ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত কৃষক, দায়ী মধ্যস্বত্বভোগী

ঢাকা, শনিবার   ১৯ জুন ২০২১,   আষাঢ় ৬ ১৪২৮,   ০৭ জ্বিলকদ ১৪৪২

ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত কৃষক, দায়ী মধ্যস্বত্বভোগী

চাঁদপুর প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২০:১৯ ৮ মে ২০২১  

চাঁদপুর সদরের কৃষ্ণপুরে উৎপাদিত করলা

চাঁদপুর সদরের কৃষ্ণপুরে উৎপাদিত করলা

চাঁদপুর সদর উপজেলার অন্যতম কৃষি জোন শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম। এসব গ্রামে প্রতি বছরের জানুয়ারি-মে মৌসুমে আলু, করলা, ধুন্দল, বরবটি ইত্যাদি সবজির আবাদ হয়। সদরের সবজির চাহিদা মেটাতে এ ইউনিয়নের কৃষকরা দুই দশক ধরে বড় ভূমিকা রাখছেন। তবে মধ্যস্বত্বভোগীদের জন্য সবজির ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তারা।

সরেজমিনে শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর ও ঘোষেরহাটে দেখা গেছে, কৃষকরা সবজির ক্ষেত পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। বৃষ্টি না হওয়ায় অনেকেই দূর থেকে পানি এনে জমিতে সেচ দিচ্ছেন। তীব্র গরম ও সূর্যের তাপে বেশ কয়েকটি ক্ষেতের ধুন্দল ও করলা শুকিয়ে গেছে। অনেক সবজি পচে গেছে।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জেলা সদরের সবজি উৎপাদন হয় শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর, আলীমুড়া, তেঁতুয়া, সেনগাঁও, ঘোষেরহাট, মান্দারী ও টাওরখিল গ্রামে। এসব গ্রামের ৩৪০ হেক্টর জমিতে প্রায় আড়াই হাজার কৃষক ২০ বছর ধরে মৌসুমি সবজি আবাদ করছেন।

কৃষ্ণপুর গ্রামের কৃষক মিজানুর রহমান গাজী বলেন, এ বছর সবজির ফলন ভালো হয়েছে। শুরুর দিকে বাজারে ভাল দাম পেয়েছি। ফড়িয়াদের কারণে বর্তমানে প্রতি কেজি সবজিতে ১০-১৫ টাকা আয় কম হচ্ছে।

চাঁদপুর সদরের ঘোষেরহাটে উৎপাদিত ধুন্দল

তিনি আরো বলেন, চলতি বছরের মার্চে প্রতি কেজি করলা ২০-২৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। বর্তমানে দাম কমে দাঁড়িয়েছে ১০-১৫ টাকায়। ধুন্দল ২০ টাকা কমে ১২ টাকায়, বরবটি ৩০ টাকা থেকে নেমে এখন বিক্রি হচ্ছে ১০-১২ টাকায়। অথচ এসব সবজি শহরের বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৪০-৭০ টাকায়। এসব সবজি আমরা সরাসরি বাজারে বিক্রি করতে পারলে ভালো দাম পেতাম। এখন সেই সুবিধা নিচ্ছে মধ্যস্বত্বভোগী আড়তদার-পাইকাররা।

ঘোষেরহাট এলাকার কৃষক জসিম গাজী বলেন, কৃষি কর্মকর্তারা চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশের সবজি ক্ষেত পরিদর্শন ও কৃষকদের খোঁজ-খবর নেন কিন্তু আমাদের গ্রামে আসেন না। এ কারণে অনেক সময় আমাদের সবজি বিভিন্ন রোগ ও পোকার আক্রমণের শিকার হয়। এতে আমাদেরই সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়।

চাঁদপুর সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের এই সবজির ব্লকটি আমি দেখাশোনা করি। এখানকার কৃষকরা মূলত মৌসুমি সবজি উৎপাদন করেন। তারা প্রথমে আলু চাষ করেন পরে সেই জমিতেই সবজির বীজ বপন করেন। এতে উৎপাদন, পরিচর্যা ও শ্রমিক খরচ কমে যায়।

তিনি আরো বলেন, এ বছর কিছু জমিতে পোকার আক্রমণের কারণে অনেক সবজি নষ্ট হয়েছে। কৃষকদের ছত্রাকনাশক ব্যবহার করতে বলা হয়েছে। আশা করি, এতে ক্ষতি কিছুটা কমে আসবে। এছাড়া কৃষকরা সরাসরি ক্রেতাদের কাছে সবজি বিক্রি করতে পারলে ভালো দাম পাবেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/এআর