বৃক্ষের অভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে বজ্রপাতে মৃত্যু

ঢাকা, রোববার   ২০ জুন ২০২১,   আষাঢ় ৭ ১৪২৮,   ০৮ জ্বিলকদ ১৪৪২

বৃক্ষের অভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে বজ্রপাতে মৃত্যু

পটুয়াখালী প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৬:২৯ ১২ মে ২০২১   আপডেট: ১৫:৪৫ ১৩ জুন ২০২১

বজ্র প্রতিরোধক গাছের অভাবে বজ্রপাতে মানুষের মৃত্যুর হার বেড়ে যাচ্ছে

বজ্র প্রতিরোধক গাছের অভাবে বজ্রপাতে মানুষের মৃত্যুর হার বেড়ে যাচ্ছে

২০১৬ সালে বজ্রপাতে বাংলাদেশে প্রায় ৩৫০ জন মানুষ মারা যাওয়ার পর সরকার বজ্রপাতকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে ঘোষণা করে। পটুয়াখালীতে গত বছর বজ্রপাতে প্রাণহানির সংখ্যা ছিল প্রায় ১২ জন। এ বছর পটুয়াখালী জেলায় বজ্রপাতে মানুষ এবং গবাদি পশুর মৃত্যুর সংখ্যা যেমন বাড়ছে, তেমনি বজ্রপাতের প্রবণতাও বাড়ছে। 

এরইমধ্যে বজ্রপাতে  জেলায় প্রায় ৫ জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে পটুয়াখালী সদর উপজেলায় ইব্রাহিম হাওলাদার নামে এক যুবক নিহত হয় এবং গলাচিপায় মোস্তাফিজ ও মনির আকন নামে দুইজন নিহত হয়েছেন। এছাড়াও দুমকিতে এবং মির্জাগঞ্জেও ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। 

পটুয়াখালীর আঞ্চলিক আবহাওয়াবিদদের পর্যবেক্ষণে এই জেলার গলাচিপা-রাঙ্গাবালী উপজেলা বজ্রপাত প্রবণ এলাকাগুলোর মধ্যে অন্যতম বলে জানিয়েছেন। 

বজ্র প্রতিরোধক গাছের অভাবে বজ্রপাতে মানুষের মৃত্যুর হার বেড়ে যাচ্ছে

বিশেষজ্ঞদের মতে, পটুয়াখালীতে বজ্রপাতে মৃত্যুর অন্যতম কারণ খোলা প্রান্তর ও বজ্র নিরোধক বৃক্ষের অভাব। শহরাঞ্চলের অনেক বাসাবাড়িই এখন বজ্র নিরোধক। কিন্তু গ্রামাঞ্চলে বজ্র প্রতিরোধক হয়ে কাজ করে বিশাল বৃক্ষ। এছাড়াও গ্রীষ্মকালে এ অঞ্চলে তাপমাত্রা বেশি থাকায় বজ্রপাতের ভয়াবহ পরিস্থিতির তৈরি হয়। 

তাদের মতে, বছরের মে মাসে পটুয়াখালীতে সবচেয়ে বজ্রপাতে নিহতের সংখ্যা বেশি। এই সময়ে কৃষকেরা মাঠে কাজ করে এবং সেই মুহূর্তে বজ্রপাত হলে মৃত্যুর আশংকা থাকে। এ সব অঞ্চলে বড় বৃক্ষ তালগাছ, নারিকেল গাছ কম রোপণ করায় মাঠে বজ্রপাতের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। 

পটুয়াখালী ব্র্যাক এর দুযোর্গ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞরা জানান, জেলায় বজ্রপাতে মানুষের মৃত্যুর হার বেড়ে যাচ্ছে। এর প্রধান কারণ উঁচু বা লম্বা গাছপালা কেটে ফেলা। মাঠে বা রাস্তার পাশে বড় বৃক্ষ থাকলে ওই বৃক্ষেই বজ্রপাত হতো, গাছ টেনে নিতো। কিন্তু সেটা না থাকায় খোলা মাঠ, হাওর বা নদীতে বজ্রপাতের কারণে মানুষ মারা যাচ্ছে। 

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় দুযোর্গ ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আলমগীর হোসেন বলেন, তালগাছের মতো গাছগুলো খোলা মাঠে রোপণ করা উচিত। তাহলেই এটি বজ্রপাতে বেশি কাজে দেবে। পটুয়াখালীতে বেশিরভাগ বজ্রপাতে মৃত্যু ঘটে কৃষক যখন মাঠে কাজ করে সেই অবস্থায়। তাই গ্রাম-গঞ্জের মাঠে এবং রাস্তার পাশে বড় বৃক্ষ রোপণ করতে হবে। 

পটুয়াখালী দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অফিসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সরকার বজ্রপাত রোধে দেশের বিভিন্ন স্থানে মোট ২৮ লাখ তালগাছ লাগানোর পরিকল্পনা নিয়েছিল এবং তা বাস্তবায়ন করা হয়েছিল। কিন্তু যেহেতু তালগাছ বড় হতে সময় লাগে তাই গ্রামগঞ্জে এসব তালগাছ এখনও বজ্রপাত নিরোধক হিসেবে কাজ করছে না। তাল, নারকেল, বটসহ নানা ধরনের বড় গাছ বজ্রপাতের আঘাত নিজের শরীরে নিয়ে নেয়। আগে নিজ উদ্যোগে গ্রামগঞ্জের মানুষ এ ধরনের গাছ বেশি রোপণ করতো। ফলে বজ্রপাত হলেও মানুষ বেঁচে যেত। 

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে