গোসলের নগ্ন ভিডিও দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২৯ জুলাই ২০২১,   শ্রাবণ ১৪ ১৪২৮,   ১৮ জ্বিলহজ্জ ১৪৪২

গোসলের নগ্ন ভিডিও দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ

রংপুর প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২১:৩৬ ১৪ জুন ২০২১  

অভিযুক্ত আরিফুল ইসলাম

অভিযুক্ত আরিফুল ইসলাম

রংপুরে গোসলের ভিডিও ধারণ করে ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে গৃহবধূকে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে। এছাড়া মোটা অংকের টাকাও আদায় করেছেন অভিযুক্ত আরিফুল ইসলাম।

ঘটনাটি ঘটেছে নগরীর ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাহার কাছনা এলাকায়। তবে অভিযুক্ত আরিফুল প্রভাবশালী হওয়ায় বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানান ভুক্তভোগী গৃহবধূ।

তিনি জানান, আরিফুলের পরিবারের পক্ষ নিয়েছে পুলিশ ও স্থানীয় মাতব্বররা। থানায় ধর্ষণের মামলা নিতে গড়িমসি করে পুলিশ। উল্টো আরিফুলের পরিবারের করা মারধরের মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এছাড়া তার পরিবারও হুমকিতে রয়েছে।

এদিকে ফোনে নগ্ন ভিডিও ধারণ ও জিম্মি করে ধর্ষণের ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর পরিবারের লোকজনসহ গা ঢাকা দিয়েছেন আরিফুল।

মামলা এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত এপ্রিলে ওই গৃহবধূ গোসল করছিলেন। ওই সময় গোপনে টিনের বেড়ার ফাঁক দিয়ে ভিডিও ধারণ করেন পার্শ্ববর্তী আব্দুর রাজ্জাকের বখাটে ছেলে আরিফুল। এরপর সেই গোসলের ভিডিও দেখিয়ে আরিফুল ওই গৃহবধূর কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা না দিলে ভিডিওটি ফেসবুকে ভাইরাল করে দেবে বলে হুমকি দেন।

সংসার বাঁচাতে বিষয়টি গোপন রেখে জমি কেনার জন্য জমা করা ৪০ হাজার টাকা আরিফুলকে দেন ওই গৃহবধূ। একই সঙ্গে ভিডিওটি ফেসবুকে না ছড়ানোর জন্য অনুরোধ করেন। এর কিছুদিন পর ফের ওই গৃহবধূকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ৬০ হাজার টাকা আদায় করেন আরিফুল।

৯ এপ্রিল রাতে স্বামীর অনুপস্থিতিতে ওই গৃহবধূর বাড়িতে ঢুকে আরো ১০ হাজার টাকা দাবি করেন আরিফুল। ওই সময় চিৎকার করলে ভিডিওটি ফেসবুকে ছড়িয়ে দেবে বলে হুমকি দেন। একপর্যায়ে তাকে ধর্ষণ করেন।

পরদিন একইভাবে ওই গৃহবধূর বাড়িতে ঢুকে ধর্ষণ করেন আরিফুল। এছাড়া ধর্ষণের ভিডিওটি ফোনে ধারণ করেন। পরে কয়েকজন বন্ধুকে ধর্ষণের ভিডিওটি দেখান আরিফুল। এরপর বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হয়।

ভুক্তভোগী গৃহবধূর ভাসুর বলেন, বিষয়টি মীমাংসার জন্য নিজের বাড়িতে আমাদের ডাকেন আরিফুলের বাবা। এরপর আমরা যাই। কিন্তু সেখানে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিকল্পনা অনুযায়ী আমাদের ওপর হামলা চালান আরিফুলের বাবা আব্দুর রাজ্জাক, চাচা রেজাউল ইসলাম, ইসলামুল হক। এ ঘটনার পর থানায় মামলা করতে গেলে টালবাহানা শুরু করে পুলিশ। এছাড়া ঘটনাটি মীমাংসার জন্য বলা হয়। এখন আরিফুলের পরিবার আমাদের নিয়মিত হুমকি দিচ্ছে। আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।

ভুক্তভোগী ওই গৃহবধূ জানান, তার গোসলের ভিডিও ধারণ করে ভয় দেখিয়ে জমি কেনার জমানো এক লাখ টাকা নিয়েছে আরিফুল। আরো টাকা না দেয়ায় ভিডিও ছড়িয়ে দেয়ার কথা বলে তাকে দুবার ধর্ষণ করেছেন।

তিনি বলেন, আমরা গরিব বলে কেউ আমাদের পাশে নেই। ধর্ষণের ঘটনা কি মীমাংসা করা যায়? আমি আরিফুলের ফাঁসি চাই।

স্থানীয় বাসিন্দা অজিহার আলী বলেন, আমরা ওই গৃহবধূকে নিয়ে থানায় মামলা করতে গিয়েছিলাম। প্রথমে ওসি মামলা নেননি, উল্টো আরিফুলের পক্ষ নেন। পরে আরিফুলের স্বীকারোক্তিমূলক কল রেকর্ড নিয়ে থানায় অভিযোগ করি।

এ বিষয়ে আরিফুলের দাদা মাদরাসার দফতরি আফছার আলী বলেন, আমার নাতির নামে মিথ্যা অভিযোগ তুলেছে তারা। আমার নাতি পলাতক নয়, সে ঢাকায় চাকরির খোঁজে গেছে।

এ বিষয়ে হারাগাছ থানার ওসি রেজাউল করিম বলেন, বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। ঘটনাটি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দেখছেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর