মৃত্যুর আগে দুই পায়ে তিনজনের নাম লিখে গেলেন গৃহবধূ

ঢাকা, বুধবার   ০৪ আগস্ট ২০২১,   শ্রাবণ ২০ ১৪২৮,   ২৪ জ্বিলহজ্জ ১৪৪২

মৃত্যুর আগে দুই পায়ে তিনজনের নাম লিখে গেলেন গৃহবধূ

বরিশাল প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২১:৪০ ১১ জুন ২০২১   আপডেট: ২১:৪২ ১১ জুন ২০২১

পায়ে লিখে রাখা নাম

পায়ে লিখে রাখা নাম

বরিশালের আগৈলঝাড়ায় টুম্পা অধিকারী নামে এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। আত্মহত্যার আগে হাঁটুর নিচে কলম দিয়ে মৃত্যুর জন্য দায়ী করে স্বামী, ভাসুর ও জা’র নাম লিখে রাখেন।

বুধবার বিকেলে টুম্পার লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায় পুলিশ। বৃহস্পতিবার দুপুরে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে তার লাশ হস্তান্তর করা হয়।

এ ঘটনায় বুধবার রাতে টুম্পার স্বামী স্বপন মণ্ডল, ভাসুর বিবেক মণ্ডল ও জা রীতা রানী মণ্ডলের বিরুদ্ধে আগৈলঝাড়া থানায় মামলা করেন টুম্পার বোন কল্পনা অধিকারী। ওই রাতেই অভিযুক্ত স্বামী স্বপন মণ্ডলকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার দুপুরে স্বপনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। স্বপন মণ্ডল মাদারীপুরের ডাসার থানার নবগ্রাম এলাকার বঙ্কিম মণ্ডলের ছেলে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আগৈলঝাড়া থানার এসআই মো. মিশু জানান, টুম্পার সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করার সময় হাঁটুর নিচের অংশের দুই পায়ে কলম দিয়ে মৃত্যুর কারণ ও মৃত্যুর জন্য দায়ী স্বামী, ভাসুর ও জা’র নাম দেখা যায়। এছাড়া তার মায়ের শ্মশানের কাছে সৎকার করার কথা লেখেন তিনি।

আগৈলঝাড়া থানার ওসি গোলাম ছরোয়ার জানান, ১১ বছর আগে পারিবারিকভাবে টুম্পার সঙ্গে স্বপনের বিয়ে হয়। শ্বশুরবাড়িরসহ অন্যান্যদের অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে স্বামীকে নিয়ে আগৈলঝাড়া উপজেলার রামানন্দেরআক গ্রামে বাবার বাড়িতে থাকতেন টুম্পা। জমিজমাসহ পারিবারিক নানা বিষয়ে সুরহা করতে মঙ্গলবার সকালে শ্বশুরবাড়ি মাদারীপুরের নবগ্রাম এলাকায় যান তিনি।

এ সময় টুম্পাকে অশ্রাব্য ভাষায় অপমান করে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেন ভাসুর বিবেক মণ্ডল ও তার স্ত্রী রীতা রানী মণ্ডল। তবে এর প্রতিবাদ করেননি স্বামী স্বপন মণ্ডল। আগে থেকে তিনি স্ত্রীর ওপর নির্যাতন করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ কারণে টুম্পা ওই রাতেই বাবার বাড়ি ফিরে বিষপান করে আত্মহত্যা করেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর