বছরে ৬ মাস কাটে দুর্ভোগে

ঢাকা, শনিবার   ৩১ জুলাই ২০২১,   শ্রাবণ ১৬ ১৪২৮,   ২০ জ্বিলহজ্জ ১৪৪২

বছরে ৬ মাস কাটে দুর্ভোগে

এমাদুল হক (শামীম), শরণখোলা (বাগেরহাট)  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৭:১৮ ১২ জুন ২০২১  

দুর্ভোগের রাস্তা: ছবি ডেইলি বাংলাদেশ

দুর্ভোগের রাস্তা: ছবি ডেইলি বাংলাদেশ

বর্ষা মৌসুম এলেই চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়তে হয় বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার সাউথখালী ইউনিয়নের প্রায় ৪০ হাজার মানুষের। দেশের সর্ব-দক্ষিণে অবস্থিত এ উপজেলাটি ৪টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। যার আনুমানিক জনসংখ্যা ২ লাখ। 

উপজেলার ধানসাগর, খোন্তাকাটা ও রায়েন্দা ইউনিয়নের যাতায়াত ব্যবস্থা ভালো হলেও দীর্ঘদিন ধরে সাউথখালী ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডের সড়কগুলোর কোনো সংস্কার না হওয়ায় ইউনিয়নটির যাতায়াত ব্যবস্থা একেবারেই ভেঙে পড়েছে। যার ফলে প্রসাশনিক এবং স্বাস্থ্যসেবাসহ নানা সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন ওই ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ। 

বর্ষা মৌসুমে উপজেলা সদর থেকে ওই ইউনিয়নবাসীকে অনেকটা বিচ্ছিন্ন অবস্থায় থাকতে হয়। তবে, উন্নয়নমুখী সরকারের আমলে দীর্ঘদিন ধরে ইউনিয়নটি চরম অবহেলিত থাকায় সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধিদের  দুষছেন স্থানীয় জনসাধারণ।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রায় ৩৫কিলোমিটারের আয়তনের ওই ইউনিয়নটির ১ নম্বর সোনাতলা, ৩ নম্বর দক্ষিণ তাফালবাড়ী, ৮ নম্বর চালিতাবুনিয়া, ৫ নম্বর উত্তর-সাউথখালী, ৯ নম্বর খুড়িয়াখালী, ৬ নম্বর দক্ষিণ-সাউথখালী এবং ৭ নম্বর বগী ওয়ার্ডের জনগুরুত্বপূর্ণ একাধিক ব্রিজ, কালভার্টসহ ১৪-১৫টি সড়ক নুতন করে সংস্কার না হওয়ায়  সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বেড়েই চলছে। 

প্রতি বছরের বরাদ্দকৃত এডিপি, টিআর, কাবিখা ও কাবিটাসহ উন্নয়ন তহবিলের সরকারি বরাদ্দ নয়-ছয় হওয়াসহ জন প্রতিনিধিদের উধাসীনতার কারণে সাউথখালীর যোগাযোগ ব্যবস্থা বহু বছর ধরে ভঙ্গুর অবস্থায় পড়ে আছে। 
ওই ইউনিয়নটির যোগাযোগ নিয়ে স্থানীয় বিভিন্ন ওয়ার্ডের কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, আমাদের ইউনিয়নটির মতো শরণখোলায় আর কোনো রাস্তা-ঘাট  নেই। আমাদের এ দুর্ভোগ জন প্রতিনিধিদের চোখে পড়ে না। স্কুল-কলেজ, মাদরাসা ও উপজেলা সদরে যাতায়াতের সময় হাঁটু সমান কাদা ভেঙে নারী-পুরুষ, শিশু ও অসুস্থ রোগী নিয়ে চলাচল করতে হয়। সরকারের কাছে আমরা এ দুর্ভোগ থেকে  আমরা  জনসাধারণ মুক্তি চাই।

সাউথখালী ইউনিয়নের কয়েকজন ইউপি সদস্য বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এ ইউনিয়নের রাস্তা-ঘাটের অবস্থা খারাপ। বছরের প্রায় ৬ মাস এমন অবস্থা থাকায় এলাকাবাসীর মধ্যে দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়।

বগী এলাকার এক সমাজ সেবক বলেন, হাঁটু পরিমাণ কাঁদা ভেঙে চলাচলের এমন দৃশ্য এখন আর কোথাও দেখা যায় না। এডিপি, এলজিএসপি, টিআর-কাবিখাসহ উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন তহবিল থেকে এ জনকল্যাণমূলক কাজগুলো করার কথা। কিন্তু এই ইউনিয়নের অবস্থা দেখে মনে হয় এ অঞ্চলে সরকারের উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। তাহলে সরকারি অর্থ যায় কোথায়?

সংশ্লিষ্ট  ইউপি চেয়ারম্যান মো. মোজাম্মেল হোসেন, সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের কথা স্বীকার করে বলেন,  বিভিন্ন ওয়ার্ডের একাধিক রাস্তা-ঘাটসহ ইউনিয়নের গুরুত্বপুর্ণ স্থাপনা নির্মাণের জন্য স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের পাশাপাশি অনেক দফতরে  এরই মধ্যে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। এছাড়া গত কয়েক বছরে যে টুকু সরকারি বরাদ্দ পেয়েছি তা সমহারে প্রত্যেক ওয়ার্ড়ে বণ্টন করে দিয়েছি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরদার মোস্তফা শাহিন বলেন, ইউনিয়নটির জনসাধারণের দুর্ভোগ লাঘবের জন্য উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ