শিগগিরই কমছে না চালের দাম

ঢাকা, শুক্রবার   ১৮ জুন ২০২১,   আষাঢ় ৬ ১৪২৮,   ০৬ জ্বিলকদ ১৪৪২

শিগগিরই কমছে না চালের দাম

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:০২ ৯ মে ২০২১  

কুষ্টিয়ার খাজানগর মোকাম

কুষ্টিয়ার খাজানগর মোকাম

নতুন ধান ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই কুষ্টিয়ার খাজানগরের মোকামের ৭০ ভাগ রাইস মিল চালু হয়েছে। সব মিল মালিক একসঙ্গে ধান কিনতে যাওয়ায় বাজারে দাম বেড়ে যাচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে শিগগিরই চালের দাম কমবে না বলে জানিয়েছেন তারা।

কুষ্টিয়ায় মিলগেটে সরু মিনিকেট চাল বিক্রি হচ্ছে ৫০-৫১ টাকা কেজি। শহরের খুচরা বাজারে সেটি বিক্রি হচ্ছে ৫৫-৫৬ টাকায়। মৌসুম পুরোপুরি শুরু না হলে চালের এ দাম কমবে না, উল্টো কেজিতে ১-২ টাকা বাড়তে পারে বলেও জানিয়েছেন মিল মালিকরা।

মিল মালিক ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ধান কাটা শুরুর পর কয়েকদিন দাম কিছুটা কম ছিল। মিল চালু হওয়ায় কৃষকরা হঠাৎ দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। এ কারণে চালের দাম না কমে উল্টো বাড়বে।

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধান-চালের মোকাম কুষ্টিয়ার খাজানগর। এ মোকামে প্রায় ৩৫০টি রাইস মিল রয়েছে। এরমধ্যে বড় অটো রাইস মিল ৫৫টি, বাকিগুলো হাসকিং মিল। ধান সংকটে মার্চ-এপ্রিল বন্ধ থাকে প্রায় সব মিলের কার্যক্রম। নতুন ধান ওঠায় এরই মধ্যে ৭০ ভাগ চালকল চালু হয়েছে। খাজানগর মোকামে আবার বেড়েছে কর্মচাঞ্চল্য। পুরোদমে উৎপাদন শুরু হয়েছে অনেক মিলেই।

ধান ভালোমতো না শুকালে দাম পাওয়া যায় না। সেজন্য পুরোদমে চলছে কাজ

কুষ্টিয়া চালকল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদিন প্রধান বলেন, গত বছর ধানের দাম মণপ্রতি ১৪০০ টাকাও পেয়েছি। কিন্তু এবার কৃষকরা কম দামে বিক্রি করছে না।

জেলা মিল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. ওমর ফারুক বলেন, আমার মিল চালু হলো দুই মাস পর। মিলগেটে এখন ভালো মানের মিনিকেট চাল বিক্রি হচ্ছে ৫০-৫১ টাকা কেজি। এবার প্রথম থেকেই ধানের দাম বেশি। ২৮ ধান ১১০০ টাকা, মিনিকেট ১১৩০-১১৪০ টাকা মণ।

দৌলতপুরের আড়িয়া ইউনিয়নের ঘোগা গ্রামের কৃষক কাবের মিয়া বলেন, বাজারে ৮১ জাতের ধান ১০৭০ টাকা, মিনিকেট ও ২৮ জাতের ধান ১১০০ টাকা মণ বিক্রি হচ্ছে। ধান ভালোমতো শুকিয়ে বিক্রি করলে ভালো দাম পাওয়া যায়।

ফোর স্টার রাইস মিলের পরিচালক শরিফুল ইসলাম বলেন, ধানের দাম বেশি থাকায় চালের দাম কমার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। খাজানগরে অটোমেটিক মিলের মিনিকেট চালের ৫০ কেজির বস্তা বিক্রি হচ্ছে ২৫৫০-২৬০০ টাকায়। হাসকিং মিলের মিনিকেট চালের ৪০ কেজির বস্তা বিক্রি হচ্ছে ১৮০০ টাকায়। এসব মিলের চালও কালার সর্টার মেশিন দিয়ে পলিশ করে এক নম্বর হিসেবে বিক্রি করা হয়।

বাংলাদেশ অটো রাইসমিল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের কুষ্টিয়া জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. মফিজুল ইসলাম বলেন, মৌসুম পুরোপুরি শুরু হলে খাজানগর মোকাম থেকে প্রতিদিন ৩০০ ট্রাক চাল যাবে দেশের বিভিন্ন এলাকায়। তখন দাম কমার সম্ভাবনা রয়েছে।

শুকনো ধান বাজারে বিক্রির জন্য প্রস্তুত। মেপে ভরা হচ্ছে বস্তায়

জেলা বাজার তদারকি কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম বলেন, কোন বাজার থেকে কত দামে ধান কিনছেন মিল মালিকরা আর চাল কত দামে বিক্রি করছেন তা মনিটরিং করা হচ্ছে। মিলগুলো উৎপাদনে গেলেও নতুন চাল বিক্রি বাড়েনি। কোনো অনিয়ম দেখা দিলে বা মুনাফা বাড়ালে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কুষ্টিয়া পৌর বাজারের ব্যবসায়ী মো. আরিফ বলেন, নতুন আসা মিনিকেট বিক্রি হচ্ছে ৫৫-৫৬ টাকা কেজি। ভাত ভালো হয় না বলে এখনো নতুন চালের বিক্রি বাড়েনি। পুরাতন মিনিকেট চাল ৬২ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।

কুষ্টিয়া জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক এসএম তাহসিনুল হক বলেন, মিল মালিকদের কাছ থেকে এবার ৪০ টাকা কেজি চাল কিনবে সরকার। গতবার এই দর ছিল ৩৬ টাকা। এই দামে খুশি হয়েছেন মিল মালিকরা। জেলায় মোট সিদ্ধ চাল কেনা হবে ৩৪ হাজার ৪৪৬ টন। আর ২৭ টাকা কেজি দরে কৃষকদের কাছ থেকে চার হাজার ৯৭৭ টন ধান কেনা হবে। গত বছর ধানের দাম ছিল ২৬ টাকা কেজি।

তিনি আরো বলেন, পুরোপুরি ধান কাটা শুরু হলে দাম কমে আসবে। তখন কৃষকদের কাছ থেকে ১০৮০ টাকা মণপ্রতি ধান কেনা হবে। ধান ও চালের বাজার স্থিতিশীল রাখতে মৌসুমের শুরু থেকেই উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এআর