রিকশার চাকায় জড়িয়ে বাবা-ছেলে-নাতনির রুটিরুজি

ঢাকা, মঙ্গলবার   ১৫ জুন ২০২১,   আষাঢ় ২ ১৪২৮,   ০৩ জ্বিলকদ ১৪৪২

রিকশার চাকায় জড়িয়ে বাবা-ছেলে-নাতনির রুটিরুজি

জামালপুর প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৭:৪১ ৯ মে ২০২১   আপডেট: ১৭:৪২ ৯ মে ২০২১

বৃদ্ধ হাতেম আলীর সঙ্গে নাতনি আঁখি ও ছেলে রবিউল

বৃদ্ধ হাতেম আলীর সঙ্গে নাতনি আঁখি ও ছেলে রবিউল

কয়েক মাস ধরেই অসুস্থ জামালপুর পৌর এলাকার পাথালিয়া গ্রামের বৃদ্ধ রিকশাচালক হাতেম আলী। শ্বাসকষ্ট বেড়েছে, তার ওপর রোজা আর তীব্র গরম। এ অবস্থায় রিকশা নিয়ে বের হওয়ার মতো সাহস ও শক্তি কোনোটাই নেই তার। সামনে আবার ঈদ। রিকশার চাকা না ঘুরলে থেমে যায় জীবনের গতি। বন্ধ হয়ে যায় আহার-নিদ্রা। চাকার আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে তার পরিবারের রুটি-রুজি, ওষুধ।

আয়ের অন্য কোনো উৎস না থাকায় নিজের শরীর আর রিকশাই ভরসা হাতেম আলীর। কিন্তু বৃদ্ধ শরীরের মতো রিকশাটিও প্রায় অচল। ব্যাটারি ডাউন হয়ে গেছে, টাকার অভাবে বদলাতে পারছেন না।

অচল দেহ আর অচল রিকশার কারণে এবার হয়তো ঈদ হবে না হাতেম আলী পরিবারে। নিজের জন্য একটি লঙ্গি জামা ও প্রতিবন্ধী ছেলে ও নাতনির জন্য নতুন কাপড় কেনা হবে না।

জানা গেছে, হাতেম আলীর স্ত্রী নয়তন মারা গেছেন ১৫ বছর আগে, রেখে গেছেন দুই ছেলে ও এক মেয়েকে। মেয়েটা থাকে শ্বশুরবাড়ি। বড় ছেলে রতন বিবাহিত, তার আলাদা সংসার। সে আগে ঢাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করত। এখন গ্রামে রাজমিস্ত্রীর কাজ করে। ছোট ছেলে রবিউল বুদ্ধি প্রতিবন্ধী। তাকেও বিয়ে করিয়েছিলেন হাতেম আলী। সেই ঘরে একটি মেয়ে আছে, সেও প্রতিবন্ধী। দুই বছর আগে স্বামী-মেয়েকে ফেলে বাবার বাড়ি চলে গেছে রবিউলের স্ত্রী মুক্তা বেগম। এখন ছেলে আর নাতনিকে নিয়েই হাতেম আলীর সংসার।

বৃদ্ধ রিকশাচালক হাতেম আলী জানান, পৌর মেয়র সানোয়ার হোসেন ছানুর দেয়া রিকশাটা ছাড়া আর কোনো অবলম্বন নেই তার। কিছুদিন ধরে রিকশার ব্যাটারিও ডাউন হয়ে পড়ে আছে। বদলাতে ৩০-৩৫ হাজার টাকা লাগে। এতগুলো টাকা জোগার করা তার পক্ষে সম্ভব নয়। এছাড়া কয়েক মাস ধরে তার শরীরটাও ভালো না।

সব মলিয়ে এবার ঈদ হচ্ছে না হাতেম আলীর পরিবারে। এ পরিস্থিতিতে বিত্তবানরা তার পাশে দাঁড়ালে প্রতিবন্ধী ছেলে ও নাতনিকে নিয়ে কোনোরকমে খেয়ে-পরে বাঁচতে পারবেন তিনি।

জামালপুর পৌরসভার মেয়র সানোয়ার হোসেন ছানু বলেন, বৃদ্ধ হাতেম আলীর কথা শুনেছি। তাকে সহযোগিতার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এআর