ত্রিভুজ প্রেম রূপ নিল রক্তস্রোতে, থমথমে পুরো কুষ্টিয়া

ঢাকা, মঙ্গলবার   ০৩ আগস্ট ২০২১,   শ্রাবণ ১৯ ১৪২৮,   ২৩ জ্বিলহজ্জ ১৪৪২

ত্রিভুজ প্রেম রূপ নিল রক্তস্রোতে, থমথমে পুরো কুষ্টিয়া

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৮:৫৭ ১৩ জুন ২০২১   আপডেট: ১৯:১০ ১৩ জুন ২০২১

হত্যাকাণ্ডের পর দোকান বন্ধ করে দেন ব্যবসায়ীরা

হত্যাকাণ্ডের পর দোকান বন্ধ করে দেন ব্যবসায়ীরা

এএসআই সৌমেনের কর্মস্থল বদলি হওয়ার পর থেকেই যোগাযোগ বন্ধ করে দেন আসমা। এরপর বিকাশকর্মী শাকিলের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান তিনি। তবে এ সম্পর্ক মেনে নিতে পারেননি সৌমেন। আসমার প্রতি ক্ষোভ জমিয়ে রাখেন মনে। সেই ক্ষোভ থেকেই দিনদুপুরে প্রকাশ্যে সাবেক স্ত্রী-সন্তানসহ তিনজনকে গুলি করে হত্যা করেন সৌমেন।

রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে কুষ্টিয়া শহরের কাস্টমস মোড় এলাকায় নাজ ম্যানশন মার্কেটের একটি বিকাশের দোকানের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

আরো পড়ুন: ছুটি না নিয়ে রাতেই কুষ্টিয়ায় আসেন এএসআই, সকালে স্ত্রী-সন্তানকে হত্যা

নিহতরা হলেন- সৌমেনের সাবেক স্ত্রী আসমা, তার সাত বছরের ছেলে রবিন ও ছেলে বন্ধু শাকিল। তাদের সবার বাড়ি কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার সাওতা গ্রামে। শাকিল একজন বিকাশকর্মী ছিলেন।

স্থানীয়রা জানায়, আসমার প্রথম স্বামীর সন্তান ছিল রবিন। স্বামীর সঙ্গে ছাড়াছাড়ির পর বছরখানেক আগে সৌমেনের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান তিনি। কিন্তু কর্মস্থল বদলি হওয়ার পর সৌমেনকে ছেড়ে বিকাশকর্মী শাকিলের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান আসমা।

আরো পড়ুন: সৌমেনকে ছেড়ে শাকিলের সঙ্গে সম্পর্কই কাল হলো আসমার

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নাজ ম্যানশন মার্কেটে বিকাশের দোকানে বিকাশকর্মী ছেলে বন্ধু শাকিলের সঙ্গে দেখা করতে আসেন আসমা। এ সময় আসমার সঙ্গে তার ছেলে রবিনও ছিল। হঠাৎ সেখানে হাজির হন আসমার সাবেক স্বামী এএসআই সৌমেন। মার্কেটের ভেতরে প্রথমেই শাকিল ও আসমার মাথায় গুলি চালান তিনি। এ সময় রক্ত দেখে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে রবিন। কিন্তু তাকেও ছাড়েননি সৌমেন। তেড়ে ধরে তার মাথায়ও গুলি চালান।

এসব দৃশ্য দেখে ইট-পাটকেল ছুড়ে সৌমেনকে থামানোর চেষ্টা করেন উপস্থিত লোকজন। খবর পেয়ে পুলিশও ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। একপর্যায়ে ধরা দেন সৌমেন। পরে স্থানীয়রা তিনজনকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিলে চিকৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

আরো পড়ুন: রক্ত দেখে দৌড়ে পালানো শিশুর মাথায় গুলি করেন এএসআই

পুলিশের একটি সূত্র জানায়, সৌমেন কুষ্টিয়ার হালশা ক্যাম্পে থাকা অবস্থায় কুমারখালী উপজেলার সাওতা গ্রামের আসমার সঙ্গে পরিচয় হয়। এরপর আসমার সঙ্গে তার বিয়ে হয় বলে দাবি পুলিশের। পরে সৌমেন (বর্তমান পোস্টিং) খুলনার ফুলতলা থানায় বদলি হন। ফুলতলায় গেলে তার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন আসমা। এরপর বর্তমান ছেলে বন্ধু বিকাশকর্মী শাকিলকে নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন তিনি। এতে ক্ষেপে যান সৌমেন। সেই ক্ষোভ থেকেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন।

কুষ্টিয়া মডেল থানার ওসি সাব্বিরুল ইসলাম বলেন, ঘটনার পরই অভিযুক্তকে আটকে করে পুলিশে দিয়েছে স্থানীয়রা। হত্যাকাণ্ডের কারণ জানা যায়নি। তদন্ত চলছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর