ছোট হাতে সংসারের বড় দায়িত্ব 

ঢাকা, বুধবার   ২৩ জুন ২০২১,   আষাঢ় ১০ ১৪২৮,   ১১ জ্বিলকদ ১৪৪২

ছোট হাতে সংসারের বড় দায়িত্ব 

আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৩:০৯ ৯ মে ২০২১   আপডেট: ১৩:১৫ ৯ মে ২০২১

সংসারের বোঝা কাঁধে নিয়ে রিকশার হান্ডেল ধরেছেন হৃদয় নামে এক কিশোর। 

সংসারের বোঝা কাঁধে নিয়ে রিকশার হান্ডেল ধরেছেন হৃদয় নামে এক কিশোর। 

যে বয়সে স্কুলে লেখাপড়াসহ অন্য ছেলেদের সঙ্গে হেসে-খেলে আনন্দ উল্লাসে বেড়ে উঠার কথা, সে বয়সে সংসারের বোঝা কাঁধে নিয়ে রিকশার হান্ডেল ধরেছেন হৃদয় নামে এক কিশোর। 

কিশোর হৃদয়ের বয়স অল্প হলেও পরিবারে থাকা মা বাবাসহ ছোট ভাইদের বিশাল বোঝা এখন তার কাঁধে নিয়ে ছোট হাতে সংসারের এক বড় দায়িত্ব পালন করছে। নিত্যদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিরামহীন তিন চাকার রিকশার প্যাডেল ঘুরিয়ে যা উপার্জন করে তা দিয়েই চলছে তার পরিবার । 

এক দিকে বাবা অসুস্থ অন্য দিকে ৭ জনের সংসার চালাতে গিয়ে কিশোর বয়সেই সে যেন হাঁপিয়ে উঠলেও তার চোখে মুখে নেই কোনো দু:খের ছাপ। হাসি মুখে যেন এ দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। 

আখাউড়া পৌর শহরের সড়ক বাজার মোটর স্ট্যান্ড এলাকায় কথা হয় তার সঙ্গে। সে জানায়, তার পরিবারে ৭ জন সদস্য রয়েছেন। গত ১ বছর ধরে আখাউড়-সিঙ্গারবিল এলাকায় রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে আসছে। হৃদয় সদর উপজেলার বিজয়নগরের সিঙ্গারবিল এলাকার ফরিদ মিয়ার ছেলে। পাঁচ ভাইয়ের  মধ্যে হৃদয় দ্বিতীয়। তার বাবা এক সময় দৈনিক পরিশ্রমের কাজ করতেন। এই আয় দিয়ে চলতো তাদের সংসার। হঠাৎ তার বাবা অসুস্থ হওয়ায় এখন আর কাজ করতে পারছেন না। তাই বেশির ভাগ সময় বাড়িতে শুয়ে বসে কাটাতে হয়। 

এদিকে তার বড় ভাই বিয়ের পর মা বাবাকে ফেলে আলাদা হয়ে অন্যত্র চলে যায়। এরপরে সংসারে নেমে আসে ঘোর অন্ধকার। সংসারে অভাব অনটন লেগে থাকায় অনাহারে অর্ধাহারে চলতে হয়েছে তাদের। কোনো উপায় না পেয়ে অটো রিকশা চালাতে রাস্তায় তার নামতে হয়। গত ১ বছর ধরে আখাউড়া-সিঙ্গারবিল এলাকায় রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন। 

হৃদয় জানায়, ছোট বেলা থেকে পড়াশুনা করার তার খুবই ইচ্ছা ছিল। কিন্তু অভাব অনটনের কারণে তার সেই ইচ্ছা পূরণ হয়নি। এখন সকাল-বিকেল সংসারের অভাব অনটন পূরণে মাথার গাম পায়ে ফেলে রিকশার প্যাডেল ঘোরাতে হচ্ছে।

হৃদয়ের ভাষ্য, ঈদ উপলক্ষে রাস্তায় লোক চলাচল কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে সেই সঙ্গে আয় রোজগার ও অনেক বেড়েছে। সকাল থেকে বিকাল পযর্ন্ত রিকশা চালিয়ে মালিকের ভাড়া দিয়ে দৈনিক ৪শ’ টাকা আয় হয় বলে জানায়। সারা দিনের আয়ের টাকা সে মায়ের হাতে তুলে দেয়। সে টাকায় চাল, ডাল, সবজিসহ অন্যান্য জিনিস কেনা হয়। তবে যে দিন রিকশা নিয়ে বের হতে না পারি সে দিন খুবই কষ্টে যায়।

হৃদয় জানায়, প্রথম প্রথম লোকজন তার রিকশায় উঠতো না। তখন খুবই খারাপ লাগতো। এখন আর সে সমস্যা হয় না। লকডাউনের সময় যখন সব কিছু বন্ধ ছিল তখন পরিবার নিয়ে খুবই কষ্ট করতে হয়েছে। 

সে আরো জানায়, তার বয়সের ছেলেরা যখন খেলাধুলা করে তখন খুবই ইচ্ছে করে তাদের সঙ্গে খেলতে। কিন্তু পরিবারের কথা চিন্তা করে রিকশার প্যাডেল ঘোরাতে ঘোরাতে সেই সময় আর হয়ে উঠেনি। 

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে