সালথায় খাল খননে অনিয়ম

ঢাকা, শুক্রবার   ১৮ জুন ২০২১,   আষাঢ় ৬ ১৪২৮,   ০৬ জ্বিলকদ ১৪৪২

সালথায় খাল খননে অনিয়ম

সালথা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৪:৪১ ৯ মে ২০২১   আপডেট: ১৫:৫১ ১৩ জুন ২০২১

চান্দাখোলা বারো ফুট খাল খনন কাজ করা হচ্ছে মাত্র একটি এক্সকেভেটর দিয়ে।

চান্দাখোলা বারো ফুট খাল খনন কাজ করা হচ্ছে মাত্র একটি এক্সকেভেটর দিয়ে।

ফরিদপুরের সালথায় খাল এবং জলাশয় পুনঃখনন প্রকল্পের  শুরু থেকেই ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। খাল ও বাঁওড় পুনঃখননের নামে যোগসাজসে পৃথক দুটি প্রকল্পের টাকা আত্মসাতের চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে খনন সেন্ডিকেটের বিরুদ্ধে।

জানা গেছে, উপজেলার মাঝারদিয়া ইউপির মাঝারদিয়া হাজিবাড়ি থেকে সোনাপুর ইউপির চান্দাখোলা পর্যন্ত ১৫ হাজার ৭৮৬ ঘন মিটার খাল পুনঃখননের জন্য ১৯ লাখ ৬৫ হাজার টাকা এবং ১৬ হাজার ৪৪ ঘন মিটার কাগদী সরকারি বাঁওড়ের একাংশ পুনঃখননের জন্য ১৯ লাখ ৯৭ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয় মৎস্য অধিদফতর ও মৎস্য প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়। 

চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকল্প দুটির খনন কাজ শুরু করেন প্রকল্প সভাপতি সালাউদ্দিন খান পান্নু। খনন প্রকল্পের কাজ দুটি ৩১ মার্চের মধ্যে শেষ করার কথা থাকলেও এখনও কাজ শেষ হয়নি।

শনিবার সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, চান্দাখোলা বারো ফুট খাল খনন কাজ করা হচ্ছে মাত্র একটি  এক্সকেভেটর দিয়ে। কাজের সাইডে প্রকল্প সভাপতি বা তদারকি কর্মকর্তারা কেউ নেই। খাল খননে ৩ ফুট গভীর করার কথা থাকলেও এক থেকে দেড় ফুট গভীর করে খনন কাজ করা হচ্ছে। আবার খালের অনেক স্থানে খননই করছে না।

খালের দুই পাড়ে বসবাসরতরা অভিযোগ করে বলেন, দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে শ্রমিক দিয়ে খাল খনন করার কথা। অথচ এক্সকেভেটর দিয়ে খনন কাজ করায় বঞ্চিত হচ্ছে শ্রমিকরা। খালের দুই পাড়ে এমনভাবে মাটি রাখা হয়েছে, যা বৃষ্টি নামলেই মাটি ধ্বসে পড়ে পুনরায় খাল ভরে যাবে।

সালতায় খাল ও বাঁওড় পুনঃখননে  অনিয়মের অভিযোগ।

এদিকে কাগদী বাঁওড়ে খননে গিয়ে দেখা যায়, মাত্র একটি এক্সকেভেটর দিয়ে বাঁওড়ের চারদিকে পাড় বাঁধছে। এখানে গভীর করে খননের কোনো চিত্র দেখা যায়নি। 

একাধিক সূত্র জানায়, প্রকল্প সভাপতি সালাউদ্দীন খান পান্নু তার প্রভাবশালী এক আত্মীয়’র মাধ্যমে মৎস্য অধিদফতর থেকে লবিং করে বিভিন্ন খাল ও বাঁওড় খননের প্রকল্প এনে লুটপাট করে আসলেও দেখার কেউ নেই। এখনও মৎস্য অধিদপ্তরের কয়েকটি খাল ও বাঁওড় খননের কাজ করছে। সালথায়ও তার দুটি খনন প্রকল্পের কাজ জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ও উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার সঙ্গে যোগসাজস করে লুটপাটের চেষ্টা করছে। তাই খাল ও বাঁওড় পুনঃখননে এভাবে অনিয়ম করছেন তিনি।

খাল ও বাঁওড় পুনঃখননে অনিয়মের বিষয় বক্তব্য জানতে চাইলে প্রকল্প সভাপতি সালাউদ্দীন খান পান্নু বক্তব্য না দিয়ে তিনি বলেন, আপনারা আমার ভাই-ব্রাদার। এ নিয়ে লেখালেখি করবেন কেন। আমি আপনাদের সঙ্গে দেখা করবো।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা রাজিব রায় বলেন, নীতিমালা অনুযায়ী কাজ না করলে বিল দেয়া হবে না। খাল ও বাঁওড় পুনঃখননে যতটুকু গভীর করে কাটবে ততটুকুর বিল দেয়া হবে। আর আগের প্রকল্পগুলোতে দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে শ্রমিক দিয়ে কাজ করার কথা থাকলেও বর্তমান প্রকল্পে এক্সকেভেটর দিয়ে কাজ করার কথা রয়েছে।

ফরিদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম বলেন, খাল ও বাঁওড় খননের কাজ দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তবে অনিয়মের বিষয় তিনি কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হয়নি।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে