অলৌকিকভাবে দুধ দিচ্ছে ৭ মাসের বাছুর 

ঢাকা, মঙ্গলবার   ১৫ জুন ২০২১,   আষাঢ় ১ ১৪২৮,   ০৩ জ্বিলকদ ১৪৪২

অলৌকিকভাবে দুধ দিচ্ছে ৭ মাসের বাছুর 

সাইফুল ইসলাম রয়েল, কলাপাড়া (পটুয়াখালী) ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:৩৫ ১১ জুন ২০২১   আপডেট: ০৮:৫২ ১২ জুন ২০২১

সিন্দি প্রজাতির এ বাছুরটি অলৌকিকভাবে প্রতিদিন দুধ দিচ্ছে ৩ থেকে সাড়ে তিন লিটার।

সিন্দি প্রজাতির এ বাছুরটি অলৌকিকভাবে প্রতিদিন দুধ দিচ্ছে ৩ থেকে সাড়ে তিন লিটার।

বাছুরটির বয়স মাত্র ৭ মাস। এখানো পান করছে মায়ের দুধ। কিন্তু অলৌকিকভাবে সেই বাছুরই প্রতিদিন দুধ দিচ্ছে ৩ থেকে সাড়ে তিন লিটার।

অবিশ্বাস্য হলেও ব্যতিক্রমী এ ঘটনায় বিস্ময় সৃষ্টি করেছে মানুষের মনে। ফলে কৌতুহল নিয়ে সিন্দি প্রজাতির এ বাছুরটিকে এক নজর দেখতে প্রতিদিন কৃষকের বাড়িতে ভিড় করছে অসংখ্য মানুষ। 

আবার অনেকেই আল্লাহর নেয়ামত বলে বাছুরটিকে আখ্যায়িত করছেন। তবে হরমোন জনিত কারণে এমন বিরল ঘটনা ঘটতে পারে বলে ধারণা প্রাণি সম্পদ বিভাগের।

প্রায় ১ যুগেরও বেশি সময় ধরে গরু পালন করছেন উপজেলার টিয়াখালী ইউপির পশ্চিম রজপাড়া গ্রামের খামারী মো. নুরুল ইসলাম হাওলাদার। এলাকায় ছোট খামারি হিসেবে তার বেশ পরিচিতি রয়েছে। দুইটি দেশি গরু নিয়ে পালন শুরু করলেও বর্তমানে তার খামারে রয়েছে দেশি-েবিদেশি বিভিন্ন প্রজাতির অন্তত ১৩টি গরু। ১০ মাস আগে সিন্দি জাতের একটি বকনা বাছুর জন্ম নেয় তার খামারে। ৫ মাস বয়সে বকনা বাছুরের শরীর অস্বাভাবিক আকার দেখতে পান নুর ইসলামের স্ত্রী ফুলবানু। পরে বাছুরটি দুধ দেয়ায় অবাক হয়ে যান তিনি।

অলৌকিকভাবে প্রতিদিন দুধ দিচ্ছে ৩ থেকে সাড়ে তিন লিটার। 

প্রথমে চমকে গেলেও এর পর থেকে প্রতিদিনই তিন থেকে সাড়ে তিন লিটার দুধ দিচ্ছে বাছুরটি। বর্তমানে বাছুরটি সকালে দুই লিটার এবং বিকেলে এক থেকে দেড় লিটার করে দুধ দিচ্ছে। আর এ দুধ বিক্রির পাশাপাশি পান করছেন পরিবারের সদস্যরাও । মাঝে মধ্যে এলাকার মানুষের মাঝেও বিনামূল্যে বিলিয়ে দিচ্ছেন বলেও জানান ফুলবানু। 

এদিকে ৭ মাস বয়সী বাছুর দুধ দিচ্ছে এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় গোটা এলাকায়। ফলে দূর-দূরান্ত থেকে এসে ওই খামারির বাড়ির উঠানে ভিড় করছেন উৎসুক মানুষ। 

পায়রা বন্দর থেকে আসা মেরিন ইঞ্জিনিয়ার হুমায়ূন কবির বলেন, বিষয়টি শুনে প্রথমে গুজব মনে করেছিলাম। পরে এখানে এসে নিজ চোখে দেখে মনে হলো আল্লাহ চাইলে সব কিছুই পারেন। 

কলেজ শিক্ষার্থী নাজমুন নাহার বলেন, এটা আসলে কীভাবে সম্ভব হয়েছে জানি না। তবে নিজ চোখে না দেখলে অবিশ্বাস্যই মনে হবে। 

খামারি নুরুল ইসলাম হাওলাদার বলেন, এক যুগ ধরে গরু পালন করে আসছি। আমার কোনো ছেলে সন্তান নেই, তিন মেয়ে। খামারের গরুর দুধ বিক্রি করেই আমার উপার্জন। দিনরাত এ খামারে ওদের পরিচর্যা করতে ঘাম ঝরাই। তবে এ রকম ঘটনা দেখিনি কিংবা শুনিওনি। এটি আল্লাহর নেয়ামত। বাছুরটির সুস্বাস্থ্য কামনায় সবার কাছে দোয়া চাই।

কলাপাড়া উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা. হাবিবুর রহমান বলেন, সাধারণত গর্ভবতী হওয়ার পরেই গরু দুধ দিয়ে থাকে, এটাই স্বাভাবিক। আমি এ ধরনের ঘটনা শুনেছি, নিজ চোখে দেখিনি। এটা হরমোনজনিত কারণে হয়ে থাকতে পারে। তবে এটা একটি বিরল ঘটনা। বাছুরটির খোঁজ নিতে খামারির বাড়িতে যাবেন বলেও জানান তিনি।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে/জেডআর