মিতু হত্যায় লেনদেন তিন নয়, ৬-৯ লাখ!

ঢাকা, বুধবার   ০৪ আগস্ট ২০২১,   শ্রাবণ ২০ ১৪২৮,   ২৪ জ্বিলহজ্জ ১৪৪২

মিতু হত্যায় লেনদেন তিন নয়, ৬-৯ লাখ!

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ০২:৩৫ ১৪ মে ২০২১   আপডেট: ০৩:১৭ ১৪ মে ২০২১

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

মিতুর হত্যাকারীদের তিন লাখ নয়, কয়েক দফায় আরো বেশি টাকা দিয়েছিলেন বাবুল আক্তার। সেই অংকটি হতে পারে ছয় থেকে নয় লাখ পর্যন্ত। পাওয়া যাচ্ছে এর প্রমাণও।

বৃহস্পতিবার এমনটি দাবি করেন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) প্রধান উপ-মহাপরিদর্শক বনজ কুমার মজুমদার। তিনি বলেন, খুনিদের সঙ্গে বাবুলের লেনদেন হওয়া টাকার পরিমাণ ছয় থেকে নয় লাখও হতে পারে। ধাপে ধাপে এসব টাকা দিয়েছিলেন বাবুল।

জানা গেছে, স্ত্রী হত্যার তিনদিন পর ব্যবসায়িক অংশীদার সাইফুল হকের কাছে লাভের অংশ থেকে তিন লাখ টাকা চান বাবুল আক্তার। পরে ওই টাকা বিকাশের মাধ্যমে গাজী আল মামুনকে পাঠান সাইফুল। এরপর গাজী আল মামুন টাকাগুলো মুসা, ওয়াসিমসহ অন্যান্য আসামিদের ভাগ করে দেন।

মঙ্গলবার চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম শফি উদ্দিনের আদালতে সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন বাবুলের ব্যবসায়িক অংশীদার সাইফুল ও মামুন। সেখানে বাবুলের নির্দেশে স্ত্রী হত্যায় জড়িতদের টাকা দেয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন তারা।

এদিকে, বৃহস্পতিবার থেকে বাবুল আক্তারকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পিবিআই। তাকে জিজ্ঞাসাবাদে আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে বলে মনে করছেন কর্মকর্তারা।

মিতু হত্যার পর বাবুলের অঝোর কান্নার দৃশ্য আবেগাক্রান্ত করেছিল দেশের মানুষকেও। কিন্তু পুলিশের তদন্তে ধীরে ধীরে খোলাসা হতে থাকে কান্নার আড়ালে লুকিয়ে থাকা আরো একটি দৃশ্য। বিভিন্ন আলামত ও তথ্য-প্রমাণকে সামনে রেখে ঘুরে যায় মামলার গতিপ্রকৃতি।

মঙ্গলবার পিবিআই চট্টগ্রাম অঞ্চলের মেট্রো কার্যালয়ে যান বাবুল আক্তার। সেখানে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক সন্তোষ কুমার চাকমাসহ পিবিআইয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এরপর থেকে তাকে হেফাজতে নেয় পিবিআই। সেদিনের জিজ্ঞাসাবাদে বাবুল বেশকিছু প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেননি বলে পরবর্তীতে জানান পিবিআই কর্মকর্তারা।

পরে বুধবার সকালে রাজধানীর ধানমন্ডিতে পিবিআই সদর দফতরে এক সংবাদ সম্মেলনে স্ত্রী হত্যার সঙ্গে বাবুলের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে বলে জানান পিবিআইয়ের প্রধান উপ-মহাপরিদর্শক বনজ কুমার মজুমদার।

এরপর দুপুরে বাবুল আক্তারকে প্রধান আসামি করে নগরীর পাঁচলাইশ থানায় হত্যা মামলা করেন মিতুর বাবা মোশাররফ হোসেন। মামলায় বাবুল আক্তার ছাড়াও আরো সাতজনকে আসামি করা হয়। আসামিদের মধ্যে তিন লাখ টাকা বণ্টনের বিষয়টি মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়।

এর পরপরই প্রায় পাঁচ বছর আগে করা বাবুল আক্তারের মামলাটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেয় পিবিআই। সেই প্রতিবেদনেও উঠে আসে টাকা ভাগবাটোয়ারার কথা।

পরে দুপুর আড়াইটার দিকে বাবুল আক্তারকে আদালতে হাজির করে সাতদিনের রিমান্ডের আবেদন জানায় পিবিআই। শুনানি শেষে তার পাঁচদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন মহানগর হাকিম সরওয়ার জাহানের আদালত।

এর মধ্যে বুধবার রাতে আসামি সাইদুল ইসলাম সিকদার ওরফে শাকুকে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার রানীরহাট বাজার এলাকা থেকে গ্রেফতার করে র‍্যাব। বৃহস্পতিবার তাকে আদালতে হাজির করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের আবেদন জানানো হয়। শুনানি শেষে তার চারদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন বিচারক।

২০১৬ সালের ৫ জুন সকালে নগরের জিইসি মোড়ের কাছে ওআর নিজাম রোডে ছেলেকে স্কুলবাসে তুলে দিতে যাওয়ার পথে গুলি ও ছুরিকাঘাতে নির্মমভাবে খুন হন তৎকালীন এসপি বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু। এ ঘটনায় পাঁচলাইশ থানায় একটি হত্যা মামলা করেন বাবুল আক্তার। মামলাটি তদন্ত করছিল নগর ডিবি পুলিশ। পরে গত বছরের জানুয়ারিতে আদালতের নির্দেশে মামলার তদন্তভার পায় পিবিআই।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর