ব্যবসায়ী হাসান হত্যাকাণ্ডে বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

ঢাকা, বুধবার   ০৪ আগস্ট ২০২১,   শ্রাবণ ২০ ১৪২৮,   ২৪ জ্বিলহজ্জ ১৪৪২

ব্যবসায়ী হাসান হত্যাকাণ্ডে বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

গাইবান্ধা প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৬:৪৩ ১০ জুন ২০২১   আপডেট: ১৯:৫০ ১০ জুন ২০২১

নিহত জুতা ব্যবসায়ী হাসান আলী

নিহত জুতা ব্যবসায়ী হাসান আলী

গাইবান্ধার জুতা ব্যবসায়ী হাসান আলী হত্যাকাণ্ডে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। পুরো ঘটনায় স্পষ্ট ফুটে উঠেছে পুলিশের গাফিলতি। চেক ডিজঅনারের একটি মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা ও স্ত্রীর করা অপহরণের অভিযোগে হাতে পেয়েও তাকে গ্রেফতার করেনি পুলিশ। উল্টো তুলে দিয়েছে দাদন ব্যবসায়ী মাসুদ রানার হাতে। ওই ঘটনার ৩৬ দিন পর মাসুদ রানার বাসা থেকে উদ্ধার করা হয় হাসানের লাশ।

চেক ডিজঅনার মামলার বিবরণ ও নিহত হাসান আলীর স্ত্রী বিথী বেগম জানান, জুতা ব্যবসায়ী হাসান আলীর বাড়ি গাইবান্ধা শহরের গোরস্থানপাড়ায়। ২০২০ সালের ৪ জানুয়ারি  শহরের ডেভিড কোম্পানিপাড়ার রেজাউল করিমের কাছ থেকে দাদনের ওপর টাকা নেন হাসান। বিনিময়ে তার কাছ থেকে অগ্রণী ব্যাংক গাইবান্ধা শাখার অনুকূলে একটি খালি চেকের পাতা স্বাক্ষর করিয়ে নেন রেজাউল করিম। পরবর্তীতে হাসান আলী সুদসহ সাড়ে ১৪ লাখ টাকা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় রেজাউল ওই চেকে সাড়ে ১৪ লাখ টাকা বসিয়ে ব্যাংকে জমা দেন। কিন্তু অ্যাকাউন্টে টাকা না থাকায় চেকটি ডিজঅনার হয়। ওই ঘটনায় রেজাউল করিম ২০২০ সালের ২১ অক্টোবর গাইবান্ধা সদর থানায় মামলা করেন। ওই মামলায় হাসানের বিরুদ্ধে প্রথমে সমন ও পরে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে আদালত। তবে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেনি।

জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম বলেন, আদালত থেকে সমন বা গ্রেফতারি পরোয়ানা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে পাঠানো হয়। সেখান থেকে পুনরায় আদালতে পাঠানো হয়। পরে আদালত থেকে পরোয়ানা সংশ্লিষ্ট থানায় পাঠানো হয়। কিন্তু হাসান আলীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকার বিষয়টি জেনেও পুলিশ দায় এড়ানোর চেষ্টা করছে। ওই মামলায় গ্রেফতার করা হলে এভাবে হাসান আলীর মৃত্যু হতো না।

তিনি আরো বলেন, চেক ডিজঅনার মামলা দায়েরের দিনই আদালত থেকে হাসানের বিরুদ্ধে সমন জারি করা হয়। হাসানের স্ত্রী বিথী বেগম গত বছরের ১ নভেম্বর সমনটি গ্রহণ করেন। এরপর ওই বছরের ৭ ডিসেম্বর হাসানকে আদালতে হাজির থাকার নির্দেশ দেয়া হয়। কিন্তু তিনি নির্ধারিত তারিখে আদালতে হাজিরা না দেয়ায় ওই তারিখে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়। পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের কনস্টেবল দিলরুবা ১০ ডিসেম্বর সেটি গ্রহণ করেন। সেখান থেকে পরোয়ানাটি সদর আমলী আদালতে পাঠানো হলে আদালত একই বছরের ৩১ ডিসেম্বর তা গ্রহণ করে। চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি সদর থানার কনস্টেবল রুহুল আমিন পরোয়ানাটি গ্রহণ করে আমলী আদালত থেকে থানায় নিয়ে যান। এরপরও হাসান আলীকে গ্রেফতার করা হয় না। এমনকি পরোয়ানার আদেশ তামিলের জন্য আদালত থেকে চারবার পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে তাগিদপত্র পাঠানো হলেও পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেনি।

এদিকে হত্যাকাণ্ড খতিয়ে দেখে জানা গেছে, জুতা ব্যবসায়ী হাসান আলী দাদন ব্যবসায়ী মাসুদ রানার কাছে দেড় লাখ টাকা দাদন নেন। যা সুদাসলে ১৯ লাখে পৌঁছায়। সম্প্রতি মাসুদ রানা সুদের টাকার জন্য হাসানকে চাপ দেন। টাকা দিতে না পারায় গত ৫ মার্চ হাসানকে অপহরণ করে গাইবান্ধা শহরের নারায়নপুরে নিজ বাসায় আটকে রাখেন। ৬ মার্চ হাসানের স্ত্রী বিথী বেগম স্বামীকে অপহরণের লিখিত অভিযোগ করেন। ৭ মার্চ মাসুদ রানার বাড়ি থেকে হাসানকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যান সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মজিবুর রহমান ও এসআই মোশারফ হোসেন। ওই রাতেই চেক ডিজঅনার মামলায় হাসানকে গ্রেফতার না করে উল্টো মাসুদ রানার জিম্মায় দেয়া হয়। ১০ এপ্রিল সকালে মাসুদ রানার বাড়ি থেকেই ব্যবসায়ী হাসানের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই ঘটনায় দাদন ব্যবসায়ী মাসুদ রানা, জুতা ব্যবসায়ী রুমেল হক ও খলিলুর রহমান ওরফে বাবু মিয়ার বিরুদ্ধে মামলা করেন নিহতের স্ত্রী বিথী বেগম। সেই মামলায় মাসুদ রানা কারাগারে ও বাকি দুই আসামি পলাতক।

জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম বলেন, আইন অনুযায়ী পরোয়ানাভুক্ত কোনো আসামিকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠাতে হয়। এছাড়া অপহরণের পর উদ্ধার করে হাসানকে তার স্ত্রীর জিম্মায় দেয়া যেত, গ্রেফতার করা যেত অপহরণকারী মাসুদ রানাকে। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে পুলিশ কোনোটাই করেনি। আইন অনুযায়ী সবকিছু হলে হাসান আলী বেঁচে থাকতেন।

গাইবান্ধা সদর থানার ওসি মাহফুজার রহমান বলেন, গ্রেফতারি পরোয়ানা তামিলের জন্য আমরা সবসময় তৎপর। কিন্তু হাসান আলীর বিরুদ্ধে কোনো পরোয়ানা থানায় পৌঁছায়নি।

ডেইলি বাংলাদেশ/এআর