ডিজিটাল ভূমি ব্যবস্থাপনার সুফল পাচ্ছে কুমিল্লার মানুষ

ঢাকা, শনিবার   ১২ জুন ২০২১,   জ্যৈষ্ঠ ২৯ ১৪২৮,   ০১ জ্বিলকদ ১৪৪২

ডিজিটাল ভূমি ব্যবস্থাপনার সুফল পাচ্ছে কুমিল্লার মানুষ

কুমিল্লা প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৯:৩৮ ১৫ মে ২০২১   আপডেট: ১৯:৫৮ ১৫ মে ২০২১

ডিজিটাল ভূমি ব্যবস্থাপনার সুফল পাচ্ছে কুমিল্লার মানুষ

ডিজিটাল ভূমি ব্যবস্থাপনার সুফল পাচ্ছে কুমিল্লার মানুষ

সরকারি সম্পত্তি রক্ষা, রাজস্ব আদায়, ইজারা, রেকর্ড সংরক্ষণের জন্য এখন পুরনো নথি খুঁজতে হয় না। জলমহালসহ ভূমি ইজারা নিতে ছুটতে হয় না এক অফিস থেকে অন্য অফিসে। খাস জমি খুঁজতে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদেরও ছুটতে হচ্ছে না। ভূমি মন্ত্রণালয়ের ডিজিটাল ভূমি ব্যবস্থাপনার মোবাইল অ্যাপসের মাধ্যমেই এখন সহজ হয়েছে জমি সংক্রান্ত গ্রাহক সেবা।

জানা গেছে, কয়েক বছর ধরে ওয়েবসাইটে অনলাইনের মাধ্যমে চলছে ভূমি সেবা কার্যক্রম। এতে কমে গেছে অনিয়ম। উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে রাজস্ব আদায়ও। অনলাইন এ সেবা আরো সহজ করতে তৈরি হয়েছে মোবাইল অ্যাপস। ফলে ডিজিটাল পদ্ধতির হাত ধরে মানুষের সীমাহীন দুর্ভোগ ও হয়রানি থেকে মুক্তির পথে এগিয়ে যাচ্ছে ভূমি ব্যবস্থাপনা। আর ডিজিটাল ভূমি ব্যবস্থাপনার সুফল পাচ্ছে মানুষ।

কুমিল্লার সদরের চম্পকনগর গ্রামের কৃষক আরব আলী বলেন, সাত বছর আগে ৩২ শতক জমি কিনেছিলাম। সেই জমির নামপত্তন ছিল না। দূর্গাপুর ইউনিয়ন ডিজিটাল তথ্যসেবা কেন্দ্রে গিয়ে নামপত্তনের আবেদনের বিষয়টি জানতে পারি। নির্ধারিত ফি জমা দিয়ে অনলাইনে আবেদন করি। এরপর চারধাপ মোবাইলে ম্যাসেজের (এসএমএস) মাধ্যমে কাজের অগ্রগতি জানতে পারি। সর্বশেষ এসএমএস পেয়ে উপজেলা ভূমি অফিস থেকে নামপত্তনের কাগজ গ্রহণ করি। সরকার নির্ধারিত ফি’র বাইরে একটি টাকাও দিতে হয়নি। ঘুষ, দুর্নীতি ও দালালের হয়রানি ছাড়াই ২৮ কর্মদিবসের মধ্যেই কাজ সম্পন্ন হওয়ায় আমি খুশি।

আরেক সেবাগ্রহীতা জেলার বুড়িচং উপজেলার ময়নামতি গ্রামের ফারুক আহমেদ বলেন, ক্রয়সূত্রে ১৪ শতক জমির মালিক আমি। নামপত্তনের জন্য স্থানীয় ইউনিয়ন ডিজিটাল তথ্যসেবা কেন্দ্রে গিয়ে আবেদন করি। আমি ভোগান্তি ছাড়াই সহজেই সেবা পেয়েছি।

প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, এক বছরে কুমিল্লা সদর উপজেলায় অনলাইনে নামজারির সেবা পেয়েছেন ২০ হাজার ১৯১ জন। ডিজিটাল ভূমি ব্যবস্থাপনায় বিপ্লব এনেছে ই-নামজারি পদ্ধতি।

ভরাসার ইউনিয়ন ডিজিটাল তথ্যসেবা কেন্দ্রের উদ্যোক্তা এসএম মনিরুজ্জামান বলেন, গ্রামে বসে ডিজিটাল সেন্টার থেকে ভূমি সেবা পাচ্ছেন সাধারণ নাগরিক। ভূমি অফিসে গেলে অচেনা লোকের কাছে সেবা নিতে হয়রানির শিকার হতে হতো। আমরা গ্রামবাসীর পরিচিতজন। আমাদের সেবামূল্য নির্ধারিত। সে কারণে বাড়তি টাকা গচ্চা দিতে হয় না। প্রতিটি অনলাইন আবেদন দ্রুততম সময়ের মধ্যে দাখিল করে দেয়া হয়। যে কারণে তাদের অর্থের সঙ্গে সময়ও বেঁচে যাচ্ছে। 

সদর ইউনিয়ন ডিজিটাল তথ্যসেবা কেন্দ্রের উদ্যোক্তা মোক্তার হোসেন জানান, ই-নামজারি চালু হওয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত হয়েছে।

কুমিল্লা সদর উপজেলা ভূমি অফিসের ভূমি-বিষয়ক ই-সার্ভিস সেন্টারের উদ্যোক্তা আমিন মাহমুদ বাবু বলেন, আগে সেবা নিতে আসা মানুষ দালালের খপ্পরে পড়ত। এখন সেই সুযোগ নেই। সেবাগ্রহীতার ভোগান্তি কমেছে। অর্থ ও সময়ও সাশ্রয় হচ্ছে। 

বুড়িচং উপজেলার ভূমি কর্মকর্তা মো. শাহআলম জানান, ২০১৯ সালের শেষের দিকে এই উপজেলায় অনলাইনে নামজারির আবেদন গ্রহণ ও নিষ্পত্তি কার্যক্রম ই-নামজারি চালু হওয়ার পর থেকে প্রত্যেক মাসে গড়ে এক হাজারের বেশি আবেদন পড়েছে। অনলাইনে আবেদন নেয়ায় মানুষের ভোগান্তি লাঘব হয়েছে। হাজার টাকার কাজ এখন ২৭ টাকায় হয়ে যাচ্ছে।

কুমিল্লার অতিরিক্ত ডিসি (রাজস্ব) মো. শাখাওয়াত হোসেন রুবেল বলেন, ই-নামজারি চালু করায় হাতের নাগালে ইউনিয়ন তথ্যসেবা কেন্দ্র থেকে সহজেই সাধারণ মানুষ আবেদন করছে। ভোগান্তি ছাড়াই পাচ্ছে সেবা। দুর্নীতিমুক্ত হয়েছে ভূমি অফিস। এতে সাধারণ মানুষের ব্যাপক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকেএ/এইচএন