেল হাসপাতালে স্বাভাবিকভাবে মেয়ে সন্তানটি প্রসব করেন উম্মে সালমা মলি নামে এক নারী। কিন্তু জন্মের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই শিশুটি মারা যায়। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক এম আব্দুর রশিদ বলেন, এটি অস্বাভাবিক মৃত্যু।

শিশুটির বাবার নাম নাসির উদ্দিন রাব্বি। তিনি জেলার চৌগাছা উপজেলার বড়খানপুর গ্রামের আতিয়ার রহমানের ছেলে। উম্মে সালমা মলির বাড়ি যশোর শহরের ষষ্ঠিতলাপাড়া এলাকায়।

নাসির উদ্দিন রাব্বি বলেন, রোববার রাত ২টার দিকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে স্বাভাবিকভাবে মেয়ে সন্তান জন্ম দেন আমার স্ত্রী। পরদিন বেলা ১২টার দিকে স্ত্রী আমাকে কোনো কিছু না বলে মেয়েকে নিয়ে তড়িঘড়ি হাসপাতাল থেকে চলে যান।

বেলা ২টার দিকে আমাকে ফোনে বলেন, আমি কারবালা এলাকায় মেয়েকে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছি, নিয়ে যাও। বিকেল ৫টার দিকে মোবাইল ফোনে এক পুলিশ সদস্য বলেন, তোমার মেয়ের মৃত্যু হয়েছে, লাশ এখন হাসপাতাল মর্গে রয়েছে। আমাকে সেখানে যেতে বলা হয়।

নবজাতক মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

রাব্বি বলেন, মলি যশোর সরকারি মহিলা কলেজে এবং আমি যশোর এমএম কলেজে পড়ি। প্রেমের সম্পর্কে ১১ মাস আগে আমাদের বিয়ে হয়। কিন্তু খালাতো ভাইয়ের সঙ্গে মলির পরকীয়া সম্পর্ক ছিল। সে কারণে বাবার বাড়ি ষষ্ঠিতলায় থাকতেন তিনি। অনেক চেষ্টা করেও মলিকে চৌগাছায় নিয়ে রাখতে পারিনি।

তিনি আরো বলেন, এ নিয়ে পুলিশ, স্থানীয় চেয়ারম্যান-মেম্বাররা একাধিক সালিশ বৈঠকও করেছে। সালিশের সিদ্ধান্ত ছিল, পেটের বাচ্চা ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর আমাদের ছাড়াছাড়ি হবে। কিন্তু মলি নিজের সুখের জন্য শিশুটিকে হত্যা করেছে।

উম্মে সালমা মলি বলেন, ‘সন্তান গর্ভে আসার পর খাওয়া-পরা দিতেন না রাব্বি। অপুষ্টি, চিকিৎসা সেবা না দেয়া আর আমাকে অবহেলা করা হয়। মেয়ের জ্বর, সর্দি-কাশি ও শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল; হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। সিদ্ধান্ত আগেই ছিল, তার সঙ্গে আর থাকব না।

তার অভিযোগ, রাব্বির তিনজন বান্ধবী রয়েছে। এছাড়া আরো দুই নারীর সঙ্গে তার পরকীয়া সম্পর্ক।

চৌগাছা উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান কামাল হোসেন জানান, সালিশ-বিচারে সিদ্ধান্ত ছিল, মলির গর্ভের শিশুটি জন্ম নেয়ার পর স্বামী-স্ত্রী আলাদা হয়ে যাবে। কিন্তু শিশুটির জন্মের পর অল্প সময়ের মধ্যে মৃত্যু খুবই রহস্যজনক। এছাড়া সন্তানের মৃত্যুতে মায়ের চোখে কোনো পানি নেই- এটা খুবই অস্বাভাবিক ব্যাপার।

যশোর জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক এম আব্দুর রশিদ জানান, শিশুটির মৃত্যু অস্বাভাবিক। বিষয়টি খুবই স্পর্শকাতর। ফরেনসিক বিভাগের ডাক্তারদের বোর্ড বসিয়ে ময়নাতদন্ত করতে হবে।

যশোর কোতোয়ালি থানার ওসি মো. তাজুল ইসলাম বলেন, শিশুটির লাশ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এলে মৃত্যুর আসল কারণ জানা যাবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর