তাবিজ করার কথা বলে ছেলেকে কোদাল দিয়ে কুপিয়ে মারলেন বাবা

ঢাকা, বুধবার   ২৮ জুলাই ২০২১,   শ্রাবণ ১৩ ১৪২৮,   ১৭ জ্বিলহজ্জ ১৪৪২

তাবিজ করার কথা বলে ছেলেকে কোদাল দিয়ে কুপিয়ে মারলেন বাবা

গাজীপুর প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৬:২৫ ১২ জুন ২০২১  

ঘটনাস্থলে পিবিআই’র কর্মকর্তারা

ঘটনাস্থলে পিবিআই’র কর্মকর্তারা

গাজীপুরে মাদরাসাছাত্র বিপ্লব হোসেন আকন্দ হত্যার রহস্য উদঘাটন ও হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত বাবা বাবুল হোসেন আকন্দ এবং তার সহযোগী ভাগনি জামাই এমদাদুলকে গ্রেফতার করেছে পিবিআই।

বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৩টার দিকে তাদেরকে গাজীপুর উপজেলার পিরুজালী থেকে গ্রেফতার করা হয়।

পিবিআই গাজীপুর ইউনিট ইনচার্জ (পুলিশ সুপার) মোহাম্মদ মাকছুদের রহমান জানান, গত ৮মার্চ রাত ৮টা ১০মিনিটে ভিকটিম বিল্পব আকন্দ মসজিদে নামাজ পড়ার কথা বলে ঘর থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয়।

পরদিন সকালে জয়দেবপুর থানাধীন পিরুজালী বকচরপাড়ার সানাউল্লাহ মুন্সির বাঁশ ঝাড়ের পাশে ফাঁকা জায়গা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ভিকটিমের মা খাদিজা আক্তার বাদী হয়ে জয়দেবপুর থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

মামলাটি থানা পুলিশ ১ মাস তদন্ত করে রহস্য উদঘাটন করতে না পারায় তদন্তভার পিবিআই গাজীপুর জেলার উপর অর্পিত হয়।

ওই পুলিশ কর্মকর্তা আরো জানান, আসামি বাবুল হোসেন আকন্দ ১২ বছর আগে তার আপন ছোট ভাইয়ের স্ত্রী জুলিয়াকে বিয়ে করেন এবং পৈতৃক ২ কাঠা জমি বিক্রি করে টাঙ্গাইলে তার বাবার বাড়িতে ঘর তৈরি করে দেয়। কিন্তু জুলিয়া সেখানে বিভিন্ন ছেলেদের সঙ্গে চলাফেরা করায় বাবুল তাকে নিয়ে পিরুজালীতে বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করতে থাকে। 

জুলিয়া প্রায়ই বাবুলের বড় স্ত্রী খাদিজাকে মারধর করত। ফলে খাদিজার সঙ্গে জুলিয়ার ঝগড়া লেগেই থাকতো। ঘটনার ৩ মাস আগে বাবুলের সঙ্গে জুলিয়া ঝগড়া করে তার ছোট মেয়েকে নিয়ে (বাবার বাড়ি) টাঙ্গাইল চলে যায়। অপর আসামি এমদাদ সম্পর্কে বাবুলের ভাগনি জামাই। 

এমদাদের সঙ্গে বাবুলের দ্বিতীয় স্ত্রী জুলিয়ার গোপন সম্পর্ক ছিল। এ সম্পর্কের সুযোগে জুলিয়া এমদাদকে বিভিন্ন বুদ্ধি পরামর্শ দিত এবং বাবুলে প্রথম স্ত্রীকে ঘরছাড়া করার চেষ্টা করতো। ঘটনার ১০ দিন জুলিয়া পিরুজালী এসে এমদাদের সঙ্গে দেখা করে ভিকটিমকে হত্যা করার জন্য বাবুলকে রাজী করাতে বলে। পরবর্তীতে বাবুল এমদাদুলের পরামর্শে তার ছোট ছেলে ভিকটিম বিপ্লব আকন্দকে খুন করার পরিকল্পনা করেন। 

পরে ভিকটিম নারায়ণগঞ্জ মাদরাসা থেকে বাসায় ছুটিতে আসার পর ঘটনার দিন বাবুল ভিকটিমকে নিয়ে এশার নামাজ পড়ার জন্য বাসা থেকে বের হয়। এ সময় বাবুল তার ছোট স্ত্রীকে তাবিজ করার কথা বলে ভিকটিমকে দিয়ে প্রতিবেশী খালেকের বাসা থেকে একটি কোদাল আনায়। 

পরিকল্পনা অনুযায়ী এমদাদ ভিকটিমকে সেভেন আপ এর সঙ্গে নেশা জাতীয় ওষুধ মিশিয়ে খাওয়ায় এবং বাবুল ছেলেকে নিয়ে পিরুজালী বকচরপাড়ার সানাউল্লাহ মুন্সির চালা জমির বাঁশ ঝাড়ের পাশে ফাঁকা জায়গায় নিয়ে যায়। এরই মধ্যে ভিকটিম ঝিমিয়ে পড়তে থাকে এবং বাড়ি যাওয়ার কথা বলে মাটিতে শুয়ে পড়ে। 

ঠিক তখন বাবুল কোদাল দিয়ে বিপ্লবের গলায় কোপ দেয়। এ সময় ভিকটিম লাফিয়ে উঠার চেষ্টা করলে বাবুল পুনরায় কোদাল দিয়ে ভিকটিমের শরীরের বিভিন্নস্থানে আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করে এবং কোদালটি পার্শ্ববর্তী ঢাকাইয়ার ধানের জমিতে ফেলে বাসায় চলে যায়। পরবর্তীতে এমদাদ বাবুলের কথামতো কোদালটি সেখান থেকে নিয়ে তার বাসায় লুকিয়ে রাখে। আসামিরা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ