টিকটক-লাইকিতে আপত্তিকর ছবি, স্ত্রীকে বাঁচতে দিলেন না স্বামী

ঢাকা, রোববার   ২০ জুন ২০২১,   আষাঢ় ৬ ১৪২৮,   ০৮ জ্বিলকদ ১৪৪২

টিকটক-লাইকিতে আপত্তিকর ছবি, স্ত্রীকে বাঁচতে দিলেন না স্বামী

বাগেরহাট প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ০৯:৩২ ৯ মে ২০২১   আপডেট: ০৯:৩৬ ৯ মে ২০২১

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

ভালোবেসে করেছিলেন বিয়ে। প্রায় এক বছরের সংসার। বিয়ের প্রথমে ভালোই কাটছিল স্বামী-স্ত্রীর দিন। হঠাৎ তাদের দাম্পত্য জীবনে বাধা হয়ে দাঁড়ায় টিকটক আর লাইকি অ্যাপস। টিকটিক-লাইকিতে নিয়মিতই ‘আপত্তিকর’ ছবি পোস্ট করতেন স্ত্রী। এসব সহ্য করতে পারছিলেন না স্বামী। তাই শেষমেশ স্ত্রীকে মেরেই ফেললেন।

ঘটনাটি ঘটেছে বাগেরহাট শহরে দশানী উত্তরপাড়া এলাকায়। শনিবার সন্ধ্যায় স্ত্রীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

নিহতের নাম সোমা আক্তার। বয়স ১৯ বছর। তিনি বাগেরহাট সদর উপজেলার সিংড়াই গ্রামের আব্দুল করিম বকসের মেয়ে। পড়াশোনা করতেন বাগেরহাট সরকারি পিসি কলেজে ইংরেজি বিভাগে অনার্স প্রথম বর্ষে।

সোমার স্বামীর নাম আব্দুল্লাহ আল নাঈম ওরফে শান্ত। তিনি রাত সাড়ে ৮টার দিকে বাগেরহাট মডেল থানায় আত্মসমর্পণ করেছেন। শান্ত দশানী উত্তরপাড়া এলাকার গোলাম মোহাম্মাদের ছেলে। তিনি ঢাকায় একটি বায়িং হাউজে কাজ করতেন। ভালোবেসে ২০১৯ সালে সোমাকে বিয়ে করেছিলেন।

আত্মসমর্পণকারী নাঈমের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, লাইকি অ্যাপস ও বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সোমার অ্যাকাউন্ট ছিল। সেসব অ্যাকাউন্টে আপত্তিকর ছবি পোস্ট করতেন সোমা। এসব নিয়ে স্বামী নাঈমের সঙ্গে তার ঝামেলা হচ্ছিল।

শনিবার ঢাকা থেকে ফিরে সোমাকে ফোন করেন নাঈম। বিকেল তিনটার দিকে স্বামীর বাড়িতে আসেন সোমা। সেখানে সন্ধ্যার দিকে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে সোমাকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন তিনি। নাঈমের বাবা-মা ঢাকায় থাকায় বাড়িতে তারা দুজনই ছিলেন। সোমা পরকীয়ায় লিপ্ত ছিলেন বলে পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন নাঈম।

সোমার ভাই রাসেল বলেন, ছেলে বেকার কিছু করতেন না। আমার বোনকে খেতে-পরতে দিতেন না। এসব নিয়ে সংসারে ঝামেলা হতো। এ কারণে তাকে হত্যা করা হতে পারে।

বাগেরহাট মডেল থানার ওসি কেএম আজিজুল ইসলাম বলেন, লাশ উদ্ধার করে বাগেরহাট সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘাতক আব্দুল্লাহ আল নাঈম ওরফে শান্ত থানা হেফাজতে রয়েছে। তিনি হত্যার দায় ও কারণ পুলিশকে জানিয়েছেন। হত্যার সঙ্গে অন্য কোনো বিষয় জড়িত আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর