রিমান্ডে কোনো প্রশ্নের সদুত্তর দিচ্ছেন না বাবুল আক্তার

ঢাকা, শনিবার   ১২ জুন ২০২১,   জ্যৈষ্ঠ ২৯ ১৪২৮,   ০১ জ্বিলকদ ১৪৪২

মিতু হত্যা

রিমান্ডে কোনো প্রশ্নের সদুত্তর দিচ্ছেন না বাবুল আক্তার

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৮:৪২ ১৫ মে ২০২১  

বাবুল আক্তার ও মাহমুদা খানম মিতু- ফাইল ছবি

বাবুল আক্তার ও মাহমুদা খানম মিতু- ফাইল ছবি

চট্টগ্রামে বহুল আলোচিত মাহমুদা খানম মিতু হত্যাকাণ্ডে সাবেক এসপি বাবুল আক্তারকে পাঁচদিনের রিমান্ডে নিয়েছে পিবিআই। তবে রিমান্ডে বাবুল আক্তার মুখ খুলছেন না বলে জানা গেছে।

প্রথম দিন বৃহস্পতিবার (১৩ মে) বাবুল আক্তারকে জিজ্ঞাসাবাদ করা যায়নি। শুক্রবার (১৪ মে) দ্বিতীয় দিন জিজ্ঞাসাবাদে তিনি তেমন কোনো তথ্য দেননি। হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততার বিষয়ে শনিবার (১৫ মে) তাকে আবারো জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পিবিআই সূত্র।

এর আগে, বুধবার (১২ মে) দুপুরে মাহমুদা খানম মিতু হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রট সরোয়ার জাহানের আদালতে হাজির করে রিমান্ড আবেদন করে পিবিআই। আদালত পাঁচদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে। এছাড়া রিমান্ডের প্রতিবেদন ১০ দিনের মধ্যে আদালতে দাখিল করার নির্দেশ দেয়।

পিবিআই কর্মকর্তারা জানান, বাবুল আক্তার রিমান্ডে মামলা সংক্রান্ত কোনো প্রশ্নেরই সদুত্তর দিচ্ছেন না। এছাড়া গ্রেফতার হওয়ার পর পুলিশকে ঢাকার মোহাম্মদপুরের বাবর রোডের বাসার ভুল ঠিকানা দিয়েছেন তিনি। পরে বাবুল আক্তারের গাড়িচালকের সহায়তায় সঠিক ঠিকানা পাওয়া যায়। ওই গাড়িচালক বাবুল আক্তারকে চট্টগ্রাম পিবিআই কার্যালয়ে নিয়ে এসেছিলেন। যদিও মোহাম্মদপুরের ওই বাসায় বাবুলের বর্তমান স্ত্রী ও সন্তানদের পাওয়া যায়নি।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সন্তোষ কুমার চাকমা জানান, ২০১৬ সালের ৫ জুন সকালে নগরের জিইসি মোড়ে সাত বছরের ছেলে মাহিরকে স্কুল বাসে তুলে দিতে যাওয়ার সময় সড়কে খুন হন মিতু। ওই সময় মাহিরকে ধরে রেখেছিল বাবুল আক্তারের সোর্স কামরুল ইসলাম শিকদার ওরফে মুসা, যাকে সিসিটিভির ফুটেজ দেখে শনাক্ত করা হয়েছে। ওই হত্যাকাণ্ডের প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে ছেলে মাহিরের বক্তব্য নেয়া হবে।

সন্তোষ কুমার চাকমা আরো জানান, তদন্তে পাওয়া সাক্ষ্যপ্রমাণ, এজাহার, আগের তদন্ত কর্মকর্তাদের তদন্তের ফলাফল, বিভিন্ন আলামত, সিসিটিভি ফুটেজ, সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন, অস্ত্রের ব্যালেস্টিক পরীক্ষা, আসামি ও সাক্ষীদের জবানবন্দি, মোটরসাইকেল উদ্ধার ও সিডিআর পর্যালোচনা করে দেখা গেছে- বাবুল আক্তার হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। নিজেকে বাঁচাতে তিনি জঙ্গি হামলার কাল্পনিক ঘটনা সাজিয়েছিলেন।

২০১৬ সালের ৫ জুন সকালে চট্টগ্রাম নগরীর জিইসি মোড়ে ছেলেকে স্কুলবাসে তুলে দিতে যাওয়ার সময় সড়কে খুন হন পুলিশ কর্মকর্তা বাবুল আক্তারের স্ত্রী মিতু। ওই সময় পদোন্নতি পেয়ে পুলিশ সদর দফতরে যোগ দিতে ঢাকায় ছিলেন বাবুল। হত্যাকাণ্ডের পর নগরীর পাঁচলাইশ থানায় অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামি করে মামলা করেন বাবুল। তবে তদন্তে তার সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়। এরপর তিনি চাকরি থেকে ইস্তফা দেন। বাবুল সে সময় দাবি করেন তার স্ত্রী জঙ্গি হামলায় নিহত হতে পারেন।

মাহমুদা খানম মিতুর বাবা মোশাররফ হোসেনের অভিযোগ, বাবুল আক্তারের পরকীয়ার কারণে দাম্পত্য কলহের জেরে মিতুকে হত্যা করা হয়েছে। ২০১৩ সালে কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার থাকাকালীন জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর-এর কর্মী গায়ত্রী অমর সিংয়ের সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন বাবুল। এ নিয়ে পারিবারিক কলহের সময় মিতুকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করেন তিনি।

২০১৪ সালের জুলাই থেকে ২০১৫ সালের জুন পর্যন্ত সুদানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে ছিলেন বাবুল আক্তার। ওই সময় তার মোবাইল চট্টগ্রামের বাসায় ছিল। ওই মোবাইলে ২৯ বার ম্যাসেজ দেন গায়ত্রী। এছাড়া বাবুলকে উপহার দেয়া গায়ত্রী অমর সইং-এর দুটি বই পাওয়া যায়। বই দুটিতে বাবুল আক্তারকে উদ্দেশ্য করে ভালোবাসার কথা লিখেছিলেন গায়ত্রী। পরকীয়ার কারণে বাবুল-মিতুর দাম্পত্য জীবনে চরম অশান্তি সৃষ্টি হয়। স্বামীর এসব অনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করে অনেকবার শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন মিতু। নির্যাতনের বিষয়ে মা-বাবাকে জানিয়েছিলেন তিনি।

ডেইলি বাংলাদেশ/এআর