মুরগির খামারের বিষ্ঠার দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী

ঢাকা, বুধবার   ১৬ জুন ২০২১,   আষাঢ় ৪ ১৪২৮,   ০৪ জ্বিলকদ ১৪৪২

মুরগির খামারের বিষ্ঠার দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী

শরীয়তপুর প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:৩৩ ১৮ মে ২০২১   আপডেট: ১৩:৩৬ ২৫ মে ২০২১

মুরগির খামারের বিষ্ঠার দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী

মুরগির খামারের বিষ্ঠার দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী

শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার ভূমখাড়া ইউপির ৫ নম্বর ওয়ার্ডের গোড়াগাঁও গ্রামে মুরগির খামারের বিষ্ঠার দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী। 

অভিযোগ উঠেছে, নীতিমালা উপেক্ষা করে গ্রামের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় খামারগুলো স্থাপন করা হয়েছে। এ বিষয়ে ডিসি, ইউএনও, নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে গ্রামবাসী।

জানা যায়, প্রায় দশ বছর আগে ওই গ্রামের নাজমুল চোকদার গ্রামের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় পাঁচটি ব্রয়লার মুরগির খামার স্থাপন করেন। বর্তমানে খামারে মুরগি রয়েছে। মুরগির বিষ্ঠার কারণে এলাকার পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। বিষ্ঠার দুর্গন্ধে খামারের চারদিকে মানুষের বসবাস করা দায় হয়ে পড়েছে।

নীতিমালা অনুযায়ী, একটি মুরগির খামার স্থাপনের জন্য পরিবেশ অধিদফতরের অনুমতি ও প্রাণিসম্পদ কার্যালয় থেকে রেজিস্ট্রেশনভুক্ত হতে হবে। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা এবং জনগণের ক্ষতি হয় এমন স্থানে খামার স্থাপন করা যাবে না।

ছড়িয়ে–ছিটিয়ে আছে মুরগির বিষ্ঠা

রোববার বিকেলে গোড়াগাঁও গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, খামারটির আশপাশে ও নিচে মুরগির বিষ্ঠা ছড়িয়ে–ছিটিয়ে আছে। পানিনিষ্কাশনের ব্যবস্থা নেই। খামারের চারপাশে বসতবাড়ি। এসব বাড়ি থেকে তীব্র দুর্গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।

খুশিদা বেগম, আব্দুর রউফ, ভ্যান চালক কালু খানসহ এলাকার অনেকেই বলেন, আমার বাড়ির পাশেই খামার। বিষ্ঠা থেকে সব সময় দুর্গন্ধ ছড়ায়।  আশপাশে বসবাস করা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।

ওই গ্রামের বাসিন্দা সাবেক মেম্বার মো. খলিলুর রহমান বলেন, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা থেকে খামারটি সরানোর জন্য গত ৫ মে ডিসি, ইউএনও, নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ে গ্রামের ৭০ জন মানুষের স্বাক্ষরিত একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছে গ্রামবাসী। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনোব্যবস্থা নেয়া হয়নি। 

গ্রামের ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকায় ব্রয়লার মুরগির খামার

অভিযোগ পত্রটিতে বলা হয়েছে, গ্রামের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় পাঁচটি ব্রয়লার মুরগির খামার স্থাপন করা হয়েছে। যা রাস্তার পাশে অবস্থিত। এমতাবস্থায় আশেপাশের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে এবং বিষ্ঠার দুর্গন্ধে গ্রামের মানুষ স্বাস্থ্যহীনতায় ভুগছে। করোনাভাইরাসের এ ক্রান্তিলগ্নে কোনো রকম স্বাস্থ্যবিধি না মেনেই খামার মালিক নাজমুল চোকদার মুরগির খামার পরিচালনা করছেন। প্রতিবাদ করলে নাজমুল গ্রামবাসীকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে ও বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেয়।

তিনি বলেন, খামারটি স্থাপনে পরিবেশ অধিদফতর ও প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের অনুমতি নেয়া হয়েছে কিনা এটাই প্রশ্ন। এ ছাড়া এলাকায় অবস্থিত খামারের বর্জ্য অপসারণের ব্যবস্থা নেই। খামারটি স্থাপনের ক্ষেত্রে জাতীয় পোলট্রি উন্নয়ন নীতিমালা মানা হয়নি।

এ বিষয়ে মুরগির খামারের মালিক নাজমুল চোকদার বলেন, দুর্গন্ধের জন্য কেউ কিছু বলে না। স্থানীয় খলিলুর রহমানের সঙ্গে আমার জমি নিয়ে বিরোধ হওয়ার কারণে তিনি ভাড়াটে লোকজন এনে আমাকে নির্যাতন করছে। মামলা, অভিযোগ দিয়ে হয়রানি করছে। খামারটি নিয়মিত পরিষ্কার করা হচ্ছে যাতে দুর্গন্ধ কম ছড়ায়। 

ভূমখাড়া ইউপির চেয়ারম্যান ডি.এম শাহ্জাহান শিরাজ বলেন, বিষয়টি শুনেছি। ইউপি মেম্বারদের সঙ্গে এ ব্যাপারে আলাপ করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নড়িয়ার ইউএনও জয়ন্তী রুপা রায় বলেন, এ ব্যাপারে একটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করার জন্য একজনকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তদন্তে অভিযোগ প্রমানিত হলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সুবদ কুমার দাস বলেন, অভিযোগটি এখনো হাতে পাইনি। পেলে তদন্ত করে দেখবো। তবে নীতিমালা উপেক্ষা করে খামার স্থাপন করা যাবেনা।

সিভিল সার্জন ডা. এসএম আব্দুল্লাহ আল মুরাদ বলেন, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা এবং জনগণের ক্ষতি হলে সেই স্থানে মুরগির খামার স্থাপন করা যাবে না। বিষ্ঠার দুর্গন্ধ বাতাসের মাধ্যমে বায়ুদূষণ হয়। এর ফলে মানুষের শ্বাসকষ্ট হয়। এছাড়া এলার্জি, ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন রোগ হতে পারে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে