কুপ্রস্তাব দেয়ায় অটোচালকের পায়ের রগ কেটে হত্যা করেন তারা

ঢাকা, মঙ্গলবার   ০৩ আগস্ট ২০২১,   শ্রাবণ ১৯ ১৪২৮,   ২৩ জ্বিলহজ্জ ১৪৪২

কুপ্রস্তাব দেয়ায় অটোচালকের পায়ের রগ কেটে হত্যা করেন তারা

পাবনা প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৯:৩০ ১৫ জুন ২০২১  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

পাবনার সাঁথিয়ায় সেলিম হোসেন নামে এক অটোরিকশা চালকের পায়ের রগ কেটে হত্যার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার দুপুরে পাবনা জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে এই তথ্য জানান পুলিশ সুপার মহিবুল ইসলাম খান। 

পুলিশ সুপার জানান, পুলিশি তদন্ত ও তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় হত্যাকারীদের শনাক্ত করা হয়। গত ১২ জুন ভোর সাড়ে ৬টার দিকে ঢাকা জেলার ধামরাই থানার নওগাঁ বাজারের জনৈক বক্করের ইটভাটা হতে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতাররা হলেন- সাঁথিয়া ছোন্দহ এলাকার মো. সাঈদ মোল্লা ছেলে রাসেল হোসেন, সাঁথিয়া বহলবাড়িয়া পূর্বপাড়া মো. সোলেমান ছেলে মো. রানা শেখ, একই এলাকার মোছা. শীলা খাতুন ও স্বামী মো. আল-আমিন এবং ওয়াজেদ সরদারের ছেলে হোসেন আলী। 

পুলিশ সুপার আসামিদের প্রাথমিক স্বীকারোক্তির বরাত দিয়ে জানান, বহলবাড়িয়া গ্রামের গৃহবধূ শীলা খাতুনকে অটোরিকশা চালক সেলিম মাঝে মধ্যেই উত্যক্ত করতেন এবং কুপ্রস্তাব দিতেন। শীলা একপর্যায়ে বিষয়টি তার স্বামী আল-আমিনকে জানান। এরপর তার স্বামী অন্য সহযোগীদের নিয়ে সেলিমকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। গ্রেফতার আসামিরা মূলহোতা আল-আমিনের বাড়িতে গত ৯ জুন দুপুরে সেলিমকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। হত্যার পর সেলিমের অটোরিকশাটি বিক্রি করে টাকা ভাগ-বটোয়ারা করে নিবেন বলেও তারা সিদ্ধান্ত নেন।  

সেলিমের অটোরিকশা আছে তাই তাকে সহজেই পরিকল্পিত জায়গায় নেয়া যাবে বলে তারা পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনা মোতাবেক আসামিরা ৯ জুন বিকেল ৫টার দিকে সাঁথিয়া উপজেলার মাহমুদপুর নামক স্থানে একত্রিত হন। সেলিমকে রিজার্ভ ভাড়ার কথা বলে মাহমুদপুর বাজারে আসতে বলা হয়। সেলিম মাহামুদপুর বাজারে আসার পর আসামি রাসেল, রানা, আল আমিন, সাগর এবং হোসেন ঢাকা-পাবনা মহাসড়কের পাশে সাঁথিয়া উপজেলার বহলবাড়িয়ায় যাওয়ার কথা বলেন। বহলবাড়িয়ার কাছে কালুকাটায় পৌঁছার পর তারা গাঁজা সেবনের কথা বলে সবাই পাশে একটি পাটক্ষেতে যান। এ সময় অটোরিকশাটি মহাসড়কের পাশে রাখা ছিল। রাত ৯টার দিকে অটোরিকশা চালক সেলিম গভীর নেশাগ্রস্ত হয়ে যান। এ সময় আসামিরা ছুরি দিয়ে কুপিয়ে এবং হাতুরি দিয়ে আঘাত করে সেলিমকে হত্যা করেন। 

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

পরে আসামিরা অটোরিকশা নিয়ে সাঁথিয়া উপজেলার আতাইকুলা বাজারে যান। সেখানে অটোরিকশা বিক্রি করে টাকা ভাগাভাগি করে নেন। ১০ জুন সাঁথিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের হয়। 

পুলিশ সুপার আরো জানান, মামলাটি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মাসুদ আলমের নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম কাজ শুরু করে। মৃতের শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখে পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করেছিল যে, পূর্বপরিকল্পিত এবং প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। 

তদন্ত ও তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় হত্যাকারীদের দ্রুত শনাক্ত করা হয়। এরপর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মাসুদ আলমের নেতৃত্বে সাঁথিয়া থানার একটি টিম গত ১২ জুন ভোরে ৫ আসামিকে গ্রেফতার করে। আসামিদের সোমবার (১৪ জুন) আদালতের মাধ্যমে পাবনা জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। এদের মধ্যে রাসেল হোসেন, রানা শেখ এবং দেলোয়ার হোসেন আদালতে ১৬৪ ধারায় দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি প্রদান করেছেন। অন্য পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি। 

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএম