চা-নাস্তা ছাড়া পাস হয় না লোন 

ঢাকা, বুধবার   ১৬ জুন ২০২১,   আষাঢ় ৩ ১৪২৮,   ০৪ জ্বিলকদ ১৪৪২

চা-নাস্তা ছাড়া পাস হয় না লোন 

শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৯:৪৩ ১২ মে ২০২১  

জনতা ব্যাংক, শরণখোলা শাখা

জনতা ব্যাংক, শরণখোলা শাখা

বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার রায়েন্দা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সাহিদা বেগম। দুর্যোগের বছরে মেয়ের উচ্চ শিক্ষার জন্য হঠাৎ করে কয়েক লাখ টাকার প্রয়োজন হয়ে পড়ে। তাই বাধ্য হয়ে তিনিসহ তার নিকট আত্মীয় এক শিক্ষককে ম্যানেজ করে সার্ভিস লোনের জন্য সম্প্রতি জনতা ব্যাংকের শরণখোলা শাখায় আবেদন করেন। 

ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তাদের সব কাগজ-পত্র পর্যালোচনা করে ওই শিক্ষকের অনুকূলে ১০ লাখ টাকা সার্ভিস লোন দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তবে, ব্যাংকের লোন বিতরণকারী কর্মকর্তা মো. ইয়াসিন আলম, সাহিদা বেগমের কাছে স্ট্যাম্প, অডিট ও ম্যানেজারের খরচসহ কয়েক হাজার টাকা দাবি করেন।

তিনি বলেন, চা-নাস্তার খরচ ছাড়া এতোগুলো টাকা লোন দেয়া যায় না। এক পর্যায়ে বহু অনুরোধ করে ওই কর্মকর্তাকে ছয় হাজার ১০০ টাকা উৎকোচ দেন তিনি। 

শিক্ষিকা সাহিদা বেগমের স্বামী সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা মো.এমাদুল হক বলেন, দীর্ঘদিন জনতা ব্যাংকে চাকরি করেছি। বর্তমানে অবসরে আছি। এক সময়ে শরণখোলা শাখায় লোন অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। আমার সহকর্মীরা সাহিদার সঙ্গে এমন আচরণ করে তারা আমাকে আমার পরিবারের কাছে খাটো করেছেন। এভাবে জোর করে উৎকোচ নেয়ার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের জেলা শাখা কর্মকর্তাকে লিখিতভাবে জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। 

তবে, এ বিষয়ে জানতে চাইলে জনতা ব্যাংক শরণখোলা শাখার লোন বিতরণকারী কর্মকর্তা মো. ইয়াসিন আলম বলেন , স্ট্যাম্প বাবদ কিছু টাকা দিয়েছেন। তবে, টাকার পরিমাণ কত ছিল তা দেখি নি। 

ম্যানেজার সুজন কুমার পোদ্দার জানান, উৎকোচ গ্রহণের বিষয়টি সঠিক নয়। তবে, ইফতার খরচ বাবদ কিছু টাকা ওই শিক্ষিকা খুশি হয়ে দিয়ে গেছেন। বিষয়টি নিয়ে পরে উভয়ের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছে। 

জনতা ব্যাংকের বাগেরহাট জেলা কর্মকর্তা মো. আবুল বাশার মুঠোফোনে জানান, বিষয়টি শুনেছি এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে