হাতে-পায়ে ধরেও বাবাকে বাঁচাতে পারল না মেয়ে

ঢাকা, বুধবার   ০৪ আগস্ট ২০২১,   শ্রাবণ ২০ ১৪২৮,   ২৪ জ্বিলহজ্জ ১৪৪২

হাতে-পায়ে ধরেও বাবাকে বাঁচাতে পারল না মেয়ে

মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৬:৪০ ১০ জুন ২০২১   আপডেট: ১৬:৪২ ১০ জুন ২০২১

মুন্সিগঞ্জ থানা: ফাইল ফটো

মুন্সিগঞ্জ থানা: ফাইল ফটো

মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলায় প্রান্ত শেখ ও তার সহযোগীদের পিটুনিতে গুরুতর আহত নয়ন মিজি অবশেষে চলেই গেলেন। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। 

মৃত নয়ন মিজি সদর উপজেলার রামপাল ইউনিয়নের উত্তর কাজী কসবা গ্রামের আব্দুল বাতেন মিজির ছেলে। নয়নের দুটি মেয়ে সন্তান রয়েছে।

মৃতের ছোট বোন পিংকি আক্তার জানান, বুধবার বিকেল ৪টার দিকে তার ভাই বাড়ি থেকে বের হয়। এর আধাঘণ্টা পরেই তারা জানতে পারেন উত্তর কাজী কসবা প্রাইমারি স্কুলের সামনে থেকে প্রান্ত শেখ ও তার সহযোগী রনি, কাঞ্চন ও তাদের সহযোগীরা তার ভাইকে তুলে নিয়ে গেছেন। বিষয়টি জানার পর তারা সিপাহীপাড়া এলাকার একটি স্কুলের কাছে গিয়ে দেখেন প্রান্তরা কাঠ দিয়ে নয়নকে পেটাচ্ছেন। 

তিনি বলেন, আমরা ভাইকে বাঁচানোর চেষ্টা করি। রাস্তায় গিয়ে পুলিশ ডাকি। পরে ওরা পালিয়ে যায়।

মৃতের ছোট মেয়ে নিজুম বলে, আমাদের চোখের সামনে আমার বাবাকে ওরা মেরেছে। বাবার হাত-পা, মাথা গুঁড়িয়ে দিয়েছে। আমরা কত হাতে পায়ে ধরলাম। আমার বাবাকে ওরা ছাড়ল না। যখন ছাড়ল বাবা আর চোখ খুলে দেখল না। আমার বাবার হত্যাকারীদের ফাঁসি চাই।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নয়ন এলাকায় মুরগির খামারের ব্যবসা করতেন। পাশাপাশি কবুতর লালন-পালন করতেন। কয়েক মাস আগে তার খামার থেকে প্রান্ত শেখ, তার সহযোগী শোভন, কাঞ্চন ও রনি কবুতর ও মুরগি চুরি করে। এ নিয়ে নয়নের সঙ্গে তাদের দ্বন্দ্ব দেখা দেয়। এ নিয়ে এলাকায় সালিশ হয়। তখন থেকে নয়নের সঙ্গে ঝামেলা চলছিল। বুধবার এর জেরেই প্রান্ত শেখ ও তার লোকজন নয়নকে তুলে নিয়ে বেধড়ক পেটান। এতে নয়ন গুরুতর আহত হন।  

মুন্সিগঞ্জের অ্যাডিশনাল এসপি (সদর সার্কেল) মিনহাজ উল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় বুধবার রাতেই একটি মামলা হয়েছিল। মামলাটি এখন হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হবে। এখন পর্যন্ত নাহিদ ও তৌকির নামে দুই আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ