কর্মমুখর যমুনার ঘাট

ঢাকা, শনিবার   ১২ জুন ২০২১,   জ্যৈষ্ঠ ২৯ ১৪২৮,   ০১ জ্বিলকদ ১৪৪২

কর্মমুখর যমুনার ঘাট

বগুড়া প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৮:৫৭ ১৮ মে ২০২১  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলের কারণে বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলায় যমুনার নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। হঠাৎ পানি বেড়ে যাওয়া কারণে ডুবোচরগুলো তলিয়ে গেছে। এতে নদী পথে নৌ-যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। নদী পাড়ের ঘাটগুলোতে বেড়েছে বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের আনাগোন। আর নৌ-ঘাট এলাকাগুলো ফিরে পেয়েছে কর্মব্যস্ততা।

উপজেলার দায়িত্বে থাকা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. আব্দুর রহমান তাসকিয়া জানান, গত চৈত্র মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে যমুনার পানি বৃদ্ধি পাওয়া শুরু হয়। মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত যমুনা নদীতে পানি রয়েছে ১০.৫৮ সেন্টিমিটার উচ্চতায়। তবে এখনো তা বিপদসীমার ৬.৭০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ কারণে এখনই বন্যার আশঙ্কা নেই।

মঙ্গলবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত যমুনা নদীর কয়েকটি চরাঞ্চল এলাকা ও নৌ-ঘাট ঘুরে জানা গেছে, যমুনায় পানি বেড়ে যাওয়ার কারণে উপজেলার জামথল, টেংড়াকুরা, পাকুড়িয়া, ইন্দুরমারা, ডাকাতমারা, চরদলিকা, মানিক দাইড়, ধারাবর্ষা, বোহাইল, মাঝবাড়ী, বেনীপুরসহ প্রায় ১১২টি চরাঞ্চলের মানুষের এখন অনেকটাই নদী পথের যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়েছে। এতে প্রাণ  ফিরে পেয়েছে সারিয়াকান্দির পৌর এলাকার কালিতলা, মথুরাপাড়া, রৌহদহ, হাসনাপাড়া, পাকুল্ল্যা, আউচারপাড়া নৌ-ঘাটগুলো।

প্রতিদিন ওই ঘাটগুলো চরাঞ্চলের হাজার হাজার নারী-পুরুষের পদাচারণায় মুখরিত হচ্ছে। পাশাপাশি উৎপাদিত কৃষি পণ্য সহজে পরিবহণ করতে পারছেন কৃষকেরা। এতে তারা কৃষিপণ্যে ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন।

এদিকে ব্যস্ত সময় পার করছেন নৌ-পরিবহন শ্রমিকরা। তারা ভোর থেকে শুরু করে মধ্যরাত পর্যন্ত নৌ-যাত্রীরা পাড়াপাড়া, মালামাল পরিবহণ ও খালাস কাজে নিয়ে থাকছেন। কর্মব্যস্ততার কারণে তাদের মুখেও হাসি ফুটেছে।

কথা হয় উপজেলার চালুয়াড়ী ইউনিয়নের চরাঞ্চলের কৃষক মাহফুজুর রহমানের সঙ্গে। তিনি বলেন, যমুনায় পানি বেড়ে যাওয়ায় বর্তমানে নদী পথে যোগাযোগ ব্যবস্থা খুবই ভালো। আমাদের উৎপাদিত কৃষি পণ্য হাট-বাজারে সহজেই নিয়ে যেতে পারছি। সেগুলো বিক্রি করে ভালো দামও পাচ্ছি। এছাড়াও সহজেই কৃষি কাজে ব্যবহার করার জন্য রাসায়নিক সার, শ্যালো মেশিনের যন্ত্রাংশসহ নিত্য প্রয়োজনীয় মালামাল কিনে বাড়িতে নিয়ে আসতে পারছি।

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশউপজেলার যমুনার কালিতলা ঘাটে নৌ-শ্রমিক জাকির হোসেন বলেন, অভ্যন্তরীণ নৌ-রুটে যাত্রীর সংখ্যা অনেকাংশে বাড়লেও আন্তঃজেলা বা দূরপাল্লার যাত্রীর সংখ্যা বৃদ্ধি পায়নি। চলমান লকডাউনের কারণে দূরপাল্লার নৌ-রুটে অর্থাৎ এখান থেকে গাইবান্ধার ফুলছড়ি, জামালপুরের গুটাইল, উলিয়া, সিরাজগঞ্জের কাজীপুর, টাঙ্গাইলের ভূঁইয়াপুর রুটে নৌ-যাত্রীরসংখ্যা অনেক কম।

এই কথা শুধু শ্রমিক জাকিরই বলছেন না, একই কথা বলছেন নৌ-যান সংশ্লিষ্টরা।

সারিয়াকান্দি ইউএনও মো. রাসেল মিয়া বলেন, যমুনায় পানি বেড়ে যাওয়ায় নদী পথে নৌ-চলাচলের গতি স্বাভাবিক হয়েছে। ফলে চরাঞ্চলের মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হয়েছে, একই সঙ্গে অনেকে ফিরে পেয়েছেন তাদের কর্মসংস্থান।

তিনি বলেন, নদী পথকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে অনেক মানুষের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে। অন্যদিকে মহাসড়কে পরিবহনের যানজট অনেক কমে যাবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএম