জলঢাকায় পশুর হাটে অতিরিক্ত টোল আদায়, নেই টোল তালিকা

ঢাকা, শনিবার   ১৯ জুন ২০২১,   আষাঢ় ৬ ১৪২৮,   ০৭ জ্বিলকদ ১৪৪২

জলঢাকায় পশুর হাটে অতিরিক্ত টোল আদায়, নেই টোল তালিকা

রবিউল ইসলাম রাজ, নীলফামারী ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:৫৫ ১৮ মে ২০২১  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

নীলফামারীর জলঢাকায় টেংগনমারী হাট ইজারাদারের বিরুদ্ধে গরু-ছাগলসহ অন্যান্য মালামালে অতিরিক্ত টোল আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। পশুর হাটে সরকার নির্ধারিত খাজনার (টোল) চেয়ে অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ হাটে পশু কিনতে আসা ক্রেতাদের। 

এছাড়া নিয়ম থাকলেও সাঁটানো হয়নি সরকার নির্ধারিত টোল তালিকা। ফলে পশু কিনতে আসা ক্রেতারা অতিরিক্ত খাজনা দিতে বাধ্য হচ্ছেন। অতিরিক্ত খাজনা আদায়কে কেন্দ্র করে রশিদ লেখকদের সঙ্গে প্রায়ই ক্রেতা-বিক্রেতাদের বাগবিতণ্ডার ঘটনা ঘটছে।

সরকারি ভাবে খাজনা আদায়ে গরু ২১০ টাকা এবং ছাগল ৬০ টাকা নেয়ার নিয়ম থাকলেও তা মানা হচ্ছেনা। গরু ৪০০ টাকা এবং ছাগল প্রতি ২০০ টাকা ক্রেতার কাছ থেকে খাজনা আদায় করা হচ্ছে। আবার রশিদে খাজনা লেখার জায়গা থাকলেও সেখানে লেখা হচ্ছে না। এছাড়া লেখনির জন্য গরু বিক্রেতার কাছ থেকে নেয়া হচ্ছে আরো ১০০ টাকা। খাজনা (টোল) আদায়ের তালিকা সাঁটানোর নিয়ম থাকলেও তা দেখা যায়নি।

টেংগনমারী হাটে গরু কিনতে আসা কচুকাটা এলাকার রুবেল হোসেনের ছেলে মফেল হোসেন বলেন, তিনি ৩০ হাজার টাকায় একটি গরু ক্রয় করেছেন। তাকে খাজনা দিতে হয়েছে ৪০০ টাকা। 

আরেক ক্রেতা টেংগনমারী এলাকার আমিনুর রহমানের ছেলে আনিচুর রহমান বলেন, ২৮ হাজার ৫০০ টাকায় গরু ক্রয় করে তাকে ৪০০ টাকা খাজনা দিতে হয়েছে। যার কাছে গরু কিনেছি সেও ১০০ টাকা চাঁদা নিয়েছে।

দোকান মালিক সমিতির সদস্য সচিব ও হাট ব্যবস্থাপনা পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক দুলাল হোসেন জানান, অতিরিক্ত টোল আদায় বিষয়ে অনেকে অভিযোগ করেছে। এভাবে অনিয়ম হলে হাট নষ্ট হয়ে যাবে। সরকার নির্ধারিত যে টোল আছে তা জনসম্মুখে সাঁটানো খুব জরুরি।

টেংগনমারী হাটের ইজারাদার শাহিন ইসলামের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, আমরা তো শুধু ৪০০ টাকা করে নিতেছি। মীরগঞ্জ, জলঢাকা ও কৈমারী পশু হাটে ৫০০ টাকা করে নিতেছে। সরকার নির্ধারিত টোল তালিকা এখনো সাঁটানো হয়নি। 

হাট ব্যবস্থাপনা পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও খুটামারা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আবু সাঈদ শামীম জানান, সরকারি মূল্য তালিকা সাইনবোর্ড সাঁটানোর বিষয়ে অনেকবার বলেছি। কিন্তু তা এখনো সাঁটানো হয়নি। সরকারি শিডিউলে যে মূল্য আছে তার দ্বিগুণ আদায় করছে হাট ইজারাদার। এ বিষয়ে আমি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।

ইউএনও মাহবুব হাসান বলেন, নির্ধারিত মূল্যের বেশী নিলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ বিষয়ে অভিযোগ পেলে আইনের আওতায় আনা হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএস