ঘর্ষণেই মিলবে বিদ্যুৎ

ঢাকা, মঙ্গলবার   ১৫ জুন ২০২১,   আষাঢ় ১ ১৪২৮,   ০৩ জ্বিলকদ ১৪৪২

স্মার্ট সোলার হাইওয়ে অ্যান্ড পাওয়ার প্লান্ট

ঘর্ষণেই মিলবে বিদ্যুৎ

বরিশাল প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:১৭ ১১ জুন ২০২১  

নিজের উদ্ভাবিত ‘স্মার্ট সোলার হাইওয়ে অ্যান্ড পাওয়ার প্লান্ট’ প্রকল্পের সঙ্গে কলেজছাত্র মোসলেউদ্দীন সাহান

নিজের উদ্ভাবিত ‘স্মার্ট সোলার হাইওয়ে অ্যান্ড পাওয়ার প্লান্ট’ প্রকল্পের সঙ্গে কলেজছাত্র মোসলেউদ্দীন সাহান

বিদ্যুৎ উৎপাদনে সময় ও খরচ বাঁচাতে ‘স্মার্ট সোলার হাইওয়ে অ্যান্ড পাওয়ার প্লান্ট’ উদ্ভাবন করেছেন বরিশালের আগৈলঝাড়ায় মেধাবী ছাত্র মোসলেউদ্দীন সাহান। এ প্রকল্পের মাধ্যমে সহজে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্যও রক্ষা করা সম্ভব হবে।

মোসলেউদ্দীন সাহান আগৈলঝাড়ার গৈলা ইউনিয়নের কালুপাড়া বাসিন্দা ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার ডা. মোখলেছুর রহমানের ছেলে। তিনি ২০১৮ সালে এসএসসি ২০২০ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়েছেন। ২০১৬ সালে সরকারি গৈলা মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র থাকাকালীন ‘স্মার্ট সোলার হাইওয়ে অ্যান্ড পাওয়ার প্লান্ট’ প্রকল্পের কাজ শুরু করে্ন সাহান। তার প্রকল্পের মূল কাজ শেষ হয় ২০১৭ সালে।

এ বিষয়ে সাহান বলেন, আমাদের দেশে কয়লা, পিচ ও বিটুমিন দিয়ে রাস্তা নির্মাণ করা হয়। এগুলো পোড়ানোর সময় কার্বন ডাই অক্সাইড, কার্বন মনোক্সাইড, সালফার ডাই অক্সাইড, সালফার ট্রাই অক্সাইডের মতো ক্ষতিকর গ্যাস উৎপন্ন করে। কিন্তু এ স্মার্ট সোলার হাইওয়ে নির্মাণে এসব পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর গ্যাস উৎপন্ন হয় না।

তিনি আরো বলেন, ন্যানো টেকনোলজি দ্বারা তৈরি সোলার সেল ব্যবহার করলে স্মার্ট সোলার হাইওয়ে হবে পরিবেশবান্ধব এবং নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস। এ হাইওয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে- এটা মেঘাচ্ছন্ন পরিবেশেও বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম। এছাড়া এ হাইওয়ে তিনটি উপায়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে সক্ষম। সূর্যের আলো, মানুষের চলাচলে উৎপন্ন ঘর্ষণ, মানুষের ও গাড়ির প্রেসার ব্যবহার। এসব শক্তিকে রূপ পরিবর্তন করে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তর করতে পারবে ‘স্মার্ট সোলার হাইওয়ে অ্যান্ড পাওয়ার প্লান্ট’।

সাহান বলেন, এ হাইওয়ে প্রাথমিক অবস্থায় ৩০ টন পর্যন্ত চাপ নিতে সক্ষম। সেমি পারমিটেবেল ম্যাট্রিক্স টেকনোলজি, পলিক্লিস্টালিন টেকনোলজি এবং পলিকার্বনেট টেকনোলজি ব্যবহারের কারণে সোলার হাইওয়ে দিয়ে যখন বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে তখন মানুষের বিদ্যুৎপৃষ্ট হওয়ারও কোনো ঝুঁকি থাকবে না। স্মার্ট সোলার হাইওয়ে দ্বারা সূর্যের আলোর মাধ্যমে দুই কিলোমিটার দূরত্বে ৬৭৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। এছাড়া মানুষের চলাচল ও গাড়ির প্রেসারকে কাজে লাগিয়ে বছরে আরো ১৫০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব।

সাহানের বিশ্লেষণ বলছে- যেখানে প্রতি এক কিলোমিটার সড়ক নির্মাণে খরচ হয় ৬ কোটি টাকা। সেখানে স্মার্ট সোলার হাইওয়ে নির্মাণে ৪ কোটি টাকা খরচ হবে। এছাড়া পিচের সড়কের স্থায়িত্ব কম। পানির সংস্পর্শে এলেই এ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কিন্তু স্মার্ট সোলার হাইওয়ের স্থায়িত্ব ৫০-৬০ বছর। কয়লা-পিচ-বিটুমিন ব্যবহার করা হয় না বিধায় পানির সংস্পর্শে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি নেই।

তিনি আরো বলেন, সড়ক নির্মাণের কারণে প্রতি বছর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ খাতে বাজেট বাড়ে। কিন্তু স্মার্ট সোলার  হাইওয়ে নির্মাণ করলে এসব খাত ও সড়ক-জনপথ খাতে আলাদা বাজেট করতে হবে না। একই বাজেটে সড়ক ও বিদ্যুৎ পাওয়া গেলে সরকারের ও জনগণের অর্থ সাশ্রয় হবে।

নিজের উদ্ভাবিত প্রকল্প সম্পর্কে সাহান বলেন, ‘স্মার্ট সোলার হাইওয়ে অ্যান্ড পাওয়ার প্লান্ট’ প্রকল্পটি শেষ করতে সব মিলিয়ে ৭০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। স্মার্ট সোলার হাইওয়ের আশপাশের প্রতিটি বাসা-বাড়ি ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ইলেকট্রিক লাইন স্মার্টফোনের সাহায্যে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। ভবিষ্যতে এ প্রকল্পে ট্রাফিক কন্ট্রোল সিস্টেম এবং ডাস্ট সেন্সরসহ আরো কিছু প্রযুক্তি যুক্ত করতে চাই। প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতা পেলে ‘স্মার্ট সোলার হাইওয়ে অ্যান্ড পাওয়ার প্লান্ট’ নিয়ে আরো কাজ করতে চাই।

আগৈলঝাড়ার ইউএনও মো. আবুল হাশেম বলেন, বিদ্যুৎ উৎপাদনে কলেজছাত্র মোসলেউদ্দীন সাহানের ‘স্মার্ট সোলার হাইওয়ে অ্যান্ড পাওয়ার প্লান্ট’ প্রকল্প দেশকে আরো একধাপ এগিয়ে নিতে পারে। তার এ প্রকল্প সম্পন্ন করতে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এআর