প্রশাসনের হস্তক্ষেপে রক্ষা পেল দুই কিশোরী

ঢাকা, রোববার   ২০ জুন ২০২১,   আষাঢ় ৭ ১৪২৮,   ০৮ জ্বিলকদ ১৪৪২

প্রশাসনের হস্তক্ষেপে রক্ষা পেল দুই কিশোরী

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২১:৫১ ১৬ মে ২০২১  

প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

একদিনে দুটি বাল্যবিয়ে পণ্ড করেছে সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলা প্রশাসন। রোববার দুপুরে স্থানীয় একজনের মাধ্যমে বাল্যবিয়ের খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ সেখানে গিয়ে অভিভাবকদের বুঝিয়ে বিয়ে দুটি বন্ধ করা হয়। মেয়ে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আগ পর্যন্ত বিয়ে না দেয়ার জন্য লিখিতভাবে অঙ্গীকার করেছেন অবিভাবকরা। 

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, উপজেলার মধ্যনগর ইউনিয়নের একটি গ্রামে রোববার দুপুরে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ুয়া এক ছাত্রীর সঙ্গে একই গ্রামের এক তরুণের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল। স্থানীয় এক যুবক বাল্যবিয়ের খবরটি ইউএনও মো. মুনতাসির হাসানকে অবগত করলে তিনি তাৎক্ষণিক  মুঠোফোনে মো. মবিন উদ্দিন নামে এক শিক্ষককে বাল্যবিয়েটি বন্ধ করতে নির্দেশ দেন। ওই শিক্ষক সকালে বর ও কনের বাড়িতে যান। এ সময় তিনি অভিভাবকদের ১৮ বছরের আগে কোনো মেয়েকে বিয়ে দেয়ার কুফল ও রাষ্ট্রীয় আইনে এ ধরনের বিয়ের স্বীকৃতি নেই, এমনটি জানান। ১৮ বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত মেয়েকে কোথাও বিয়ে দেয়া হবে না বলে দুইপক্ষের লোকজন এ বিষয়ে লিখিতভাবে অঙ্গীকার করেন। 

অন্যদিকে উপজেলার সেলবরষ ইউনিয়নের একটি গ্রামে এক কিশোরীর সঙ্গে পাশে মোহনগঞ্জ উপজেলার এক তরুণের রোববার দুপুরের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল। কনের এক বান্ধবীর থেকে খবর পেয়ে ধর্মপাশা থানার ওসি খালেদ চৌধুরীকে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেন ইউএনও। পরে কনের বাড়িতে যান ধর্মপাশা থানার এসআই সুমন চন্দ্র দাস। কনের বাড়িতে পুলিশ রয়েছে, এমন খবর পেয়ে বরসহ তার স্বজনরা কনের বাড়িতে আসেনি। পরে ওই পুলিশ কর্মকর্তা বাল্যবিয়ের কুফল এবং এ নিয়ে আইনে কী বলা আছে, তা মেয়েপক্ষের অভিভাবকদের বুঝিয়ে বলেন। এরপর তারা এই বাল্যবিয়ে বন্ধ করতে সম্মত হন। অভিভাবকদের বুঝিয়ে বিয়ে দুটি বন্ধ করা হয়। মেয়ে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আগপর্যন্ত বিয়ে না দেয়ার অঙ্গীকার করেছেন।

ধর্মপাশার ইউএনও মুনতাসীর হাসান বলেন, বাল্যবিয়ে বন্ধে উপজেলা প্রশাসন সব সময় তৎপর রয়েছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পেয়ে আজও দুটি বাল্যবিয়ে বন্ধ করা হয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএম